রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯, ০৩ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

২২ বারের চেষ্টায় ৫২ বছর বয়সে হোমিওপ্যাথি কলেজে ভর্তি

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ মে, ২০২২, ১২:০৬ পিএম

তার অধ্যবসায় সত্যিই অসাধারণ। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকার বাংলাদেশ সীমান্ত-সংলগ্ন প্রতাপপুর গ্রামের প্রদীপ হালদার ২২ বারের চেষ্টায় ডাক্তারিতে ভর্তি হয়েই ছেড়েছেন। এমবিবিএসে সুযোগ না পেলেও ভর্তি হয়েছেন হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজে।

এতদিন তার ডাক্তারি পড়া ও ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে যারা মজা-মশকরা করতেন তারাও এখন একবাক্যে কুর্নিশ না-করে পারছেন না। হার না-মানা জেদ, অটল সঙ্কল্প ও পরিশ্রমে অসাধ্য সাধন করে দিনমজুর প্রদীপ ৫২ বছরে ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হয়েছেন।

অতি দরিদ্র পরিবারের ছেলে প্রদীপ মাধ্যমিকের পরে পড়তে পারেননি। কাজে যেতে হয়েছিল। তারপর বিয়ে করেছেন। সন্তানও হয়েছে। তবে মনের গোপন কুঠুরিতে আরও পড়াশোনা করা এবং ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন লালন করে গেছেন নিরন্তর। বহু লড়াই করে ২০০০ সালে বিজ্ঞান শাখায় উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তারপর জয়েন্ট এন্ট্রান্সে বসার জন্য কিছু বই কিনে শুরু করেন পড়া।

ভোর থেকে দিন মজুরির কাজে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্নান করে কিছু খেয়ে পড়তে বসতেন। ছেলে-মেয়েরাও তার সঙ্গে পড়তে বসত। রাত বাড়লে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতেন প্রদীপ। পাড়ায়, আত্মীয়দের কাছে এমনকি নিজের বাড়িতেও তাকে এই ‘পাগলামি’ নিয়ে কথা শুনতে হতো।

প্রদীপের কথায়, রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে অনেকেই ‘এমবিবিএস ডাক্তার যাচ্ছে’ বলে হাসাহাসি করত। স্ত্রী বাসন্তী হালদারও মনে করতেন, এসব মাথাখারাপের লক্ষণ। বলতেন, ‘ছেলে-মেয়ের পেটে ভাত দেওয়ার বালাই নেই, উনি ডাক্তার হবেন!’

প্রদীপ কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে না-গিয়ে ২০২১ সালে নিট পরীক্ষায় বসেন। এবং সকলকে চমকে দিয়ে পাস করেন। তার র‌্যাঙ্ক হয় ৩,৪৬,২৩৪তম। এমবিবিএস পড়ার সুযোগ না পেলেও সুযোগ পান কলকাতা হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

কলেজের অধ্যক্ষ রজত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এত বয়সে কাউকে মেডিক্যাল পড়তে ভর্তি হতে দেখিনি। মানুষ চাইলে সবকিছু করতে পারে তার নজির উনি। ওর লড়াই আর অধ্যবসায় শেখার মতো।’

প্রদীপ তার ভাঙা দরমার বেড়ার ঘরে ডাক্তারি পাসের সার্টিফিকেট বাঁধিয়ে টাঙিয়ে রাখতে চান। একগাল হেসে বলেন, ‘সবাইকে এবার বলতে হবে, ওই যে প্রদীপ ডাক্তার যাচ্ছে! এমবিবিএস না হলেও ডাক্তার তো!’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps