শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইয়াসিন মালিকের সাজা ঘোষণার পর অধিকৃত কাশ্মীরে সহিংসতা বেড়েছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০২২, ২:৩৪ পিএম

কাশ্মীরি নেতা ইয়াসিন মালিকের শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দ্বিতীয় দিনে শ্রীনগরে বন্ধ মার্কেট


ভারতীয় বাহিনী গত ২৪ ঘন্টায় অধিকৃত কাশ্মীরে ছয়জন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তারা একজন মহিলা টিভি পারফর্মার এবং একজন পুলিশ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। ওই অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত নেতা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে এসব ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বলেছেন।

বুধবার নয়াদিল্লির একটি আদালত ইয়াসিন মালিককে ‘সন্ত্রাসী’ কার্যকলাপে অর্থায়ন এবং অন্যান্য বিভিন্ন কারণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। এই সাজাটি রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সতর্কতা জারি করেছিল যে, এটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতার প্রচার করবে। রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দ্বিতীয় দিনের জন্য ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দোকান ও ব্যবসা বন্ধ ছিল, যখন পুলিশ ইয়াসিন মালিকের বাসভবনের বাইরে পাথর নিক্ষেপ এবং স্লোগান দেওয়ার জন্য ১০ জনকে আটক করেছে।

‘গতকাল থেকে (অধিকৃত) কাশ্মীরে দুটি পৃথক বন্দুক যুদ্ধে জয়শ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়বার তিনজন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে,’ কাশ্মীরের পুলিশ প্রধান বিজয় কুমার দুটি সংগঠনকে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমরা একটি অপারেশনে একজন পুলিশকেও হারিয়েছি।’ কুমার বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় কাশ্মীরি যোদ্ধারা ৩৫ বছর বয়সী টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া পারফর্মার আমরিন ভাটকে গুলি করে হত্যা করেছে। তারা এই বছর অধিকৃত কাশ্মীরে কমপক্ষে ১২ জনকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একজন কাশ্মীরি হিন্দু সরকারি কর্মচারী ছিলেন, যিনি বিতর্কিত অঞ্চলের ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করেছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অধিকৃত কাশ্মীরে ৩,৪০০ জনেরও বেশি হিন্দুকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ১৯৯০-এর দশকে তাদের পালাতে বাধ্য করার পরে এই অঞ্চলে তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করচেন৷ কিন্তু হিন্দুরা নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। ‘আমরা এখানে নিরাপদ নই,’ অমিত নামে একজন প্রতিবাদী হিন্দু সরকারি কর্মচারী বলেছিলেন, ‘আমাদের সহকর্মীকে তার অফিসে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের দাবি হল কাশ্মীরের বাইরে স্থানান্তর করা, কারণ প্রতিবারই লক্ষ্যবস্তু হত্যার ঘটনা ঘটছে।’

অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসনের মতে, ভারতীয় বাহিনী ইতিমধ্যেই তাদের অভিযান জোরদার করেছে, এই বছর ৭৮ জন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। গত বছরের পুরো সময়ে, ১৯৩ জন নিহত হয়েছিল, এবং ২০২০ সালে ২৩২ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এদিকে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুনির আকরাম অধিকৃত কাশ্মীরে নয়াদিল্লির অব্যাহত নিপীড়নের নিন্দা করার পরে, কাশ্মীরি নেতা ইয়াসিন মালিককে ভারতীয় আদালতের দ্বারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরে, বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান ও ভারতের প্রতিনিধিরা নতুন করে মৌখিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।

কাসিম আজিজ বাট, যিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন যে, এটি একটি বিতর্কিত অঞ্চল, সমস্ত জাতিসংঘের মানচিত্র এবং সরকারী নথি অনুসারে। পাকিস্তানি প্রতিনিধি ভারতকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোক্তা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন, বিশেষ করে পাকিস্তান সহ তার প্রতিটি প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ভারতে সমস্ত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-নির্দেশিত সন্ত্রাসবাদ জারি করা হচ্ছে, তিনি বলেন। সূত্র: ডন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
jack ali ২৭ মে, ২০২২, ৩:১১ পিএম says : 0
আল্লাহ কাশ্মীরি মুসলমানদেরকে বর্বর হিন্দু দের হাত থেকে রক্ষা করো আমিন
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps