বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯, ১১ মুহাররম ১৪৪৪

সাহিত্য

গীতাঞ্জলি শ্রীর বুকার জয়

বাসন্তি কুমার | প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

হিন্দি ভাষায় লেখা ‘রেত সমাধি’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ ‘টুম্ব অব স্যান্ড’-এর জন্য আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় লেখিকা গীতাঞ্জলি শ্রী। উপন্যাসটি হিন্দি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনুবাদক ডেইজি রকওয়েল। এই প্রথম হিন্দি সাহিত্যের কোনো উপন্যাস আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেলো। এর আগে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ তাঁর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে ভারতীয় সাহিত্যে প্রথম নভেল পুরস্কার জয় করেছিলেন। বুকার পুরস্কার পাবার আগে তিনি কয়েকটি ভারতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিক্রিয়া বলেছেন, ‘আমি কখনও বুকার পুরস্কারের স্বপ্ন দেখিনি। আমি কখনও ভাবিনি যে আমি পারব। কী বিশাল স্বীকৃতি, আমি বিস্মিত, আনন্দিত, সম্মানিত এবং বিনীত।’ পাশাপাশি তিনি অনুবাদক ডেইজি রকওয়েলকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

৬৪ বছর বয়সি ভারতীয় এই লেখিকা গীতাঞ্জলি শ্রীর জন্ম ভারতের উত্তর প্রদেশে। এ যাবৎ তিনি তিনটি উপন্যাস লিখেছেন । লিখেছেন বেশ কয়েকটি গল্পসমগ্র। তিনি হিন্দি, ইংরেজিসহ বেশ কয়েকটি ভাষা যথার্থভাবে রপ্ত করেছেন।
নতুন দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে গীতাঞ্জলি শ্রী জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধুনিক ভারতীয় ইতিহাসের ওপরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। ডক্টরেট করেছেন বরোদার এমএস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
হিন্দিতে লেখা ‘রেত সমাধি’ ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ ‘টুম্ব অব স্যান্ড’ যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হয়। এটি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত গীতাঞ্জলি শ্রীর প্রথম বই। উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট ১৯৪৭ সালের দেশভাগ। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ৮০ বছর বয়সি এক নারী। আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের মূল্যমান ৫০ হাজার পাউন্ড। পুরস্কারের এই অর্থ লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী ও অনুবাদক ডেইজি রকওয়েলের মধ্যে ভাগাভাগি হবে বলে গণমাধ্যমে জেনেছি। হিন্দি সাহিত্যের কোনো বই প্রথম আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পাওয়ায় খুব ভালো লাগছে বলে জানান গীতাঞ্জলি শ্রী। সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলী বলেন, তার উপন্যাসে যে মানবিক গল্প বলা হয়েছে, সংস্কৃতিভেদে তার একটি সর্বজনীন আবেদন রয়েছে। তিনি বলেন, আমার এবং আমার এই বইয়ের অন্তরে বইছে হিন্দি এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ভাষার সমৃদ্ধ ও বিকাশমান সাহিত্যের ঐতিহ্য। এসব ভাষার অসাধারণ কিছু লেখকের বিষয়ে জানতে পারলে বিশ্ব সাহিত্য আরো সমৃদ্ধ হবে। উপন্যাসের অনুবাদক রকওয়েল বলেন, তিনি এ পর্যন্ত যা কিছু অনুবাদ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম কঠিন কাজ ছিল ‘টুম্ব অব স্যান্ড’, কারণ গীতাঞ্জলীর লেখার ‘নিরীক্ষাধর্মী বৈশিষ্ট্য’ এবং ‘ভাষা প্রকাশের নিজস্ব শৈলী’ অনুবাদে আনা ছিল দুরূহ। তবে সেই অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছে আনন্দ। আন্তর্জাতিক বুকারের বিচারক প্যানেলের সভাপতি ফ্রাংক ওয়েইন বলেন, বইটির কাহিনির শক্তি, শোক উসকে দেওয়ার ক্ষমতা আর সহজ আনন্দের উচ্ছ্বাস বিমোহিত করেছে তাদের। তিনি বলেন, ‘ভারত এবং দেশভাগ নিয়ে এটি দ্যুতিময় এক উপন্যাস। এর মনোমুগ্ধকর বর্ণনা শৈলী আর আবেগের ঢেউ তরুণ ও বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ, পরিবার ও একটি দেশকে সময় পরিভ্রমণ করিয়ে আনবে।’
১৯৮৭ সালে গীতাঞ্জলি শ্রীর প্রথম গল্প ‘বেলপত্র’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালে ‘অনুগুঞ্জ’ প্রকাশিত হয়। তাঁর গল্প সঙ্কলনটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘মাই’। উপন্যাসটি ইংরেজি, উর্দু, সার্বিয়ান, কোরিয়ান ও জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘হামারা শহর উস বারাস’। তাঁর বাবা সরকারি আমলা হওয়ায় ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়তে হয়েছে, বিভিন্ন এলাকার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি দেখার সুযোগ হয়েছে, জানা হয়েছে ঢ়ের। তিনি ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশোনা করেছেন এবং একটি মুক্তমনা পরিবারে বড় হয়ে ওঠেছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন