বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

কোরআনের প্রতি অবিচারের একটি দিক

মাওলানা ফজলুদ্দীন মিকদাদ | প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কোরআন; যা সর্বশেষ রাসূলের ওপর অবতীর্ণ। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের জন্য এই কোরআন হেদায়েতের মাধ্যম ও জীবনবিধান। চৌদ্দশ’ বছর ধরে দিকে দিকে ইসলাম যত ছড়িয়েছে, এর সঙ্গে কোরআনও সর্বত্র পৌঁছে গেছে। এই সহস্রাব্দ কাল ধরে কত লক্ষ কোটি মানুষ কোরআন তিলাওয়াত ও হিফয করেছে, এর কোনো হিসেব নেই। অমুসলিমরাও একথা স্বীকার করেছে, কোরআন সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ।

এ কোরআনের কত লক্ষ কোটি তিলাওয়াতকারী। কিন্তু তারপরও মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এক মজলুম গ্রন্থ। পৃথিবীর আনাচে-কানাচে প্রতিদিন এত এত কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, প্রতিদিন কত শত মজলিস কোরআন কারীম তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করা হয়, কোরআনকে কেন্দ্র করেই কত মাহফিল হয়, সুসজ্জিত গিলাফে আবৃত করে কী পরম যত্নে কোরআন সংরক্ষণ করা হয়, তবুও এই কোরআন এক মজলুম গ্রন্থ।

বাহ্যিকভাবে কোরআনকে সবাই অনেক সম্মান ও মর্যাদা দিচ্ছে। কিন্তু কোরআন মোতাবেক আমল করার মানুষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিজ আগ্রহে দিন-রাত কোরআন তিলাওয়াতকারী মুসলমান কোরআনের বিধিবিধানের ওপর আমল করতে আগ্রহী হচ্ছে না। কোরআনের আয়াত দিয়ে দলীল দানকারী মুসলমান কোরআনের আয়াতের ওপর আমল করছে না। মৃতদের প্রতি ঈসালে সওয়াবের জন্য খুব কোরআন তিলাওয়াত করা হচ্ছে, অথচ জীবদ্দশায় তাদের কোরআনের শিক্ষার ওপর আমল করার তাওফীক হচ্ছে না।

কতজন নিজেদের ঘরে কিংবা প্রতিষ্ঠানে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত লিখে টাঙিয়ে শোভা বাড়াচ্ছে, অথচ ওই আয়াতের বার্তার দিকে দৃষ্টি ফেরাচ্ছে না। এমন কত মানুষ কোরআনের আয়াত আওড়াচ্ছে, যার ওপর স্বয়ং কোরআনই অভিশাপ দেয়। কারণ তার আয় রোজগার হারাম, সে অন্যের হক নষ্ট করছে, সর্বক্ষেত্রে নিজ কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করছে, কোরআনের বিধানকে পাল্টে দিচ্ছে, মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ তো কোরআনকে বিকৃত করে নিজেদের শয়তানীর পক্ষে দলীলও দিচ্ছে। এভাবে কোরআনের আয়াত আজ অনেক উচ্চারিত হচ্ছে; কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে কোরআন কারীম পুরোপুরি মজলুম রয়ে যাচ্ছে।

কোরআন মজলুম হওয়ার একটি বড় দিক হলো, কোরআনের তিলাওয়াত অনেক হচ্ছে, কিন্তু কোরআনের হালাল-হারামসহ অন্যান্য বিধিবিধানের ওপর আমল করার মানুষ কমে যাচ্ছে। খুব কম মুসলমানই নিজেদের জীবনে কোরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করছে। অথচ কোরআন নাযিল করা হয়েছে, যেন কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ কোরআন থেকে হেদায়েত গ্রহণ করে এবং এর অনুসরণে জীবন যাপন করে।

কোরআন কারীম তিলাওয়াত ও একে সম্মান করা অবশ্যই অনেক বড় নেকির কাজ, কিন্তু কোরআনের হেদায়েত বাস্তবায়ন এবং এর অনুসরণে জীবন যাপন করাই কোরআন নাযিলের আসল মাকসাদ। আল্লাহ তাআলা কোরআন কারীমে বলেছেন : এটা এক বরকতপূর্ণ কিতাব, যা আমি নাযিল করছি। সুতরাং এর অনুসরণ করো ও তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করা হয়। (সূরা আনআম : ১৫৫)।

আরও ইরশাদ করেছেন : (হে মানুষ!) তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে, তার অনুসরণ করো এবং নিজেদের প্রতিপালককে ছেড়ে অন্য (মনগড়া) অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। (সূরা আরাফ : ৩)।

এসকল আয়াতে আল্লাহ তাআলা আদেশবাচক শব্দে কোরআনকে অনুসরণ করার কথা বলেছেন। এছাড়া আরো অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, কোরআন মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা ও পথনির্দেশ, যারা এর অনুসরণে জীবন যাপন করবে তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত ও প্রকৃত সফলকাম। কোরআন কারীম এক্ষেত্রে আজ বড়ই মজলুম। মাহফিলে মজলিসে মুসলমানদের মুখে মুখে কোরআন খুব উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু মুসলিম পরিবার ও সমাজে কোরআন জীবন্ত হয়ে উঠছে না। বড়ই আফসোস! কোরআনের প্রতি জুলুমের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো, আজকাল এমন ব্যক্তিও কোরআন নিয়ে গবেষণা করছে, যে সহীহ-শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতে জানে না। কোরআনের বাংলা-ইংরেজি অনুবাদ বা কিয়দাংশ পড়েই বিভিন্ন আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা করছে এবং তা নিয়ে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে কোরআনকে বিকৃত করছে। কোরআনের ব্যাখ্যা বা কোরআন নিয়ে গবেষণা করার জন্য কী বিপুল পাণ্ডিত্যের দরকার, সেটা তাদের কল্পনায়ও নেই।

মোটকথা, কোরআনের হেদায়াত ও বিধিবিধানের ওপর আমল না করা কোরআন কারীমের প্রতি একটি বড় জুলুম। আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনে কোরআনের শিক্ষাকে জীবন্ত করার তাওফীক দান করুন। কোরআনের অনুসরণে জীবন গড়ার তাওফীক দান করুন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
MD Akkas ২৭ জুন, ২০২২, ৮:৫৩ এএম says : 0
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরানুল কারীম অর্থসহ বুঝে পড়ার ও মানার তৌফিক দান করুন।আমীন
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন