বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪

সারা বাংলার খবর

ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বিলীন হচ্ছে জনপদ

বিক্ষুব্ধ জনতার সহযোগীতায় কাটার ও বোট জব্দ করেছে পুলিশ

ছাগলনাইয়া (ফেনী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০২২, ৭:৪৭ পিএম

ফেনীর নদীর ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের তিলকের চর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার একর জমি, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বিভিন্ন অংশ। অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন হলেও বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। হুমকির মুখে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প। যেকোন মুহুর্তে ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৫ পরিবারের ৩ শতাধিক মানুষ।

আজ সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে শুভপুর ইউনিয়নের জয়চাঁদপুর গ্রামের মেম্বার আনোয়ার হোসেন পলাশের নেতৃত্বে সোনাপুর ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিক্ষুব্ধ জনতা একটি বালু উত্তোলনের কাটার ও একটি বোট আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

এসময় ক্ষতিগ্রস্থরা ফেনী নদীর পাড়ে দুই ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। জোসনা বেগম (৬০), অহিদের নবী (৬২), ছায়েরা খাতুন (৫০), জসিম উদ্দিন (৪২) ও নুর উদ্দিন (৪৬) সহ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষার জন্য ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের অনুরোধে ফেনী জেলা প্রশাসক সোনাপুর তিলকের চরটি ইজারা দেননি। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কামরুল, রাসেল ও ছাগলনাইয়ার নিজকুঞ্জরা এলাকার মোঃ হারুনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল ইজারা করা বালু মহলের সরকারি নির্দিষ্ট সীমারেখার বাইরে গিয়ে নদীর চর এমনকি সমতল থেকেও অবৈধভাবে বালু তুলছে। এ কারনে নদী ভাঙ্গন এখন ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে। বিলীন হচ্ছে একেরপর এক জমি। এভাবে বালু তোলায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পসহ এ জনপদ।

ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, সাধারণ জনগন একটি বালু উত্তোলনের কাটার ও একটি বোট আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। তদন্তপূর্বক ওই বোট এবং কাটারের বিষয়ে পরবর্তীতে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌমিতা দাস জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারনে অনেক জায়গায় বাড়ীঘর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল জানান, স্থানীয় মেম্বার আনোয়ার হোসেনা পলাশসহ এলাকাবাসী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে আমার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। সোমবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সহযোগীতায় থানা প্রশাসন একটি কাটার ও একটি বোট জব্দ করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন