বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

সারা বাংলার খবর

বন্ধুকে খুন করে হাতানো মোবাইল বিক্রির টাকায় নারী নিয়ে ফুর্তি

দুর্ধর্ষ কিশোর খুনির কীর্তি

বগুড়া ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০২২, ৭:০৮ পিএম

কাঙ্ক্ষিত নারীর সাথে অবৈধ মিলনের আকাঙ্ক্ষা পুরনে নিজের সহপাঠী কিশোর বন্ধুকে খুন করে মোবাইল হাতিয়ে নিয়ে সেটা বিক্রির টাকায় বিকৃত যৌনাকাংখা পুরনের কাহিনি বর্ণনা করলো দুর্ধর্ষ কিশোর খুনি রফিক (ছদ্মনাম)।

মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে রফিকের অপকর্মের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তিনি জানান, ১৮ জুন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ইসরাইল শেখের ছেলে দাড়িগাছা হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র নওফেল তার এন্ড্রয়েড ফোন সহ নিখোঁজ হয়।

দুইদিন পর ২০ জুন ওই গ্রামের একটি জঙ্গলাকীর্ণ বাগানে নওফেলের গলিত লাশ উদ্ধার হয়। সুত্র ধরে পুলিশের তদন্ত শুরু হল ভয়ে পালিয়ে যায় নওফেলের ক্লাসমেট ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রফিক।
পুলিশ এরই মধ্যে জাকিয়া আকতার বৃষ্টি (২০ ) নামের এক নারীকে আটক করে।
একই সাথে রফিককেও ঢাকার টঙ্গী থেকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের জেরার মুখে সব শিকার করে রফিক। সে জানায়, নওফেল ছিলো তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনে দুজনকে মামা বলে ডাকতো। মাঝে মাঝে দুজনে গোপন স্থানে মিলিত হয়ে সিগারেট ফুঁকতো।

গত ১৮ জুন ছিল নওফেলের জন্মদিন। ওইদিনই নওফেলকে খুন করার পরিকল্পনা নেয় রফিক। বন্ধুকে বলে, চল জঙ্গলে যেয়ে সিগারেট ফুঁকে জন্মদিন সেলিব্রেট করি। সরল বিশ্বাসে নওফেল রাজি হয়ে জঙ্গলে গেলে সেখানেই কৌশলে নওফেলকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে
হত্যা করে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে পালায় রফিক।

এরপর শেরপুর থেকে জাকিয়া আকতার বৃষ্টিকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে দুজন ভাই বোন সেজে বগুড়ায় একটি দোকানে নিজেদের অভাবের কথা বলে ফোনটা ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

এরপরে বগুড়ার হোটেলপট্টি এলাকায় আবাসিক হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিয়ে রফিক ও তার আরেক বন্ধু তাদের দৈহিক চাহিদা মেটায়। এরপর বৃষ্টিকে সে দেড় হাজার টাকা দিয়ে চলে যায়।

পুরো ঘটনা জানার পর পুলিশ বৃষ্টিকে জেল হাজতে এবং ১৪৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
রফিক নিয়মানুযায়ী কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশীদ, মোতাহার হোসেন, হেলেনা আকতার এবং শাজাহানপুর থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন