বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪

জাতীয় সংবাদ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে সেতু-উড়াল সড়ক

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী রেলক্রসিং নয়, সব শহরে হবে ওভারপাস ২১১৬ কোটি টাকায় ১০ প্রকল্প অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২২, ১২:০৪ এএম

সিলেট-সুনামগঞ্জের ভয়াবহ বন্যার সময় পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে অনেক সড়ক কেটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু সড়ক বন্যায় ভেঙে গেছে। বন্যায় ভেঙে যাওয়া ও কেটে ফেলা সড়কে নতুন করে উড়াল সড়ক, কালভার্ট অথবা ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। এসব স্থানে নতুন করে পুনরায় সড়ক নির্মাণ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব শহরে রেলের সিগনালের জায়গায় ওভারপাস করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় ২ হাজার ১১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ও বৈদেশিক অর্থায়ন ৩৪১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। গতকাল শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত একনেক সভা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের অনেক সড়ক কেটে ফেলা হয়েছে পানি বের করার জন্য। এছাড়া কিছু সড়ক ভেঙে গেছে। তাই এসব সড়কের জায়গায় নতুন করে সড়ক নির্মাণ করা যাবে না। এসব জায়গায় সেতু, উড়াল সড়ক অথবা কালভার্ট নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। সড়ক সেতু ভেঙে গেছে। হাওর বা প্লাবন এলাকায় সড়ক নয় ব্রিজ অথবা কালভার্ট করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পানি চলাচলে যেন বাধা সৃষ্টি না হয়। সিলেট এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য নতুন করে প্রকল্প নেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক এলাকায় তাই পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ প্রকল্প নেয়া হবে। একনেক সভায় নিয়ে আসা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সব শহরে রেলক্রসিংয়ের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে মসলার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বাজার মূল্যও অন্য ফসলের তুলনায় বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে মসলার বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। দেশে প্রায় ৫০ ধরনের মসলার ব্যবহার হয়, কিন্তু মাত্র ৭ ধরনের মসলা জাতীয় ফসল দেশে উৎপাদিত হয়। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমাতে স্থায়ীভাবে মসলার উৎপাদন বাড়ানোর আবশ্যকতা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র এখন পর্যন্ত ২২টি মসলা জাতীয় ফসলের ৪৭টি জাত উদ্ভাবন করেছে। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৃত্তিকা ও পানি ব্যবস্থাপনা, পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, পোস্ট হারভেস্ট প্রযুক্তিসহ ৬৬টি উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। এ সব জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ সম্ভব হলে দেশে মসলার উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমানো যাবে। দেশের ১১০টি উপজেলা ও ২৫টি হর্টিকালচার সেন্টারে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদে দেশের ১১০টি উপজেলায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

একনেকে অনুমোদিত বাকি প্রকল্পগুলো হচ্ছে- যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ; কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ (আর-৭৪৫) আঞ্চলিক মহাসড়কের ৮১তম কি.মি. রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ; চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়ীয়া-পাথরঘাটা মহাসড়কের (জেড-৮৭০১) পিরোজপুর অংশের জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত বেইলি সেতুর স্থলে পিসি গার্ডার সেতু ও আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ; কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ (১.৬০ কি.মি. থেকে ৩২ কি.মি. পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ; জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত); বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত); ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস (মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস) এর ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সম্প্রসারণ; কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন