বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

জাতীয় সংবাদ

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৪৮১২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ জুলাই, ২০২২, ১২:১১ এএম

দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৫১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯০ লাখ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিশ্ববাংকের সঙ্গে এই ঋণের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানডান চেন গতকাল বৃহস্পতিবার চুক্তি সাক্ষর করেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক এ ঋণদাতা সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড ধরে ৩৫ বছরের জন্য এই ঋণ দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঋণের এই অর্থ ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২৫টি গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ব্যয় হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের সিস্টেম লস ২ শতাংশের বেশি কমবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৭৯০ গিগাওয়াট বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জলবায়ু সহিষ্ণু করে তোলা হবে। বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানডান চেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার গত এক দশকে সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং বর্তমানে সকল জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা এই সময়ে পাঁচ গুণ বেড়ে ২৫ গিগাওয়াট হয়েছে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রয়োজন মেটাতে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাধ্যমে ১০০ জনের বেশি গ্রাহককে সোলার মিটার সংযোগ দেয়া যাবে। গ্রিডে নতুন ১৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে। ৩১ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইনে ২ লাখ উন্নত মিটার বসানো যাবে।
ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম শক্তিশালীকরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে বার্ষিক কার্বন নির্গমন ৪১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে এই প্রকল্পে।
ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, এই কর্মসূচি সরকারের সমন্বিত শক্তি ও বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জ্যস্যপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
এই চুক্তির আওতায় ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের জন্য ক্লিন টেকনোলজি ফান্ড থেকে দেড় কোটি ডলার অনুদানও দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন