সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৬ মুহাররম ১৪৪৪

সারা বাংলার খবর

বরিশালে ২২ মন ওজনের ‘তুফান’এর ১০ লাখ টাকা দাম হাঁকা হলেও ক্রেতার অভাবে ঢাকায় পাঠান হচ্ছে

দক্ষিণাঞ্চলে স্থানীয় গবাদি পশুর মাধ্যমে পৌনে ৫ লাখ কোরবানির পরেও লক্ষাধিক উদ্বৃত্ত থাকবে

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০২২, ১২:৫৭ পিএম

বরিশালে ২২ মন ওজনের শখের ষাঁড় ‘তুফান’এর ১০ লাখ টাকা দাম হাঁকা হলেও ক্রেতা মিলছে না। প্রতিদিন বিপুল ‘দশনার্থী’ তুফন’কে দেখতে আসলেও ক্রেতার অভাবে এখন ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাকেরগঞ্জের ইটভাটা মালিক ইমদাদুল হক রায়হান। দুবছর আগে যশোর থেকে ফ্রিজিয়ান ও দেশী ক্রস জাতের তুফানকে কিনে বরিশালে এনে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে হৃষ্টপুষ্ট করে তোলেন কর্মী সোহাগ মিয়া। রায়হানের আশা ছিল এবারের কোরবানির ঈদে তুফানকে বরিশালের হাটে দশ লাখ টাকায় বিক্রী করতে পারবেন। কিন্তু ক্রেতার অভাবে কাঙ্খিত দাম না পেয়ে ঢাকার গাবতলী অথবা সায়েদাবাদের হাটে পাঠাচ্ছেন তিনি।
সাদা-কালো রংয়ের ফ্রিজিয়ান জাতের সাথে দেশী শংকরায়ন করা ষাড় ‘তুফান’র উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট। বেড় সাড়ে ৮ ফুট এবং লম্বা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি।
তুফানের পরিচর্জাকারী সাহাগ জানান, ধান, গম ও ভুট্টা ভাঙ্গা ছাড়াও নেপিয়ার কাঁচা ঘাস রয়েছে ষাড়টির খাদ্য তালিকায়। দিনে তিন বার গোসল সহ নানাভাবে পরিচর্যায় তুফানের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ১২ শ টাকা ব্যায় হলেও ক্রেতা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এমনকি সাজগোজ করে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে তুফানকে নিয়ে বরিশাল মহানগরীতে রোড শো পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা মেলেনি।
এদিকে গোসত, ডিম ও দুধে উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলে এবারো স্থানীয় গবাদী পশুর মাধ্যমেই কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে লক্ষাধিক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গত বছরও ঈদ উল আজহায় প্রায় ৩০ হাজার গবাদিপশু উদ্বৃত্ত ছিল এ অঞ্চলে। সরকারী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার ৪২টি উপজেলায় এবার প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরিতে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার বিভিন্ন ধরনের গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে খামার পর্যায়ে। এর বাইরে গৃহস্থ পর্যায়ে কোরবানির জন্য আরো লক্ষাধীক গরু,মহিশ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণি সম্পদ দপ্তর।
ফলে এবারো দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকার মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও ট্রলারে করে চালান ছুটছে গত দিন দশেক ধরে। এছাড়াও বছর যুড়েই দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক বাছুর কুষ্টিয়া, মেহরপুর সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমুুহে যায় মোটাতাজা করতে। সেসব গরুর একটি অংশ আবার দক্ষিণাঞ্চলের কোরবানির পশুর হাটেইফিরছে বিক্রীর জন্য।
তবে এবার এখন পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে কোরবানির পশুর দাম গত বছরের চেয়ে ১০Ñ২৫ ভাগ পর্যন্ত বেশী। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের ২৬২টি কোরবানির পাশুর হাটে গরু-খাশি উঠতে শুরু করলেও এখনো ক্রেতারা পুরোপুরি বাজার মুখি নয়। বিক্রতারা আশা করছেন বুধবার থেকে শণিবার পর্যন্তই কোরবানী পশু বেচাকেনা হবে। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরও বরিশাল বিভাগের পৌনে ৩শ পশুর হাটে শণিবার রাত পর্যন্ত কোরবানির পশু বিক্রী জমজমাট থাকবে বলে জানিয়ে ১৩০টির মত মেডিকেল টিম হাটগুলোতে নিয়োজিত থাকছে বলে জানিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর দক্ষিণাঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় সাড়ে ৭শরও বেশী ‘পশু বেচা কেনা সহ জবাই করার স্বাস্থ্য সমম্মত উপায়’ নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছে। পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার মাংশ প্রক্রিয়াজাতকারীদের প্রশিক্ষনও প্রদান করা হয়েছে। এবারো অন লাইনে কোরবানির পশু বেচা-কেনার সুযোগ থাকলেও প্রায় সব কোরবানি দাতাই হাটে ও মাঠ থেকে কোরবানির পশু কিনতেই আগ্রহী।
প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলে খামার ও গৃহস্থ পর্যায়ে প্রায় পৌনে ৩ লাখ শংকর জাতের গাভী সহ ৩২ লাখ গবাদি পশু রয়েছে। এর বাইরে বিপুল সংখ্যক ছাগল, ভেড়া, মহিষ সহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণি রয়েছে খামার ও গৃহস্থ পর্যায়ে।
এদিকে বিগত দুটি বছর ঈদ উল আজহার পর পরই দক্ষিণাঞ্চলেও করোনা সংক্রমন বিস্তৃতি লাভ করার অভিজ্ঞতার আলোকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মাস্ক পরিধান সহ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য বিধি অনুসরনের তাগিদ দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন