মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯, ১০ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

সারা বাংলার খবর

একজন এইডস সনাক্ত - চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে যৌনকর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ!

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০২২, ১:৫৫ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ‘এইচআইভি এইডস’ রোগী সনাক্ত! বিভিন্ন প্রকার যৌনরোগসহ ‘এইচআইভি এইডস’ সংক্রমণসহ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে যৌনকর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ! ও শিশুরা।
জানা যায়, দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লী হচ্ছে রাজবাড়ীর জেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীটি প্রথমে (সাবেক মহকুমার বর্তমান গোয়ালন্দ উপজেলায় ছিলো) সেখান থেকে আশির দশকে অল্প ক’জন যৌনকর্মী দৌলতদিয়াঘাটের পোড়াভিটা নাম স্থানে এসে বসবাস শুরু করে। সেই অল্প ক’জন যৌনকর্মী থেকে বর্তমানে প্রায় ১৫’শর অধিক যৌনকর্মীর বসবাস রয়েছে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে। বর্তমানে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর যৌনকর্মী ও নবজাতক শিশু,বিভিন্ন জেলা থেকে খদ্দেরাসহ রয়েছে বিভিন্নি প্রকার যৌনরোগ যেমন সিফিলিস, গনেরিয়া, হার্পিসসহ মরণঘতি এইচআইভি এইডস সংক্রমণসহ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
সরজমিন দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে গিয়ে যৌনকর্মীদের সাথে কথা বললে রুপা, হ্যাপি, মনো, পারুল, আছমা, শিল্পী, রুপা, ডলি, পলি, শিরিন, বেবী, রমিছা, পামিয়া, বিথীসহ(ছদ্ম নাম)যৌকর্মীরা সংবাদকে বলেন যে,আমরা বর্তমানে চিকিৎসা,ওষধ,কনডম নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। এবং সিফিলিস, গনেরিয়া, হার্পিসসহ মরণঘতি এইচআইভি এইডস সংক্রমণসহ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছি আমরা বলেন। কারন জানতে চাইলে তারা বলেন, আগে আমাদের এনজিও পায়াক্ট বাংলাদেশ কনডম,ওষধ, চিকিৎসাসহ সব ফ্রী দিতো ও এইচ আইভি এইডস পরিক্ষা করতো এখন তাদেরে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে তারা আর আসেনা এখন আমরা আর এসব কিছু পাইনা বলেন তাই খুব সমস্যায় আছি।
এব্যাপারে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করেন সংগঠন অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নেত্রীবৃন্দ সংবাদকে বলেন, আমাদের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরা সিফিলিস, গনেরিয়া, হার্পিসসহ মরণঘতি এইচআইভি এইডস সংক্রমণসহ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
এব্যাপারে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করেছেন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পায়াক্ট বাংলাদেশ এর দৌলতদিয়া অফিসের ডিআইসি ম্যানেজার মো. মজিবুর রাহমান জুয়েল,দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়ায় আমাদের তিনটি প্রোগ্রাম চলছিলো যেমন যৌনপল্লীর ১৬ জন শিশু নিয়ে একটি সেফ হোম, কুশাহাটা দূর্গম চরে একটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রোগ্রাম ও দৌলতদিয়া যৌনকর্মীদের নিয়ে এসটিআই (যৌনরোগ) এইচআইভি প্রতিরোধ প্রকল্প নিয়ে কাজ ছিলো। এর মধ্যে যৌনকর্মীদের নিয়ে এসটিআই এইচআইভি প্রতিরোধ প্রকল্পটি গত ২০২০ এর জুন থেকে শুরু হয়ে ছিলো গত মে ২২ বন্ধ হয়ে গেছে। আপাতত যৌনকর্মীদের নিয়ে আমাদের কোন কাজ নেই, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যৌনপল্লীর যৌকর্মীরা বর্তমানে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। কারণ আমরা মেয়েদের ফ্রী কনডম বিতরণ,কনডম প্রদর্শন,যৌনরোগের চিকিৎসা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা,ঔষধ বিতরণ,এইচআইভি পরীক্ষাসহ মেটি ২৩টি সেবা প্রদান করেছি ফ্রী তে। তিনি আরো বলেন যে, আমরা পায়াক্ট বাংলাদেশ যৌনকর্মীদের প্রতিমাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কনডম ফ্রী বিতরণ করা হতো সেখানে এখন আর কনডম বিতরণ হয় না। এসটিআই এইচআইভি প্রতিরোধ প্রকল্প দুই জন মেডিকেল এ্যাসিষ্ট্যান্ড কম’কাউন্সেলর দিয়ে এসটিআই (যৌনরোগ) সিফিলিস, গনেরিয়া, হার্পিসসহ এইচআইভি এইডস পরিক্ষাসহ ফ্রী চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। আমাদের কাজ চলা কালে যৌনকর্মীদের ৪ হাজার ১শত ৫১ জনকে শুধু এসটিআই চিকিৎসা দিয়েছি। এছাড়া ১৫শত যৌনকর্মীকে এইচআইভি এইডস পরীক্ষা করা হয়েছে এর মধ্যে এক জন যৌনকর্মীর এইডস শনাক্ত হয়েছে তাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে আমরা ঔষধ এনে নিয়মিত খাওয়ানো হয়েছে। বর্তমানে সে কোন অবস্থায় আছে তা জানি না। সে যদি নিয়মিত কনডম ব্যাবহার না করে তাহলে আরো অনেকেই আক্রান্ত হবে বলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এই যৌনপল্লীতে লোকজন আসে সেই হেতু শুধু যৌনপল্লী রোগ গুলো শুধু যৌনপল্লীর ভিতরেই সিমাবদ্ধ থাকবে না তা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে তাই এই প্রোগ্রামটি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন বলেন।
এব্যাপারে দৌলতদিয়া গণস্বস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৌরভ কুমার বিশ^াস সংবাদকে বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এইডস রোগী সনাক্ত হয়েছে! এছাড়াও যৌনকর্মীরাসহ হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রকার যৌনরোগ সিফিলিস, গনেরিয়া, হার্পিসসহ এইচআইভি এইডস সংক্রমণের চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যেমন সিফিলিস এই রোগের সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ, রক্ত পরিসঞ্চালন, চম্বন, চামড়ারআঘাতপ্রাপ্তি, এবং গর্ভাবস্থায় বা জম্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রণে সংক্রমিত হতে পারে। গনোরিয়া হচ্ছে একটি যৌনবাহিত রোগ (নিশেরিয়া গনোরি) নামক জীবাণু এই রোগের জন্য দায়ী, পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত প্র¯্রাবের সময় জ¦ালাপোড়া (ডিজইউরিয়া) ও মূত্রনালী দিয়ে পূঁজ বের হয়। স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোন লক্ষণথাকেনা আবার কারো ক্ষেত্রে যোনিপথে পুঁজ বের হয় এবং তলপেট ব্যাথা হতে পারে। যদি সময়মত এই রোগের চিকিৎসা না করলে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই এই রোগ আশপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। এবং পুরুষের এপিডিডাইমিস ও মহিলার তলপেটে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এবং গনোরিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি এটি শরীরের অস্থিসন্ধিসমূহ ও হার্টের কপাটিকাকেও আক্রান্ত করতে পারে। হার্পিস সিমপ্লেক্য্র ভাইরাসের দ্বারা সৃষ্ট একটি ভাইরাসঘটিত রোগ, এই রোগ মুখে সংক্রমণ ঘটালে তাকে ওরাল হার্পিস বা জ¦রঠোসা বলা হয়ে থাকে। হার্পিস সিমপ্লেক্য্র ভাইরাস টাইপ-১(এইচএসভি-১)এর সংক্রামণের ফলে হয় [২] জেনিটালহার্পিস হলো যৌনাংগের সংক্রমন এবং মূলত সিমপ্লেক্য্রভাইরাস টাইপ-২(এইচএসভি-২) সংক্রণের ফলে হয় [১] হার্পিস সিমপ্লেক্য্র ভাইরাস (এইচএসভি-১) চোখে, হাতে, এমনকী মস্তিস্কেও সংক্রমন ঘাটাতে পারে তিনি বলেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন