বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪

অভ্যন্তরীণ

খানাখন্দে যান চলাচল অনুপযোগী

রায়পুরে গ্রামীণ সড়কের করুণ দশা

এ. কে. এম. ফজলুল হক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) থেকে | প্রকাশের সময় : ১ আগস্ট, ২০২২, ১২:১০ এএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাত ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে খানাখন্দে এসব সড়ক যেন একেকটি মরণ ফাঁদ। কাদাপানি ও ধুলাবালিতে পরিপূর্ণ ভাঙাচোরা এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন ও চলাচলকারী যাত্রীরা। দশ-পনের বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় কোন কোন সড়ক সম্পূর্ণরুপে যানবাহন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা আরো করুণ। বর্ষায় কাদা পানিতে একাকার হয়ে সম্পূর্ণরূপে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে এসব সড়ক। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাবসায়ী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগামী মুমুর্ষ রোগীরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে সর্বত্রই কম-বেশি একই চিত্র লক্ষ করা যায়। সড়কের এই বেহাল দশায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেখাপড়া। তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। চলাচলকারী যানবাহনগুলো বিভিন্ন সময় শিকার হচ্ছে নানা দুর্ঘটনার। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও টায়ার। এ সড়কগুলির দ্রুত সংস্কার এখন এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ক্যাম্পেরহাট থেকে ঝাউডগী সড়কটি প্রায় ১০ বছর পূর্বে ইটের সলিং হলেও অদ্যবধি কার্পেটিং না হওয়ায় খানাখন্দে জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। একই ইউনিয়নের ঝাউডগী হতে ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত ৪ কি.মি. রাস্তাটি এখনো কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে সম্পূর্ণরুপে যান চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। ইউনিয়নের অন্তর্গত হায়দরগঞ্জ বাজারটি লক্ষ্মীপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র হওয়া সত্তেও প্রায় ৩০ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বাজারের ভাঙাচোরা গলিতে পানি জমে সম্পূর্ণরুপে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। অন্য দিকে ইউনিয়নের রচিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঠান মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলে অনুপযুক্ত হয়ে রয়েছে। এ রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনগণ মানববন্ধন করলেও রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এছাড়া উপজেলার ১১ কি.মি. দীর্ঘ রায়পুর হায়দরগঞ্জ সড়কটি মাত্র ৪ বছর আগে কার্পেটিং করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আলতাফ মাস্টারঘাট সংলঘ্ন ২ কি. মি., মেঘনা বাজার থেকে আলতাফ মাস্টার ঘাট পর্যন্ত ২ কি.মি. ও পুরাতন বেড়ি থেকে মেঘনা নদী পর্যন্ত ২ কি. মি. রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ও প্রচুর যানবাহন চলাচল করলেও সংস্কারের অভাবে ভাঙাচোরা এসব রাস্তা চরম জনদুর্ভোগ তৈরি করছে। ৫নং চর পাতা ইউনিয়নের দুলা মিয়া বেপারী বাড়ি হতে শাহজী বাড়ি পর্যন্ত ২ কি.মি. ও বর্ডার বাজার হতে বংশাল বাজার পর্যন্ত ৩ কি. মি. রাস্তা এখনো পাকা হয়নি। বর্ষায় কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় এ সব রাস্তা সম্পূর্ণরুপে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। ৬নং কেরোয়া ইউনিয়নের খলিফার মসজিদ হতে ক্লাব পর্যন্ত ২ কি.মি. পাকা রাস্তা সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া মাহাদার বাড়ি হতে জোড়পুল পর্যন্ত ২ কি.মি. কাঁচা রাস্তা বর্ষায় চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। ৭নং বামনী ইউনিয়নের মধ্য সাগরদী মসজিদ হতে পান্তির পাড় পর্যন্ত ২ কি.মি. ও কালা মিয়া সড়কের ২ কি. মি. রাস্তা অদ্যবধি পাকা না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৩ কি.মি. দীর্ঘ হাওলাদার রাস্তা, সলিংয়ের মাথা থেকে কামাল বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত ৩ কি.মি. ও আখন বাজার হতে কালু বেপারীরহাট পর্যন্ত ৩ কি. মি. রাস্তা এখনো কাঁচা রয়ে গিয়েছে। এ দিকে ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের ৪ কি.মি. দীর্ঘ হাজী চাঁন মিয়া রোডের কিয়দংশ পাকা হলেও বাকি অংশ দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। একই ইউনিয়নের মাঝি বাড়ি থেকে সুলতান ডাক্তার বাড়ি পর্যন্ত ২ কি. মি. কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে রয়েছে। ১০নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশর্^বর্তী ৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ডাকাতিয়া নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। অন্যদিকে রায়পুর পৌর সভা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাঘাট জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে।
অটো রিক্সা চালক মো. হোসেন বলেন, ‘ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে আমরা ঠিকমতো অটো চালাতে পারি না। খানাখন্দের কারণে প্রায়শই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে রাস্তার গর্ত পানিতে ডুবে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।’
উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর উল্যাহ দুলাল হাওলাদার বলেন, ‘ইতোমধ্যে কিছু কিছু রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। স্বল্প সময়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
রায়পুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরে বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তার তালিকা দেয়া হয়েছে। কিছু কিছু রাস্তার টেন্ডার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি স্বল্প সময়ে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা যাবে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন