বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

মহানগর

হোসেনি দালানে বোমা হামলার ৭ বছর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০২২, ১:০৮ পিএম

২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর। রাত তখন প্রায় পৌনে দুইটা। আশুরা উপলক্ষে প্রতিবারের মতো সেদিনও পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে চলছিল তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি। এমন সময় মুহুর্মুহু শব্দে ৩ টি বোমা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কিশোর। আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও এক ব্যবসায়ী। পরের দিন পুলিশ চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এবং ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পারভেজ ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন। এতে দুইজনের কারাদণ্ড ও ৬ জনকে খালাস দেয়া হয়। তবে হোসেনি দালানে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
সূত্রে জানা যায়, হোসেনি দালানের মামলা তদন্ত শেষে পরের বছর ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্যই সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ হামলা চালায়। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এবং ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পারভেজ ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন। এতে দুইজনের কারাদণ্ড ও ৬ জনকে খালাস দেয়া হয়।
মামলার বিষয়ে পুলিশ বলছে, হোসেনি দালানে যারা হামলা চালায়, তারা সবাই কঠর জেএমবির সক্রিয় সদস্য। এ হামলায় আরও তিনজনের নাম পাওয়া গেলেও তারা বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। ওই তিনজন হলো হিরন ওরফে কামাল, আলবানি ওরফে হোজ্জা ও আবদুল্লাহ ওরফে আলাউদ্দিন।
এদিকে হোসেনি দালানে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিচারের আওতায় আসেনি হামলাকারীও। আলোচিত এ মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। আর যে দুজনের কারাদণ্ড হয়েছে তাদের বিষয়ে উচ্চ আদালতের শুনানি শুরু হতেই লাগবে আরও দুই বছ
ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর। রাত তখন প্রায় পৌনে দুইটা। আশুরা উপলক্ষে প্রতিবারের মতো সেদিনও পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে চলছিল তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি। এমন সময় মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। বিস্ফোরিত হয় পরপর তিনটি বোমা। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কিশোর। আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও এক ব্যবসায়ী।
ঘটনার পরদিনই চকবাজার থানায় মামলা করে পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের মধ্যে দুজনকে শিশু হিসেবে গণ্য করে পাঠানো হয় শিশু আদালতে।
সবশেষ এ বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামিকে কারাদণ্ড দেয়া হলেও খালাস দেয়া হয় বাকি ৬ আসামিকে।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, বিচারিক আদালতে রায় হলেও উচ্চ আদালতে এখনো বিচারাধীন রয়েছে মামলাটি, যার চূড়ান্ত শুনানি হতে লেগে যেতে পারে আরও প্রায় দু’বছর।
তিনি বলেন, জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যে মামলা হয় এরই মধ্যে বিচার নিষ্পন্ন হয়েছে। দুজনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত শুনানি হতে আরও এক থেকে দুই বছর লাগতে পারে।
কেন এই দীর্ঘসূত্রতা সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ক্লুলেস এ মামলাটির সাক্ষ্য প্রমাণ যোগাড় করে চার্জশিট দায়ের করতেই লেগে গেছে প্রায় ৬ বছর। তবুও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এ ঘটনার তো কোনো সাক্ষীপ্রমাণ ছিল না। এগুলো জোগাড় করতে সময় লেগেছে। বিভিন্ন অবস্থাগত প্রমাণ দিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদেরকে শনাক্ত করতে হয়েছে। এরপর তাদেরকে গ্রেপ্তার করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। অনেক সাক্ষীও জায়গা পরিবর্তন করেছে। এসব কাজ করতে গিয়ে সময়টা বেশি লেগেছে।

এর আগে এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের কথা বললেও এখনো নেয়া হয়নি তেমন কোনো পদক্ষেপ।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজ আল আসাদ বলেন, এবার তাজিয়া মিছিলে বেশ কিছু বিষয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাজিয়া মিছিলে দা, ছুরি, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


অতিরিক্ত উপ-পুলিশকমিশনার বলেন, আমরা চাই হোসেনি দালানের সামনে আর যেন কোনো অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে বা জঙ্গিরা কোনো সুযোগ নিতে না পারে সেজন্য আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।



এবিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তাজিয়া মিছিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে আমরা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। জঙ্গিদের মেরুদন্ড আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি। হোসেনি দালান এলাকায় আর যেন জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা না চালাতে পারে সেই জন্য আমাদের র‌্যাবের পক্ষ থেকে অতিরিক্তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন