বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কে হচ্ছেন নতুন আইজিপি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ আগস্ট, ২০২২, ১২:০০ এএম

পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। ইতোমধ্যেই পরবর্তী আইজিপি কে হবেন এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ৩১তম আইজপি পদের জন্য আগ্রহী অনেক কর্মকর্তা এরইমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার সর্বোচ্চ বিবেচনায় থাকবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। কারণ, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা থাকবে অগ্রগণ্য। যদি বর্তমান আইজিপির মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হয়, সে ক্ষেত্রে নতুন আইজিপি হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাকেই বিবেচনা করবে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা আরো মনে করছেন, পুলিশ প্রধান হিসেবে বাহিনীতে নানামুখী যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে সমাদৃত বর্তমান আইজিপিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে সরকার। এছাড়া আরও কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন আইজিপি হওয়ার দৌড়ে। যাদের নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে চলছে আলোচনা। বেনজীর আহমেদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া না হলে ৩১তম আইজিপি হিসেবে দেখা যাবে নতুন মুখ।
আলোচনায় আছেন যারা : র‌্যাবের ডিজি অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আলোচনায় রয়েছেন। অষ্টম বিসিএস ব্যাচের ওই কর্মকর্তার আগামী ১১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বাহিনী ও সরকারের কাছে তার সুনাম থাকা এই কর্মকর্তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে সরকার। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন), রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ময়মনসিংহ ও ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পান। র‌্যাবের ডিজি হিসেবে যোগদানের আগে তিনি সিআইডি প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিন : পরবর্তী আইজিপি হিসেবে আলোচনায় আছেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) এস এম রুহুল আমিন। অত্যন্ত সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বাহিনী ও সরকারের কাছে এস এম রুহুল আমিন-এর অনেক সুনাম রয়েছে। তিনি ১২তম বিসিএস ব্যাচের মেধা তালিকায় প্রথম। তাছাড়া কর্মজীবনে কোন প্রশিক্ষণ বা পরীক্ষায় কখনো দ্বিতীয় হননি।
এস এম রুহুল আমিন গোপালগঞ্জ সদর থানায় এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সুবেদার মেজর (অব.) এস এম আব্দুল খালেক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সরদায় মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে ‘সর্ব বিষয়ে সেরা পারফর্মার’ হন তিনি।
এস এম রুহুল আমিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি, সিলেট জেলার এসপি, ঢাকায় সিআইডির এসএস, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে যোগদান করে বরিশালে পুলিশি সেবার নবদিগন্তের সূচনা করেন। পুলিশ বাহিনীতে মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এস এম রুহুল আমিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আইভরিকোস্ট ও দক্ষিণ সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের হয়ে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ড. মল্লিক ফখরুল ইসলাম : পরবর্তী আইজিপি হিসেবে আলোচনায় আছেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম। তিনি বাগেরহাট জেলার একটি স্বনামধন্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যাচের মেধা তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে পরবর্তীতে ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার্স (এমবিএ) এবং ‘অপরাধ প্রতিরোধ ও সামাজিক পরিবর্তন : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
তিনি ভোলা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট ও ফেনী জেলার এসপি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি, পুলিশ সদর দফতরে এআইজি (প্রশিক্ষণ) হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি র‌্যাব-৩ কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ডিআইজি হিসেবে স্পেশাল ব্রাঞ্চে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও রেলওয়ে, হাইওয়ে ও ট্যুরিস্ট রেঞ্জে নেতৃত্ব দেন। মল্লিক ফখরুল ইসলাম পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউএনএমআইটি) জাতিসংঘের এফপিইউ কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব পালন করে জাতিসংঘ পদক অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছেন।
এটিইউ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান : আইপিজি হিসেবে আলোচনায় আছেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে (এমবিএ) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদান করেন। ডিএমপির এডিসি, ফেনী জেলার অতিরিক্ত এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম ও যশোর জেলার এসপি, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন এবং ট্রেনিং), সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এবং রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মো. কামরুল আহসান জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের ‘পুলিশ অ্যাডভাইজার’ হিসেবে সিয়েরালিওন ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
jack ali ১৬ আগস্ট, ২০২২, ৫:২৭ পিএম says : 0
সরকার যেমন দুর্নীতিবাজ তেমনি আর একজন দুর্নীতিবাজকে IGP বানাবে
Total Reply(0)
আবুল ১৬ আগস্ট, ২০২২, ১:২১ এএম says : 0
এমন লোককে আইজিপি দেওয়া উচিত যে কিনা দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ দিয়ে কাজ করবে
Total Reply(0)
আলিফ ১৬ আগস্ট, ২০২২, ১:২৪ এএম says : 0
আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার সর্বোচ্চ বিবেচনায় থাকবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। কারণ, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা থাকবে অগ্রগণ্য। এ বিষয় মাথায় রেখে সৎ ব্যাক্তিকে দিলে সবচেয়ে বেশি ভালো হবে
Total Reply(0)
আবুল ১৬ আগস্ট, ২০২২, ১:২২ এএম says : 0
নিরপেক্ষ লোককে দিলে সবচেয়ে ভালো হবে
Total Reply(0)
আলিফ ১৬ আগস্ট, ২০২২, ১:২৩ এএম says : 0
যে সৎ, ভদ্র ও দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ তাকে আইজিপি পদে দিলে ভালো হয়।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন