বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

রাজস্থানে দলিত শিক্ষিকাকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১:৫৪ পিএম

স্কুলে যাওয়ার সময়ে হামলাকারীরা ঘিরে ধরেন ৩২ বছর বয়সী দলিত শিক্ষিকা অনিতা রেগরকে। মারধর করা হয় তাকে। পালিয়ে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলাকারীরা পৌঁছে যায়। অনেক মানুষের সামনেই তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়া হয় তাকে।

পুলিশ বলছে, মূল অভিযুক্তরা ওই শিক্ষিকা অনিতা রেগরেরই আত্মীয় এবং তার মতো হামলাকারীদের অনেকেই দলিত শ্রেণীরই মানুষ। ধার দেয়া টাকা চাইতে গেলে ৩২-বছর বয়সী ওই শিক্ষিকাকে আক্রমণ করা হয়, তারপরে পেট্রোল ঢেলে তার দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে মারা যান ওই নারী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ওই শিক্ষিকা একটি ভিডিও বয়ান রেকর্ড করেন, যেটি তার মৃত্যুর পরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি জানান, "১০ই অগাস্ট সকালে ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথেই আমার ওপরে হামলা হয়। আমি পালিয়ে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে আশ্রয় নিই। কিন্তু সেখানেও পৌঁছে যায় আক্রমণকারীরা। গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়ার পরেই আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।"

রেগর পুলিশকে ফোনও করেছিলেন, কিন্তু তার অভিযোগ পুলিশ সময়মত পৌঁছয় নি। পরে তার স্বামী তারাচাঁদ খবর পেয়ে ছুটে এসে ৭০% দগ্ধ স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষমেশ বাঁচানো যায় নি তাকে। যে নির্মীয়মাণ বাড়িতে মিসেস রেগর আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে হামলার সময়ে আরও অনেকে জড়ো হয়েছিলেন, কিন্তু তার গায়ে যখন পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানো হচ্ছে, তখন কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন নি।

দ্বিতীয় এক ভাইরাল ভিডিওতে এটাও দেখা গেছে যে জ্বলন্ত রেগরের ভিডিও করছেন কিছু মানুষ, কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেন নি তাকে বাঁচাতে। পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের নামে আগেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন মিসেস রেগর, তার ভিত্তিতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কিন্তু যারা গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, তারা এখনও ফেরার।

জয়পুর গ্রামীণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট ধর্মেন্দ্র যাদব সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, "ওই নারী তার এক আত্মীয়কে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন যদিও তার কোনও নথিপত্র ছিল না। সেই টাকা শোধ করা নিয়েই একই পরিবারের মধ্যেই ঝামেলা হয় আগে।"

"নিহত নারী অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে মারধর করা হয়েছে। সেসময়ে দু'জন নারীকে গ্রেপ্তারও করি আমরা। তার চারদিন পরে দ্বিতীয় একটি অভিযোগ আনেন মিসেস রেগর, তার ভিত্তিতে আরও দু'জন গ্রেপ্তার হন। "এরপরে দু'পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করে। সেই ঘটনার তদন্ত চলছিলই। তারমধ্যেই ১০ই অগাস্ট এই ঘটনা ঘটে যায়," বলছিলেন ধর্মেন্দ্র যাদব। সূত্র: বিবিসি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
...................... ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৪:১৪ পিএম says : 0
আল্লাহ ব্যাতিত কোনো মানুষ অন্য মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে পারেনা। যা হইচে তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
Total Reply(0)
jack ali ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৬:০১ পিএম says : 0
ইয়া আল্লাহ মুসলিমদের যেভাবে ওরা পুড়িয়ে মারছে দলের কেউ ওরা পুড়িয়ে মারছে আল্লাহ আবার ইন্ডিয়াকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দাও আমরা কোরআন দিয়ে শুরু করবো তাহলে সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে এরা মানুষ না জানোয়ার না এরা নরপিচাশ নরাধম নরাধম
Total Reply(0)
Md Rejaul Karim ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৯:২৭ পিএম says : 0
ঘটনাটি দুঃখজনক সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে ।। একজন মানুষ, আরেকজনকে সহযোগিতা করবে এটি সকলের জন্যই অপরিহার্য কিন্তুু সেটি না করে ভিডিও করেছে।।। অপরাধীর সাথে ভিডিও কারীর ও শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।।
Total Reply(0)
Harunur Rashid ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৯:৫০ পিএম says : 0
This is the true color of hindustan cast system. modi on top of everything.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন