মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

জাতীয় সংবাদ

‘ঋণে’ চোখ বাংলাদেশের

আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন অক্টোবরে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০১ এএম

দুই বছর পর আগামী ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর সরাসরি বসছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল-আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন। বিশ্বের ১৮৮টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরদের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাওয়া আসন্ন বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সম্মেলনের পাশাপাশি দরকষাকষির মাধ্যমে আইএমএফ’র কাছ থেকে ঋণ চাইবে বাংলাদেশ। এ জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে সরকারকে। ঋণের অঙ্ক সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা না হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফ’র কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হবে। এ ছাড়া বাজেটে সহায়তা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবে সরকার। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে যে ঋণ চেয়েছে সে বিষয়ে অক্টোবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়ে সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ বলেছেন, বাংলাদেশে এখন কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে নেই। বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশটির চিত্র ভিন্ন। এদিকে আইএমএফ থেকে এই ঋণ পেলে বাংলাদেশের ব্যালান্স অফ পেমেন্ট নিয়ে সম্ভাব্য যে ঝুঁকি আছে, তা মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, আমরা দেখতে পেয়েছি, সাম্প্রতিক সময়ে ফরেন এক্সচেঞ্জের একটি বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি আছে বাংলাদেশে এবং ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ওপর যথেষ্ট প্রেশার আছে। সেই চাপ একটু কমানোর জন্য সরকার এখন আইএমএফর কাছে গেছে।

সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বহুজাতিক এই ঋণদানকারী দুই সংস্থা বছরে দুই দফা বৈঠকে বসে। একটি বসন্তকালীন সভা, যা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়। অন্যটি বাষিক সভা, অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর এ সভা হলেও করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠক অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। করোনা কারণে গত দুই বছর ভার্চুয়ালি সভার পর এবার সরাসরি বৈঠক হতে যাচ্ছে। এতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল যোগ দিচ্ছেন। দলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম থাকবেন বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বৈঠকের আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

রাহুল আনন্দ বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। সেটা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৪ শতাংশ। যে কারণে দেশটির ঋণ খেলাপিতে যাওয়ার আশঙ্কা কম। তিনি বলেন, তহবিল সংক্রান্ত নিয়ম ও পদ্ধতি অনুযায়ী আইএমএফ বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। আইএমএফ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কর্মসূচির নকশা নিয়ে আলোচনা করছেন। রাহুল বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি আইএমএফ’র বার্ষিক সভা হবে। সেখানে বাংলাদেশের ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, আইএমএফ’র কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য শর্ত পূরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সম্মেলন চলাকালে এক বৈঠকে ঋণ পাওয়ার জন্য দেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র বিশদভাবে তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সম্মেলন শেষেই যেন ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে তাদের একটি মিশন বাংলাদেশ সফরে আসে সে জন্য সংস্থাটিকে অনুরোধ জানানো হবে।

ওয়াশিংটনে আলোচনা সফল হলে অক্টোবরেই সংস্থাটির মিশন আসবে বাংলাদেশ সফরে। ওই সময় ঋণপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হবে বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটনের আসন্ন সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে আইএমএফ’র কাছে ঋণ সহায়তা চাওয়া হবে। তবে ঋণের পরিমাণ সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইএমএফ’র সব শর্ত মানতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে তাদের সব শর্ত খারাপ নয়। বাংলাদেশে জিডিপির তুলনায় কর আহরণ খুবই কম। আইএমএফ’র পক্ষ থেকে এটি বাড়ানোর তাগিদ রয়েছে।

রাজস্ব আয় বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আগামী পাঁচ বছরে কর জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ উন্নীত করতে চায় সরকার, যা এখন আছে ১০ শতাংশের একটু বেশি। ওয়াশিংটনের বৈঠকে এ বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। বাজার ভিত্তিতে জ্বালানি পণ্যের দাম নির্ধারণেরও প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে বাজার ভিত্তিতে তেলের দাম নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে আইএমএফকে জানিয়ে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার যে অর্থ সংগ্রহ করে, তা সরাসরি বাজেট থেকে আলাদা করার পক্ষে আইএমএফ। এটা করতে পারলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে বেশিসংখ্যক গরিব মানুষকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। সরকার মনে করে, সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার বিদ্যমান নীতি ঠিকই আছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার সংস্কার চায় আইএমএফ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আইএমএফ বেঁধে দেয়া ঋণের সুদহার (৯ শতাংশ) তুলে দেয়া এবং এই সময়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পক্ষে। সংস্থাটি বলেছে, এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হবে। যদিও সুদহারের সীমা আপাতত তুলবে না বলে আইএমএফকে জানিয়ে দিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সুদহার সহনীয় রাখায় করোনার পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া সুদহার বাড়ালে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে মনে করে সরকার। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ধীরে ধীরে কমে আসছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে আশা করা যায়। ডলারের তুলনায় টাকার মান কমানোর সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আইএমএফ বলেছে, এতে ডলারের তারল্য পরিস্থিতি ভালো হবে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করারও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। এ ছাড়া বাজেটে ভর্তুকির চাপ কমাতে বলেছে সংস্থাটি। সরকার মনে করছে, সার ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে ভর্তুকির চাপ কমবে। এতে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।##

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Monayem Hussain Babul ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩৫ এএম says : 0
এগুলো গুজব। বাংলাদেশ ঋন নেয় না,সারাবিশ্ব কে ঋন দেয়
Total Reply(0)
Rasel Talukder ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩৬ এএম says : 0
আমরা ঋণ নেই না দেই। আমার তো সন্দেহ হয় শ্রীলঙ্কাকে আসলে দিছিলো কিনা, নাকি যোগসাজশে মেরে দিছে।
Total Reply(0)
Noora Ihsas ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩৬ এএম says : 0
এত বড় মাপের ঋণ কোন সাল থেকে পরিশোধ করা শুরু করতে হবে কেউ যদি জানেন প্লিজ বলবেন...
Total Reply(0)
Maan Barua ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩৫ এএম says : 0
ভিক্ষা করে উন্নয়নের তবলা বাজানো হয়।
Total Reply(0)
Kamal Gazi ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩৭ এএম says : 0
ঋন নিয়ে আসি কিছু সুইস ব্যাংকে পাঠানো হবে। বাকি টাকা থেকে উন্নয়ন হবে। সেখান থেকে আবার কমিশন আসবে। শেষমেশ জনগনের মাথায় ঋনের বোঝা চাপিয়ে ওনারা দেশ ত্যাগ করবেন। এ মূহুর্তে দেশে কি ঋনের আদৌ প্রয়োজন আছে কি?
Total Reply(0)
Kamal Gazi ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩৭ এএম says : 0
ঋন নিয়ে আসি কিছু সুইস ব্যাংকে পাঠানো হবে। বাকি টাকা থেকে উন্নয়ন হবে। সেখান থেকে আবার কমিশন আসবে। শেষমেশ জনগনের মাথায় ঋনের বোঝা চাপিয়ে ওনারা দেশ ত্যাগ করবেন। এ মূহুর্তে দেশে কি ঋনের আদৌ প্রয়োজন আছে কি?
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন