সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯, ২৯ সফর ১৪৪৪

সম্পাদকীয়

বুলিং প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

হাসনাত জাহান সিফাত | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০৪ এএম

কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে শারীরিক বা মানসিকভাবে আক্রমণ করাকে বুলিং বলে। বুলিং যেকোন বিষয় নিয়েই হতে পারে। কাউকে এমন নামে ডাকা যা সে শুনতে পছন্দ করে না, আঘাত করা, ধাক্কা দেয়া, কারো সম্পর্কে মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো প্রভৃতি সহিংসতামূলক আচরণ বুলিংয়ের আওতাভুক্ত। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভিশনের (সিডিসি) মতে, বুলিং হলো অপ্রত্যাশিত এবং আক্রমণাত্মক আচরণ, যা স্কুলে যাওয়া বাচ্চাদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায়। এ আচরণের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার অসামঞ্জস্য প্রকাশ পায়। তবে এ আচরণ সাধারণত স্কুলে যাওয়া শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা গেলেও যেকোন বয়সের ব্যক্তির মধ্যেও দেখা যেতে পারে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বা অফিসের সহকর্মীদের মধ্যেও এমন আচরণ দেখা যায়। বর্তমানে অন্যতম একটি সামাজিক সমস্যা হচ্ছে বুলিং। বুলিংয়ে সাধারণত দুইটি পক্ষ থাকে। এক পক্ষ হলো যে বুলিং করছে এবং আরেক পক্ষ যে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। বুলিং একজন ব্যাক্তির মানসিকতায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। ফলে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায় ও সবসময় হীনমন্যতায় ভোগে। যার জন্য একজন মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং তার স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। অনেক সময় দেখা যায়, বুলিংয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে নিজেকে ঘুটিয়ে নেয়। জীবনের স্বাভাবিক গতিপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। অনেক সময় তা আত্মহত্যা পর্যন্ত গড়ায়। বুলিংকে আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক বিষয় মনে হলেও তা একজন ব্যক্তির জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়তই বুলিং করার প্রবণতা বাড়ছে। মূলত পারিবারিক নৈতিক শিক্ষার অভাবে বুলিং বাড়ছে। এর জন্য খারাপ সঙ্গ ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও সমান ভাবে দায়ী। মনে রাখতে হবে, বুলিং একটি অপরাধ। তাই বুলিংকে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বুলিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

শিক্ষার্থী, ফাজিলপুর ওয়ালিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, ফেনী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন