শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৭ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

ইসলামী বিশ্ব

জ্বালানির খোঁজে উপসাগরীয় দেশগুলোতে জার্মান চ্যান্সেলর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

উপসাগরীয় দেশেগুলোতে সফরের প্রথম দিনে সউদী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। জ্বালানির খোঁজে এই সফর হলেও মানবাধিকার ইস্যু আলোচনার বাইরে থাকছে না বলে জানান তিনি। উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের অংশ হিসেবে শনিবার জার্মান চ্যান্সেলর শলৎস সউদী আরবে যান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে যাত্রার আগে জেদ্দায় তিনি বৈঠক করেন মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে। রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার জেরে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারীর খোঁজে মাঠে নেমেছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটি। আসন্ন শীতকালীন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মতো গ্যাসের মজুদ থাকলেও সামনের দিনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বার্লিন। তারই অংশ হিসেবে শলৎস এই সফরে বেরিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তিতে পৌঁছার বিষয়ে একটি ঐকমত্য হবে বলে আশা করছে বার্লিন। এই সফরে শলৎসকে তাই সঙ্গে দিচ্ছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে জার্মান চ্যান্সেলরের এই সফর ঘিরে মানবাধিকার ইস্যুও সামনে আসছে। বিশেষ করে সাংবাদিক জামাল খাশোগজির হত্যার প্রেক্ষিতে যুবরাজ মোহাম্মদের সঙ্গে তার বৈঠককে বেশ স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে এই বিষয়ে শলৎস আলোচনা তুলবেন কি না তা নিয়ে অনেকের সংশয় ছিল। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শলৎস বলেন, ‘‘মানবাধিকার সংক্রান্ত সব প্রশ্ন নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি। বলা উচিৎ ছিল এমন কোনো কিছুই বাদ দেয়া হয়নি।’’ তুরস্কের সউদী দূতাবাসে খাশোগজিকে হত্যার বিষয়ে জার্মান সরকার বরাবরই কঠোর নিন্দা জানিয়ে এসেছে। শলৎসের সফরেও বিষয়টিকে যে এড়িয়ে যাওয়া হবে না সরকারের পক্ষ থেকে তা আগেও জানানো হয়েছিল। মানবাধিকার উদ্বেগ পাশে রেখেই জ্বালানি নিয়ে সউদী আরবের সঙ্গে নতুন অংশিদারিত্বে পৌঁছাতে চায় বার্লিন। এক্ষেত্রে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে একটি ‘নিবিড় কার্যকরী সম্পর্কের’ কথাও ভাবছে তারা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কেননা, ৩৭ বছর বয়সি প্রিন্সই আগামী ১০, ২০ বা ৩০ বছর সউদী আরবকে পরিচালনা করবেন বলে মনে করেন তারা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনে সউদী আরবের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্প্রসারণ করতে চায় বার্লিন। সফল হলে রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প হিসেবে আগামী দিনগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিপুল হাইড্রোজেন আমদানির সুযোগ তৈরি হবে জার্মানির। এই সফরের মাধ্যমে উপসাগরীয় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারেরও লক্ষ্য রয়েছে জার্মান চ্যান্সেলরের। শনিবার শলৎস সউদী আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেন। রোববার সকালে আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে একইদিনে কাতার যাবেন তিনি। গ্যাস সমৃদ্ধ দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। রয়টার্স, এএফপি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন