শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ০৫ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

সারা বাংলার খবর

শিক্ষা কারিকুলামে ইসলাম শিক্ষার সাথে উপহাসের প্রতিবাদে সিলেটে ইসলামী আন্দোলনের স্মারকলিপি

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ৭:২৮ পিএম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার পক্ষ থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে আজ রবিবার। বেলা ২ টার দিকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় সিলেট জেলা প্রশাসক এর কার্যালয়ে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা শাখার সংগ্রামী সভাপতি মুফতি সাঈদ আহমদ, সেক্রেটারী হাফিজ মাওলানা ইমাদ উদ্দিন, মহানগর শাখার সভাপতি আলহাজ্ব নজির আহমদ, সেক্রেটারী এডভোকেট হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, সহ-সভাপতি ডাঃ রিয়াজুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা জাতির মেরুদ-, সভ্যতার মাপকাঠি। সুশিক্ষা ব্যতীত কোন জাতি সভ্যতার প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। ঠকবাজির মাধ্যমে যেমন কোন ব্যবসা টিকে না, তেমনি নীতি, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছাড়া কোন জাতি উন্নতির শিখরে উঠতে পারে না। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত জাতীয় শিক্ষানীতির প্রাক-কথনে আপনার মন্তব্যটি অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আপনি বলেছেন, এই শিক্ষানীতির উল্লেখযোগ্য দিক হলো- এখানে ধর্ম, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত শিক্ষা কারিকুলাম ২০২১- এ ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাদ দিয়ে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা নামে ইসলাম শিক্ষাকে এক প্রকার উপেক্ষা করা হয়েছে। যা আপনার মন্তব্যের বিপরীত। অধিক ‘ ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত এদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষানীতি-২০১০ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষার মাধ্যমে উন্নত চরিত্র গঠনে সহায়তা করা’।

ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা অংশে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীদের মনে আল্লাহ, রাসূল সা. ও আখিরাতের প্রতি অটল ঈমান ও বিশ্বাস যাতে গড়ে ওঠে এবং তাদের শিক্ষা যেন আচার সর্বস্ব না হয়ে তাদের মধ্যে ইসলামের মর্মবাণীর যথাযথ উপলব্ধি ঘটে, সেভাবে ইসলাম শিক্ষা দেয়া হবে’।

আমরা অতীব উদ্বিগ্নতা ও হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি যে, নীতিমালার কথার সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামে ইসলাম ধর্ম শিক্ষাকে শুধু সঙ্কুচিত ও উপেক্ষাই করা হয়নি বরং রীতিমতো ইসলাম শিক্ষার সাথে উপহাস করা হয়েছে। কেননা, ইসলাম ধর্ম শিক্ষাসহ বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান পাঠে ইসলামী আকিদা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যেমন সংকুচিত করা হয়েছে, অপরদিকে ইসলামী আকিদা বিরোধী বিভিন্ন বিষয় ও পরিভাষার অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে কৌশলে।

অন্যদিকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বিরোধী, অপপ্রমানিত ও ভ্রান্ত ডারউইনের বিবর্তনবাদ বিভিন্ন ক্লাসের পাঠ্যপুস্তকে সংযোজন করা হয়েছে। অথচ এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই পরিত্যাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তিসহ অশালীন-অশ্লীল ছবির সংযোজন ঘটানো হয়েছে মাদ্রাসাসহ স্কুলের শিক্ষা কারিকুলামে।

উপরোক্ত কারণে এদেশের সচেতন, সুশীল ও শিক্ষিত মহল মনে করেন, বতর্মান শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষা কারিকুলামে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছা ও আকাংঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি বরং এর মাধ্যমে দেশে অশান্তির বীজ বপন করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বতর্মান সময়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রী নির্যাতন একটি আলোচিত ঘটনা। ছাত্র-শিক্ষক কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি মূলত চরম নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। নৈতিক শিক্ষা অর্জিত হয় ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে। আমরা মনে করি, বতর্মান শিক্ষাঙ্গন নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হওয়ার পিছনে দায়ী সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ক্রমাগতভাবে ইসলাম ধর্ম শিক্ষাকে পাশ-কাটানো ও উপেক্ষা করার মানসিকতা। ইসলাম শিক্ষা সম্পর্কে সরকারের এহেন পলিসি লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান এবং সংবিধানকে অবজ্ঞার শামিল।

শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত আমাদের দাবীসমূহ হলো: শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নে, অভিজ্ঞ, দ্বীনদার আলেমদেরকে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও সকল পরীক্ষায় আবশ্যিক করা, ডারউইনের অপ্রমাণিত, ভ্রান্ত ও বিতর্কিত বিবর্তনবাদ শিক্ষার সকল স্থর থেকে বাদ দেওয়া, পাঠ্য পুস্তকের সকল বিষয় হতে অনৈসলামিক ও ইসলামী বিশ্বাস বিরোধী বিষয় ও শব্দসমূহ বাদ দেওয়া, ইসলাম ধর্ম শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরে ‘কুরআনুল কারীম’ শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা, মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষানীতিমালা-২০১০ অনুযায়ী মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট আলেম, দ্বীনদার শিক্ষকদের দ্বারা পূনমার্জন করা, নৈতিকতা সমৃদ্ধ জনশক্তি তৈরির লক্ষে সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা।বাংলা, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান ও ইতিহাস বই হতে বিতর্কিত ও ইসলামী আকিদা বিরোধী প্রবন্ধসমুহ বাদ দেওয়া। স্কুল ও মাদ্রাসার সকল পাঠ্যপুস্তক অপ্রয়োজনীয় এবং অশ্লীল চিত্রমুক্ত রাখা। যেহেতু এদেশের সাধারণ জনগণই এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়ভারের সিংহভাগ বহন করেন, সেহেতু জোর করে চাপিয়ে দেয়া শিক্ষা ব্যবস্থা নয় বরং এদেশবাসীর ধর্মীয় চেতনার অনুকুল শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন