বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯, ১৬ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

সারা বাংলার খবর

সহপাঠীর খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ৬ দফা দাবিতে বগুড়ায় শজিমেক শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

বগুড়া ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ৮:২৮ পিএম

সহপাঠীর হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করাসহ ৬ দফা দাবিতে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) শিক্ষার্থীরা রোববার বিকেলে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। বিকেল ৪টা থেকে অবরোধকালে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ এবং শজিমেক কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ঘোষিত দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেয়। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় তারা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেছেন। যদি নির্ধারিত সময়ে দাবি পূরণ না হয় তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। তবে অবরোধ প্রত্যাহারের পর শজিমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

কলেজের সামনে ভাসমান খাবার দোকানে আলুর চপ খাওয়ার সময় তার ভেতরে ময়লা পেয়ে প্রতিবাদ করায় গত ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফরিদ নামে এক দোকানির সঙ্গে শজিমেকের শিক্ষার্থী ফাহিমের বাকবিতন্ডা হয় । এক পর্যায়ে ওই দোকানির ছেলে শাকিল তার হাতে থাকা পেঁয়াজ কাটার ছুরি দিয়ে ফাহিমের পেটে ঢুকিয়ে দেয়। এতে রক্তাক্ত ফাহিম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে। পরে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবণতি হওয়ায় ২৮ নভেম্বর তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীসহ শজিমেকের সব শিক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে তারা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে কলেজের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অর্ঘ্য রায়, অর্ণব আকন্দ, শৈশব রায় ও আনোয়ারুল আযিম ফাহাদ বক্তব্য রাখেন।

শজিমেক শিক্ষার্থীদের অপর ৫টি দাবির মধ্যে রয়েছে- কলেজের দুই নম্বর গেট থেকে অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদ, ওই গেট সংলগ্ন নতুন সড়কের মোড়ে বিকেল ৪টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন, ছাত্রী হোস্টেল, ফিরিঙ্গিও মোড় এবং ভার্সেটাইল মোড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, ক্যাম্পাসে প্রবেশ পথগুলোতে আনসার মোতায়েন এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং সন্ধ্যার পর পুরো ক্যাম্পাসে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি অর্ঘ্য রায় জানিয়েছেন, পুলিশ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবি-দাওয়া পূরণের আশ^াস দেওয়ায় তারা অবরোধ তুলে নেন। তিনি বলেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হয় তাহলে তারা আবারও অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করবেন।

বগুড়ায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম জানান, শজিমেক ছাত্র ফাহিমকে ছুরিকাঘাতে জড়িত দোকানি শাকিল ও তার বাবা ফরিদকে ঘটনার পর পরই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে জেল-হাজতে আটক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি আদালতের বিষয়। তিনি বলেন, শজিমেকের শিক্ষার্থীদের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে পুলিশের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন