বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯, ১৭ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

জাতীয় সংবাদ

সরকার আবারো সেই জঙ্গি নাটক শুরু করেছে : মির্জা ফখরুল

সোহরাওয়ার্দী-তুরাগের বিকল্প প্রস্তাব ভেবে দেখবে বিএনপি ৪ দিনে আটক ১০৩১ জন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

সরকার ২০১৩-১৫ সালের মতো আবারো জঙ্গি নাটক শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ২০১৩,১৪,১৫ সালের মতো একইভাবে নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে গণগ্রেফতারের সেই পুরনো নাটকেরই পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে। চলছে মেস ও আবাসিক হোটেলে জঙ্গীদের উপস্থিতি সন্দেহে পুলিশের ঘেরাও অভিযান। যার নমুনা দেখলাম বনানীতে। ওই সময়ও একই ঘটনা ঘটানো হয়েছি। একদিকে ছিল জঙ্গী নাটক, অন্যদিকে অগ্নিসন্ত্রাস। এখন তারা আবার সেরকম শুরু করেছে। গতকাল রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, ওনারা কিসের ভয়ে নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে দিতে চান না, সেটা হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাস ও নাশকতার ভয়ে, জঙ্গীর ভয়ে। তারাই তো এসব তৈরি করছে, তারা তৈরি না করলেই তো ভয়ের কোন কারণ নেই। আমরা লাখ লাখ লোক নিয়ে ৯টা বিভাগীয় সমাবেশ করলাম। সবগুলোই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে পারি, ঢাকাতে যে সমাবেশ হবে তা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। এখানে কোন রকম কোন নাশকতা যদি তৈরি করে সেটা সরকার করবে এবং সরকারকেই এর দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পুলিশের আইজি বলছেন, ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। তাহলে কেন এই নাটক অভিযান? সরকার এক সুদূরপ্রসারী অশুভ মাস্টারপ্লানের পথে হাঁটছে কেন? হোটেল, মেস, বাসাবাড়িতে রেইডের উদ্দেশ্য একটাই- ভয় সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা। এতোদিন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় পাননি, জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযানের সময় পাননি। তিনি বলেন, বিএনপির গণসমাবেশের কর্মসূচি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য প্রায় মাসখানেক আগে ঢাকা জেলা আদালতে জঙ্গি নাটকের অবতারনা করা হয়। বেশ কিছুদিন চুপ থেকে এখন সেই জঙ্গি ধরার নামে মেস, আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়ীতে পুলিশ ব্লক রেইড দিচ্ছে। পুলিশের এই হানা মূলত বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার, হয়রানীর ও আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১০ তারিখের সমাবেশ কেন্দ্র করে যে এটা করছেন তা মানুষ বোঝে, তারা তো বোকা নয়। আসলে তারা জঙ্গিদের কথা বলে বাংলাদেশে জঙ্গি তৈরি করতে চায়, অগ্নিসন্ত্রাসের কথা বলে অগ্নিসন্ত্রাস করতে চায়। তারা নিজেরাই এই কাজ করে। সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, প্রতারণার পথ থেকে সরে আসুন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক-স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা করুন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা ২ মাস আগে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে, বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলন শুরু করেছি। এর মধ্যে ৯টি বিভাগীয় সমাবেশ হয়ে গেছে। আমরা প্রমাণ করেছি, শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিকভাবে একটা রাজনৈতিক দল এটা করেছে। শত উস্কানিতেও আমাদের নেতাকর্মীরা ফাঁদে পা দেয়নি। যদিও সমাবেশ চলাকালে সরকার ভয়াবহভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক কর্মসূচিগুলোকে সবদিক থেকে বাধা সৃষ্টি করেছে। তারা সড়ক পরিবহন বন্ধ করেছে, পুলিশকে ব্যবহার করে গায়েবী মামলা দিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার অহেতুক সর্বনাশা একটা প্রতিশোধ স্পৃহায় মেতে উঠেছে। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারের উচ্চ পর্যায়-মন্ত্রীরা অযথা কথা বলে, উস্কানিমূলক ও গণতন্ত্রকে বাধা প্রধান করে এমন সব কথাবার্তা বলছে। তারা বলছে- খেলা হবে। এটা কোন রাজনৈতিক ভাষা হলো? কিসের খেলা? আমাদের এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানুষের জীবনকে রক্ষা করার বিষয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলার সময়। আমরা খেলায় বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি বাস্তবতায়, অধিকার ফিরে পাওয়া, বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার পাবার বিষয়ে।

তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর নিয়ে সরকার যেসব কথা বলছে তা সম্পূর্ণভাবে দেশবিরোধী, গণতন্ত্র বিরোধী। অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের মতো ঢাকাতেও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন হবে। এই সমাবেশে আমরা দাবিগুলো নিয়ে আসবো এবং ভবিষ্যত কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এটাকে কেন্দ্র করে আবারো আগের মতো পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে তারা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। হুমকী, গ্রেফতার করে সরকার সমস্যা তৈরি করছে। ঢাকা মহানগরকে একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। তারা নাশকতার কাজ শুরু করেছে। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই, সরকার নাশকতা, জঙ্গিবাদ করছে, জঙ্গিদের রূপ ধারণ করেছে।

ককটেল ফুটিয়ে, বাসে আগুন দিয়ে বিএনপির নামে মামলা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বিরোধী দলের অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, সরকারি চক্রান্ত থেমে নেই। নয়াপল্টন এলাকাকে অস্থিতীশীল করার জন্য সরকারের এজেন্সিগুলো নানা ধরনের নাশকতা ঘটাতে অবর্তীণ হয়েছে। গত শনিবার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিষ্ফোরণ করা হয়। এই বিষ্ফোরণের পর পুলিশ আকষ্মিকভাবে নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এসব কি এদেশের মানুষ বোঝে না? অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটা অবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে। গোটা ঢাকা শহরে একই কাজ তারা শুরু করেছে। মিথ্যা ককটেল ফুটিয়ে মামলা দিচ্ছে? গত শুক্রবার মতিঝিলে পরিত্যাক্ত বিআরটিসির দোতালা বাসে আগুন দিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খেয়ে চুপসে গেছেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। অথচ তিনি বিএনপিকে দায়ী করে তারস্বরে নাশকতার কথা বলে যাচ্ছেন। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসার সামনে থেকে চেকপোস্ট ও বেরিকেড প্রত্যাহার, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দীন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নসহ আটক সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩০ নভেম্বর রাত থেকে ৪ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত ১ হাজার ৩১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ###

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন