সোমববার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০ আশ্বিন ১৪৩০, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

কোনো দখলদারকেই ছাড় দেওয়া হবে না : সালমান এফ রহমান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩, ৩:২৯ পিএম

নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় যতো গুলো প্রাচীন স্থাপত্য অন্যের দখল আছে তা পর্যায়ক্রমে সরকারকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি। তিনি বলেন দখলদার যে দলেরই হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।


সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার সদ্য দখলমুক্ত ও সরকারের কতৃত্ত্বে আনা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ‘ব্রজ নিকেতন’ পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে ও দিক নির্দেশনায় গত ৩১ ডিসেম্বর দীর্ঘদিন বেআইনিভাবে দখলে থাকা পুরাতন এই স্থাপত্যটিকে দখলমুক্ত করা হয়। এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাড়িটিকে সংস্কার করে আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় কিনা তার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান সালমান এফ রহমান।

অন্যদখলকৃত বাড়ির বিষয়ে কি হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, নবাবগঞ্জে আরো ছয়টি বাড়ি এরকম দখল আছে। আর দোহারে তালিকা করা হচ্ছে।আইন মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা দখল মুক্তকরা হবে। আর গায়ের জোরে কেউ কারো সম্পত্তি দখল করতে পারবে না। পর্যায়ে ক্রমে উদ্ধার করা হবে সব সরকারি সম্পত্তি

সরকারি সম্পত্তি সরকারের দখলে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি বলেছেন, পুরনো স্থাপত্যগুলো দখলমুক্ত ও সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললে পর্যটনের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতির রূপরেখা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর তীর সংলগ্ন তৎকালীন জমিদার ব্রজন রায় প্রায় দুইশ’ বছর পূর্বে ব্রজ নিকেতন নামে প্রাসাদটি নির্মিত করেন। পেশী শক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের সহোদর অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আবুল হোসেন, আবুল কালাম খন্দকারসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অবৈধভাবে এই ‘ব্রজ নিকেতন’ স্থাপনাটি দখল করে রেখেছিলেন। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সম্পত্তি সরকারের দখলে রয়েছে।

পরিদর্শন শেষে সালমান এফ রহমান বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটনখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের আয়ের অন্যতম উৎস পর্যটন। পর্যটন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি করে এবং দেশের মোট আয় ও উৎপাদনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এরপর সমৃদ্ধ সংস্কৃতির লালন এর গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে নবাবগঞ্জ উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের মাধ্যমে সকল মানুষের জন্য শিল্প সংস্কৃতির প্রবাহ তৈরি করে মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সময়োপযোগী ও পরিকল্পনামাফিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের পর্যটন স্পটগুলোকে যদি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা যায়, তাহলে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে নবদিগন্তের সূচনা হবে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে বাড়িটির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ করবেন তারা।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও আন্তঃমাদ্রাসা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এসময় তিনি বলেন, দেহকে সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণ-প্রাচুর্যে পূর্ণ রাখতে খেলাধুলা অপরিহার্য। সুস্থ শরীর মনের যে শক্তি ও সুদৃঢ় বুনিয়াদ রচনা করে দেয়, তাতে মানুষ জীবনযুদ্ধে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে।

পরে তিনি দোহার উপজেলায় সুবিধাভোগীদের মাঝে শীতবস্ত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন