ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভুল স্বীকার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি

বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আনাম

প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে জনসমক্ষে ভুল স্বীকার করে আমি একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে যেন ভুল স্বীকার করাটাও আমার একটা ভুল হয়েছে। ‘মাহফুজ আনামের আত্মসম্মান থাকলে ডিজিএফআইয়ের দেয়া খবর প্রচারের জন্য তিনি পদত্যাগ করতেন,’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মন্তব্যের জবাবে মাহফুজ আনাম বলছেন, তাকে ‘আইসোলেট’ করার জন্যই এসব বলা হচ্ছে, এসব খবর অন্যরাও ছেপেছিল। সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনাব আনামের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘বিগত সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনা গোয়েন্দা বিভাগের দেয়া খবর যাচাই না করে প্রকাশ করে তিনি ভুল করেছেন Ñ এমন স্বীকারোক্তির পর আত্মমর্যাদা থাকলে মাহফুজ আনাম পদত্যাগ করতেন।’ এর প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি বাংলায় এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, আমাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যই এসব কথা বলা হচ্ছে। কারণ সে সময় ওই খবরগুলো অনেক সংবাদমাধ্যমই প্রকাশ করেছিল।
বিবিসি বাংলার মিজানুর রহমান খানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আনাম বলেন, এর মাধ্যমে সৎ সাংবাদিকতার ওপর একটা বিরাট অন্যায় অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি মনে করেছিলাম যে, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে জনসমক্ষে ভুল স্বীকার করে আমি একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করছি। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে যেন ভুল স্বীকার করাটাও আমার একটা ভুল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এর যে ফল হবে তা হলো সাংবাদিকরা নিজের ভুল স্বীকার করার কোনো রকম উৎসাহ আর পাবেন না।
মাহফুজ আনাম বলেন, ডিজিএফআইয়ের দেয়া এসব খবর বাংলাদেশের অনেক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, টিভিতে এসব রেকর্ডিং বাজিয়ে শোনানো হয়েছে। তার পরও এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যেন ডেইলি স্টার এককভাবেই এগুলো ছেপেছে। ‘আত্মসম্মান থাকলে তিনি পদত্যাগ করতেন,’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন, আমি মনে করি এটা আমাকে আইসোলেট করে বলা হচ্ছে। ব্যাপারটা আরো ব্যাপক। ওই খবরগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই না করে ছাপানোর ফলে আমি যথাযথ সম্পাদকীয় বিবেচনাবোধের পরিচয় দিতে পারিনি Ñ আমার এই আত্মোপলব্ধিমূলক মন্তব্য থেকে সাংবাদিকতার একটা বিরাট দুর্বল জায়গা উন্মোচিত হয়েছে। আমরা যে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার চাপে থাকি, সেটা বেরিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে যেন পরিস্থিতি এদিকে না যায় Ñ আলোচনাটা সেদিকে গেলে দেশের সাংবাদিকতার জন্য লাভ হবে। তিনি বলেন, এখনো তো আমরা র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মৃত্যুর খবর ওরা যেভাবে দেয় সেভাবেই ছেপে যাচ্ছি। এটা তো একটা বিরাট ইস্যু, যা গভীরভাবে দেখা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আজ আরো বলেন, ডিজিএফআইয়ের দেয়া তথ্য তারা যেভাবে দিয়েছে সেভাবেই ডেইলি স্টার ছেপে দিয়েছে, এমন কথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় মাহফুজ আনাম বলেন, তিনি যে ইঙ্গিত করছেন তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ডেইলি স্টার এমন কিছু করেনি, বলেন তিনি। মাহফুজ আনাম বলেন, মাত্র তিনটি রিপোর্ট নিয়ে কথা হচ্ছে। অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল দু’বছর। সে সময় ডেইলি স্টার প্রায় দুশো সম্পদকীয় লিখে নির্বাচন এবং জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Forid ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:২৫ পিএম says : 0
i agree with u sir
Total Reply(0)
Avana Khan ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:৩৬ পিএম says : 0
দালালি করে বেশি দিন টিকা যায় না। হলুদ সাংবাদিকতা করে কিছুদিন টিকা যায়। শেষে ধরা খেতে হয়।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন