ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

অসংখ্য ছুরিকাঘাত নিয়ে মাটির নিচ থেকে কেঁদে উঠলো শিশুটি

প্রকাশের সময় : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। অথচ এই মানুষেরই কারো কারো আচরণে ও বর্বরতায় পশুত্বও হার মানে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডে যা শুনে মানুষ শিউড়ে উঠছে। সেখানে এক নবজাতককে অসংখ্যবার ছুরিকাঘাত করে জীবন্ত মাটিচাপা দেয়ার চরম নির্মমতার ঘটনা ঘটেছে। নৃশংসতার অনেক খবরই মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু নৃশংসতা কোন মাত্রায় পৌঁছুলে কেউ এমন কা- করতে পারে। মানুষের এই নির্মমতা দেখে সবাই শিউড়ে উঠছে।
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খন কায়েন প্রদেশের ওয়াংগেই জেলায় কাজিত ক্রোংগুয়ুত নামের ৫৩ বছরের এক নারী কৃষক মঙ্গলবার সকালে শিশুটির সন্ধান পান । তিনি বলেন, তার ছয়টি গরু মাঠে যখন ঘাস খাচ্ছিল তখন তিনি কান্নার অস্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পান। তিনি লক্ষ্য করেন, সদ্য খোঁড়া মাটির একটি গর্ত থেকে এই আওয়াজ আসছে। গর্তটি লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। লতাপাতা সরিয়ে তিনি হাত দিয়ে মাটি স্পর্শ করা মাত্র চমকে উঠেন। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা শিশুটির একটি পায়ে তার হাত লাগা মাত্র তিনি ভীষণভাবে ঘাবড়ে যান। তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করতে তৎক্ষণাৎ তার পরিবারের সদস্যদের ডাকেন। তারা মাটি খুঁড়ে যা দেখেন তা বিস্ময়কর। দেখেন একটি সদ্যোজাত শিশু যার সারা শরীরে অসংখ্য ছুরির আঘাতের চিহ্ন। চরম যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গলা ফাটিয়ে কাঁদছে। হয়ত মাকে খুঁজছে। তারা শিশুটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পুলিশের অনুমান, শিশুটির এমন অবস্থা করেছে তার মা-ই। থাইল্যা-ে গর্ভপাত বেআইনী হওয়ায় মাঝে মাঝেই এরকম শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে। তবে এমন নৃশংস কা- কমই দেখা যায়। নিজের মা তাকে মেরে ফেলতে চাইলেও ওই কৃষক মহিলার সেবায় শিশুটি এখন বিপদের বাইরে। এই জন্যই বোধহয় বলে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’।
কজিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ তাদের পোষা কোন প্রাণীকে জীবন্ত মাটি চাপা দিয়েছে। তবে পরে আমি শিশুর একটি পা দেখতে পাই। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি এবং পরিবারের সদস্যদের ডাকি। তার স্বামী প্রনচাইও শিশুটি উদ্ধারে অংশ নেন। তিনি বলেন, প্রায় ২০ সেন্টিমিটার গভীর গর্তে শিশুটিকে মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল।
সেখানকার পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থাকে জানান, অপরাধীদের ধরার জন্য সেখানে পুলিশের অভিযান চলছে। তিনি জানান, প্রদেশের একটি হাসপাতালে শিশুটিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং নবজাতকটি এখন বিপদমুক্ত। পুলিশ এই ভয়ংকর অপরাধের পেছনের মোটিভ এখনো উদঘাটন করতে পারেনি।
থাইল্যান্ডে গর্ভপাত বেআইনী হলেও গর্ভপাতের ঘটনা সেখানে খুবই সাধারণ। দেশটি রক্ষণশীল সমাজের হলেও সেখানে কিশোরীদের গর্ভধারণের হার অনেক বেশী। সমাজে বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা নিন্দনীয় হলেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম এক সেক্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। সেখানে কলংকের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিবাহ বহির্ভূত নবজাতকের হত্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, অগভীর মাটির গর্তে চাপা দেয়ায় সম্ভবত শিশুটির শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যায়নি। তারা বলছেন, অলৌকিক ব্যাপার হচ্ছে শিশুটির হার্টবিট, ব্লাড প্রেশার ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা খুবই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে যার কারণে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা শতভাগ। যে নার্সরা শিশুটির ক্ষতস্থানগুলো পরিষ্কার করেছেন তারা জানিয়েছেন, ক্ষতস্থানগুলোতে কোন সংক্রমণ ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বেআইনীভাবে প্রায় দুই হাজার ভ্রুণ হত্যা করে রাজধানী ব্যাংককের একটি মাঠে লুকানোর কাজে সাহায্য করার অভিযোগে এক লাশ সৎকারককে ৪০ মাসের কারাদ- দেয়া হয়। সূত্র : এএফপি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Ariful Haque ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১১:৪৭ এএম says : 0
আমরা কি আইয়ামে জাহেলিয়াতের চেয়েও খারাপ সময় পার করছি?
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন