বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯, ১১ মুহাররম ১৪৪৪

ধর্ম দর্শন

জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মাদ হাসানুল বারী ফেরদাউস রামপুরা, ঢাকা।
জিজ্ঞাসা : জঙ্গি নির্মূলে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা জরুরি কিনা জানতে চাই?
জবাব : (পূর্ব প্রকাশিতের পর) এ ধরনের মানসিকতা ও ধারণা থেকে দূরে থাকা জরুরি। জঙ্গি শব্দটি ফার্সি ও উর্দু ভাষার শব্দ। শব্দের মূল হল জঙ্গ। পাকিস্তানের বহুল প্রচারিত ও প্রসিদ্ধ একটি পত্রিকার নাম দৈনিক জঙ্গ। জঙ্গ শব্দটির বহু অর্থ ব্যবহৃত হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, তুমুল কলহ, লড়াই। জঙ্গি অর্থ যোদ্ধা। রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে গোপনে হামলা, অতর্কিত আক্রমণ, হত্যা করা, আত্মঘাতী হামলা কিংবা কোন নির্দিষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদ-নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জনগণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করাকে জঙ্গিবাদ বলে। আর জঙ্গিরাই এসব কাজ করে।
জঙ্গি কারা? কে তাদের জোগানদাতা এটা খতিয়ে দেখে তাদের শনাক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আইএসসহ নামে-বেনামে বেশকটি সংগঠন নানা সন্ত্রাসী-জঙ্গি কর্মকাÐের মাধ্যমে পবিত্র ধর্ম ইসলাম, মুসলিম উম্মাহকে নানাভাবে কলঙ্কিত ও দেশ-জাতির বিরাট ক্ষতিসাধনের হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইএসের নেতাকর্মীরা সত্যিকার ইসলামপন্থি, ইসলাম প্রচারক ও দ্বীনি আন্দোলনকারীদের বিতর্কিত করতে জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশসহ ইসলামী দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নতির পথ রোধ করতে এবং এসব দেশে তাদের সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে একে কাজে লাগাচ্ছে। ইসলাম নামধারী জঙ্গি সংগঠনগুলো হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ও ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য আদর্শের উগ্র উন্মাদনায় মেতে ওঠে। পার্থিব-অপার্থিব কল্যাণের অলীক আশায় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। তারা তাদের হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কিছু বিভ্রান্ত তরুণ মুসলমানকে এহেন কাজে ব্যবহার করছে।
বেশ কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মেধাবী উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিভিন্ন কর্মকাÐ ঘটাচ্ছে। এ পর্যন্ত এত্তসব জঙ্গি শনাক্ত হলেও একজনও কোনো মাদ্রাসার ছাত্র নয়। অল্প সংখ্যক মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থী বুঝে হোক না বুঝে হোক তাদের সেই ফাঁদে পা দিয়েছে। অথচ এসব নামিদামি ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনুধাবন করা উচিত ছিল যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনো জঙ্গি, সন্ত্রাসী, বোমাবাজি, হত্যা, গুপ্তহত্যা, আত্মঘাতী হামলাসহ কোন ধরনের ফেতনা-বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা সমর্থন করে না। পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের কারণে হোক কিংবা দুনিয়ার লোভ-লালসা, স্বার্থ হাসিল বা আন্য যে কোনো কারণে হোক যারাই এই পথে পা বাড়িয়েছে তারা জঘন্যতম অপরাধে জড়িত হয়ে দুনিয়ায় আরাজকতা সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলার জন্ম দিচ্ছে। যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
বিশ্বের সকল বরেণ্য আলেম-ওলামা, পীর-মাশাযেখ, ইসলামী চিন্তাবিদগণ এবং মূলধারার সকল ইসলামী সংগঠন ও সংস্থা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এ ধরনের ব্যক্তিরা বিভ্রান্ত, বিপথগামী। এরা ইসলামের শত্রæদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। ইসলামের শত্রæরা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ওরা এদেরকে ইসলামের ভাব-মর্যাদা ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করছে। এসব ব্যক্তি কোনভাবেই ইসলামের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। তারা ইসলামকে বিশ্ববাসীর সামনে বিকৃত ও কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। পৃথিবীতে ফেতনা-ফাসাদ, রক্তপাত, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা সৃষ্টি করাই ওদের উদ্দেশ্য।
অথচ দুনিয়ায় ফেতনা-ফাসাদ, রক্তপাত, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা, মানুষ হত্যা, যেকোনো ধর্ম, মতাদর্শ ও সভ্যতাবিরোধী। ফেতনা-ফাসাদ, অরাজকতা, ত্রাস সৃষ্টি করাকে ইসলাম ধর্মে পরিষ্কার হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। মূলত কোনো ধর্ম, মতবাদ বা আদর্শ সহিংসতা বা সন্ত্রাস শিক্ষা দেয় না। গুলশান ও শোলাকিয়ায় ঘটে যাওয়া অতর্কিত সন্ত্রাসী-জঙ্গি হামলার ঘটনা দেশের সচেতন কোনো নাগরিক সমর্থন করতে পারেনি। সম্প্রতি সিলেটে ঘটে যাওয়া কাহিনীটিও মেনে নিতে পারছেন না দেশপ্রেমিক জনগণ। সরকার থেকে নিয়ে আলেম-ওলামা, ইসলামী দলসমূহ এবং সাধারণ জনগণও এর প্রতিবাদ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে জোরালো প্রতিবাদ করতে দেখা যায় দেশের নাগরিকদের।
উত্তর দিচ্ছেন : এহসান বিন মুজাহির

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন