ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮, ০২ রমজান ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিএনপির কাউন্সিল একটা তামাশা ওবায়দুল কাদের

প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার ঃ অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের নামে বিএনপির কাউন্সিল একটা তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ যৌথসভা হয়। আজ সোমবার বেলা তিনটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন ও ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। চেয়ারপারসন ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তাদেরকে অপমান না করার জন্য গোপনে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে। কাজেই বিএনপি কাউন্সিল নিয়ে রঙ-তামাশা করছে।
তিনি বলেন, আমাদের কাউন্সিল হবে। সেখানে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হবে, সমর্থন হবে। তবে যদি কেউ প্রার্থী হতে চান তাতে কোন বাধা নেই। আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রকাশ্যে নির্বাচন হবে।
কাদের বলেন, বিএনপির সকালে একজন, বিকেলে একজন নেতা নির্বাচিত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচিত হয় সম্মেলনের মাধ্যমে। কাউন্সিল ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটি পরিবর্তন হয় না। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি যখন-তখন পরিবর্তন হয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগ ফোবিয়ায় আক্রান্ত। কথায় কথায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করে। তারা (বিএনপি) আন্দোলনে ব্যর্থ, দায়ী আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে আসে নাই, দায়ী আওয়ামী লীগ। পৌর নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, দায়ী আওয়ামী লীগ। মির্জা ফখরুলের ভাই মেয়র হয়েছে, দায়ী কে? আওয়ামী লীগ। ইউনিয়ন পরিষদে তারা প্রার্থী দিতে পারে নাই, এটার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ। পত্রিকাতে আমরা এমনও খবর দেখেছি, বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতা ধানের শীষ প্রতীক না নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কারণ, এখন তাদের (বিএনপি) মধ্যে একটা ভীতি কাজ করছে।
সেতু মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে অপ-প্রচার চলছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অপ-প্রচারকে প্রতিহত করতে হবে। নতুন ষড়যন্ত্র করছে, সরকার পরিবর্তন করার চক্রান্ত করছে। আমি স্পষ্ট একটা কথা বলতে চাই, সরকার পরিবর্তনের জন্য বিএনপিকে আরেকটা নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
শত্রু ও মিত্রের বিপক্ষে জেতা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আজকের ক্রিকেট ফাইনাল খেলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, শত্রুর বিপক্ষে জেতা আর মিত্রপক্ষের বিপক্ষে জেতার অনুভূতি এক রকম নয়। কাদের বলেন, আর্জেন্টিনার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের যে আনন্দ, তাদের কাছে বিশ্ব জয়েও সেই আনন্দ নেই। তেমনি একাত্তরের শত্রুপক্ষের বিপক্ষে জেতা আর মিত্রপক্ষ ভারতের বিপক্ষে জেতার অনুভূতি এক হবে না! পাকিস্তানের সঙ্গে জেতাটা ছিল মর্যাদার লড়াই। মিত্রদের সঙ্গেও জিততে হবে। বিশ্বের যেকোনো ক্রিকেট শক্তিকে পরাজিত করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে।
তিনি বলেন, ‘তারপরেও বলব, হারি জিতি নাহি লাজ। ভারতও দুর্বল দল নয়, আমরাও শক্তিশালী। দেখি কী হয়! পরাজয় হলে যেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিতিতে যেন ভাটা না পড়ে!’
যৌথসভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপির মতো একটি অগণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতারা, বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ওয়ান ইলেভেন নিয়ে কটাক্ষ করছেন। তারা এটাও বলছেন, ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিসিয়ারী আওয়ামী লীগ। আমরা বলছি, ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিসিয়ারী আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি। কারণ ওয়ান ইলেভেন না হলে বিএনপি আরও তীব্র জনরোষে পড়ত। তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের জন্য একমাত্র দায়ী বিএনপিবিএনপির অগণতান্ত্রিক মনোভাব এবং ক্ষমতা লোভের চিন্তা থেকে এই ঘটনার উৎপত্তি হয়েছে। বিএনপি যদি তখন গণতান্ত্রিক পন্থায়, সংবিধান অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতো, তারা যদি ২০০৬ সালে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন দিতো। তাহলে এ দেশের মানুষকে এই ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
হানিফ বলেন, কিন্তু বিএনপি কখনও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী ছিলো না। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় গেছে, অশুভ শক্তির সমর্থন নিয়ে ক্ষমতা আকড়ে রাখার চেষ্টা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর বিচারপ্রার্থীরা হতাশ ও বিচার প্রার্থীদের মনে সন্দেহ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত-বিএনপি এবং তাদের লবিস্টরা যে সুরে কথা বলছে, সে কথাটা আজকে প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্যে বলেছেন।
তিনি বলেন, আগামী ৮ তারিখ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়। আপনারা নিশ্চই জানেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার আমরা করছি, ৪ জনের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। নিজামীর মৃত্যুদ- আপিলে বহাল রেখেছে। এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যথা সময় কার্যকর হবে।
কামরুল বলেন, মীর কাশেম আলী ধনাঢ্য ব্যক্তি। যিনি কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন এই বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। তার লবিস্ট ডেভিড ক্যামেরুন আন্তর্জাতিক বিশ্বে এই বিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এখন পর্যন্ত তার (কাশেম) অর্থ সক্রিয়। তার দেহটা কারাগারের কনডেম সেলে, কিন্তু তার অর্থ বাইরে সক্রিয়, তৎপর এবং ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে সকল রায়ের সময় যেভাবে মাঠে ছিলাম, ৮ তারিখ তেমনি মাঠে থাকবো। আজকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এই বিচার সম্পর্কে কথা উঠছে। প্রসিকিউশন রাজনীতি করছে, এ কথা উঠছে। অর্থাৎ জামায়াত-বিএনপি এবং তাদের লবিস্টরা যে সুরে কথা বলছে, সে কথাটা আজকে প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্যে বলেছেন। প্রসিকিউশন এবং ইনভেস্টিকিউশনকে এক কাতারে দাঁড় করানোর কথাও তিনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন। অথচ এই প্রসিকিউশন ২৩টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। ২ জনের মৃত্যুদ- হয়েছে এবং সকল মামলা তারা (বর্তমান প্রসিকিউশন) সফলভাবে পরিচালনা করছেন।
মন্ত্রী কামরুল আরও বলেন, আমরা এত কিছু বুঝি না, আমরা প্রত্যাশিত রায় চাই। একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, একজন সাধারণ বিচারপ্রার্থী হিসেবে আমি এই মামলারও বিচারপ্রার্থী। বিচারপ্রার্থীরা আজ হতাশ। এই বিচারের রায় কি হবে তাদের মনে একটা সন্দেহ আছে। আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের সন্দেহ দূর হবে। আমরা প্রত্যাশিত রায় ৮ তারিখ পাবো।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ৮ তারিখ মীর কাশেম আলীর রায় ঘোষণা হবে। আমরা অধির আগ্রহে বসে আছি, তার সর্বোচ্চ সাজা দেখার জন্য। শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, যদি ওলট-পালট হয় তাহলে শহীদদের আত্মা তাদেরকে ক্ষমা করবে না। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন