ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

বিজেপির অলীক কল্পনা ফুটে ওঠেছে ‘কাশ্মীরিস্তানে’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ ও জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা বাতিল করার বিষয়টি সা¤প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত ঘটনা। অনেক ভাষ্যকার এসব ভীতিকর ঘটনাকে ভারতের অন্যত্র ঘটতে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের মহড়া হিসেবে অভিহিত করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের ক্ষমতাসীন দলগুলো কাশ্মীর ও অন্যান্য স্থানে যে দমননীতি পরিচালনা করে আসছেন, এটি তারই ধারাবাহিকতা। সাধারণ কাশ্মীরীদের ভাগ্য গুরুতর এবং গণতন্ত্রের ভারতের দাবিটি সবচেয়ে মারাত্মক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। মোদি সরকার অতি স¤প্রতি কাশ্মীরে যা করেছে সেটাকে নিশ্চিতভাবেই বিদেশীভীতি, মুসলিমবিরোধী নীতি, রাজনৈতিক মঞ্চ ও হতাশাবাদী রাজনৈতিক পদক্ষেপের মিশ্রণ হিসেবে অভিহিত করা যায়। এই সময় ও কেন এমন বিধ্বংসী উপায়ে কাশ্মীরের মর্যাদা বাতিল করা হলো তা নিয়ে দুটি মন্তব্য এখানে করা হচ্ছে। প্রথমত, হিন্দু ডানপন্থীদের মতে, নিয়ন্ত্রণ রেখার উভয় পাড়ে পুরো কাশ্মীর পাকিস্তানের পক্ষে রয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘ সংগ্রামে এটি সাধারণভাবেই দেখা গেছে। আর ভারত প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে কাশ্মীরীদের সব অসন্তোষের ম‚লে রয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু তা সত্তে¡ও অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের সময়টিও কম গুরুত্বপ‚র্ণ নয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান ও ভারত পুরো মাত্রায় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ফিরে এসেছিল। ভারতের জন্য এটি ছিল বিজেপির একটি লজ্জাজনক পরাজয়। তাদের সামরিক বাহিনী যে অযোগ্য, অদক্ষ তা প্রকটভাবে ফুটে ওঠেছিল। পাকিস্তানকে পায়ের তলায় ফেলে দিতে তারা পারেনি। কিন্তু তা সত্তে¡ও মে মাসের নির্বাচনে মোদি দারুণ জয় পায়। সেটা হয় তার প্রবল প্রপাগান্ডা মেশিনের মাধ্যমে, হিন্দুত্ববাদী নির্বাচনী ঘাঁটি, পুঁজিবাদীদের সহায়তা। নির্বাচনের এই জয় তার ভোটারদের মধ্যে মুসলিমবিরোধী, পাকিস্তানবিরোধী প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়। এটা উচ্চ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়নি। সময়টার দিকে লক্ষ্য করা যেতে পারে: নভেম্বরে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য বিধান সভা ভেঙে দিয়ে বিজেপি বিপুল বিজয় লাভ করে। এরপর লজ্জাজনক ক‚টনীতির রেশ ধরে মার্চ ও এপ্রিলে পাকিস্তানের সাথে শান্তি স্থাপন করে। তারপর আগস্টে সামরিকভাবে নিরাপদ করে কেন্দ্রীয় ভূখন্ড হিসেবে কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল আসলে ছিল একটি আইনগত অভ্যুত্থান। গত ফেব্রুয়ারিতে বালাকোটে পরাজয়ের পর বড় কিছু করার প্রয়োজন ছিল বিজেপির। এ কারণেই এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে তারা। অর্থাৎ কাশ্মীর ছিল পাকিস্তানের জন্য একটি প্রক্সি। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের জন্য কয়েক মাস, এমনকি হয়তো কয়েক বছর ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিজেপি। ফলে এটি ঘটা ছিল অনিবার্য। কিন্তু যেভাবে তা করা হয়েছে, সেটিই সবাইকে আতঙ্কিত করছে।কাশ্মীরে আরেক ধরনের দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্সি চলছে। ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেটা পরীক্ষা করা হয়েছিল। গোধরা ট্রেনে হামলার রেশ ধরে ওই সময়ের গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুসলিমদের টার্গেট করেন। তাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গাবাজদের লেলিয়ে দেন। এরপর শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে গুজরাটে মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে রাখা হয়। গুজরাটে ওই সময় যেসব সহিংস পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল তাতে আমলাতন্ত্র ও সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা করেছিল। কাশ্মীরে কাশ্মীরীদের সন্ত্রস্ত্র করার জন্য সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর কোনো দাঙ্গাবাজের দরকার পড়েনি। তারা নিজেরাই ওই কাজটি করছে। গুজরাট ছিল মোদির রাজনৈতিক গবেষণাগার। এখান থেকেই তিনি জাতীয় ক্ষমতায় ওঠেছিলেন। সেখানকার গবেষণাই কাশ্মীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এখন পাকিস্তানকে ধীরে ধীরে কাশ্মীরিস্তানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এটা এখন একদিকে অলীক কল্পনা, অন্যদিকে গবেষণাগার। অলীক কল্পনায় কাশ্মীর পরিণত হয়েছে বশ্যতা স্বীকার করা পাকিস্তান এবং ভারতবর্ষ ভাগ আংশিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। অধিকন্তু এই অলীক কল্পনায় কাশ্মীর হলো বলিউড সিনেমার ভালোবাসার জায়গা। এখানকার লেক আর পাহাড়গুলো হলো পাকিস্তানের নারীকৃত সংস্করণ, এখানকার সুন্দরী নারীরা লুফে নেয়ার জন্য তৈরি। কাশ্মীরিস্তানে গবেষণা চালানো হবে ভারতের সংবিধানকে ধীরে ধীরে নির্বাহী শক্তি ও সামরিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করা। সাউথ এশিয়ান মনিটর।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Md Hashibur Rahman ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৯ এএম says : 0
bangali akta hindukew dekhlam na kashmirider pokkhe.. mane atai promanito bisoyta jatigoto
Total Reply(0)
Mujibur Rahman ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১:০৯ এএম says : 0
রাজাকার পাওয়া যায় বিশ্বের সর্বত্র এরমধ্যে উৎকৃষ্ট রাজাকার ভারত উপমহাদেশ! সর্ব প্রথম রাজাকারের জন্মহয় ভারতে বৃটিশদের আগমনে আরএসএস সংগঠনের মাধ্যমে! এরপর একাত্তর সালে পুর্ব পাকিস্তানে! স্বাধীন বাংলা দেশে ভারতীয় রাজাকারের সক্ষমতা পরীক্ষিত, এখন চলছে রাজাকার উন্নয়ন প্রকল্প কাশ্মীর উপত্যকায়!
Total Reply(0)
Poran Hossain ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১:১০ এএম says : 0
ফরমুলা কাজ করবে না। পন্ডিতরা পন্ডিত হতে পারে তবে জীবনের বিনিময়ে পন্ডিত সাজবে না।
Total Reply(0)
মাহের সাত্তার ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১:১২ এএম says : 0
বিজেপির অলিক কল্পনাই সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে ধ্বংস করে দিবে, সেই সাথে হিন্দুদের পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেবে বহুকালের জন্য।
Total Reply(0)
Nadim ahmed ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ৯:১৪ পিএম says : 0
Why Awami League is still sucking the dick of India?
Total Reply(0)
তিতান ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৪২ পিএম says : 0
বিজেপির কপালে দুঃখ আছে
Total Reply(0)
কামরুজ্জামান ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৪৩ পিএম says : 0
কাশ্মীরে নির্যাতন বন্ধ করুন
Total Reply(0)
Md Azadul Islam ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ৯:৪৭ পিএম says : 0
আল্লাহ তুমি কাশ্মীর সহ সারা পৃথিবির মুসলমানদের ওপর রহমত বর্ষন করুণ।
Total Reply(0)
কাওসার সিদ্দিক ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১১:৩৩ পিএম says : 0
অপেক্ষা করুন,আগুন জ্বলে গেলে নেভানো কঠিন হয়ে যাবে
Total Reply(0)
কাওসার সিদ্দিক ২৫ আগস্ট, ২০১৯, ১১:৩৪ পিএম says : 0
অপেক্ষা করুন,আগুন জ্বলে গেলে নেভানো কঠিন হয়ে যাবে
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন