ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ব্রিটেনের গ্রামে ব্রেক্সিটের প্রভাব

প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ভোট তো দিলো ব্রিটেনবাসী। তবে এর প্রভাব নিয়ে পরিষ্কার কিছু ভাবতে পারছে না তারা। ইতোমধ্যেই দেশটির গ্রামাঞ্চলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এতে করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশটির কৃষক আর পরিবেশবাদীরা। অনেক কৃষকের আশঙ্কা, কৃষি ভর্তুকি আর থাকবে না। তারা মনে করছেন তাদের জমিকে অনুর্বর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। বলে দেয়া হবে এসব জমি ফসল উৎপাদনের যোগ্য নয়, তাই আর ভর্তুকি দেয়া হবে না। অন্যদিকে পরিবেশবাদীদের শঙ্কা,  নতুন পরিবেশ মন্ত্রী আদ্রেঁয়া লিডসম বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনকে কাটছাঁট করবেন। ফলে সুরক্ষা হারাবে প্রাণী বৈচিত্র্য। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন নীতি বদলের বিষয়টি আগে থেকে বলা কষ্টকর। তবে দীর্ঘ মেয়াদের প্রকৃতি সুরক্ষা বহাল থাকবে বলেই মনে করা হছে। তবে এ বিষয়ে তহবিলের যোগান কী করে হবে তা আলাদা বিতর্কের বিষয়। বর্তমানে কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হয় বছরে ৩শ কোটি পাউন্ড। এর মধ্যে বড় কৃষকদের পকেটে যায় ১শ কোটি পাউন্ড। ছোট কৃষকদের দেয়া হয় অনুদান। আর এ অনুদান যতটা জমির মালিক বলে দেয়া হয়, তার চেয়ে বেশি দেয়া হয় বন্যপ্রণীর দেখভাল করার জন্য দেয়া হয়।  ব্রেক্সিটের পক্ষের নীতি নির্ধারকরা ২০২০ সালের মধ্যে ভর্তুকি প্রত্যাহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে যতদিন রক্ষণশীলদের সরকার অব্যাহত থাকবে ততদিন হয়তো ভর্তুকি তহবিল কমানো হবে না।  তবে সার্বিক নীতিতে যখন কৃষি ও পরিবেশ তহবিল কমানোর উদ্যোগ নেয়া হবে তখন, কৃষক ও পরিবেশবাদীদের জন্য অর্থ ছাড় অবশ্যই কমে যাবে।
পরিবেশ মন্ত্রী লিডসম বন্যপ্রণী শিকারের পক্ষের মানুষ। তার নির্বাচনী এলাকা নর্দাম্পটনশায়ারের গ্রামীণ এলাকা। তার ভোটার তালিকার বেশিরভাগই কৃষক। এক বক্তৃতায় ভর্তুকি হ্রাসের ইঙ্গিত দেন। বলেন, কিছু ভতুর্কি আছে যাকে মনে হয় পরিবেশ বাণিজ্যের জন্য ঋণ দেয়া হছে। এখন কৃষকরা যা করেন তা অর্ধেক কৃষি কাজ, অর্ধেক পরিবেশ সংরক্ষণ। আর এটা করতে হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধি বিধানের কারণে। এই ভর্তুকি তখনই কাজের হবে যখন বড় জমিতে ভেড়া পালন হবে, আর পাহাড়ি এলাকায় প্রজাপতি রক্ষায় ব্যয় করা হবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্যের বর্তমান পরিবেশ নীতিতে ইউরোপিয় ইউনিয়নের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ব্রাসেলসে নির্ধারিত মান অনুযায়ী যুক্তরাজ্যকে জলের মান, উপকূলের পরিবেশ এবং ভেক্যুয়াম ক্লিনারের মতো যন্ত্রের কার্যকারিতার উন্নয়ন করতে হয়। ব্রিটেনের পরিবেশবাদীরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিবিধানের কারণে তারা অনেক লাভবান হয়েছেন।
ব্রিটেনের বায়ুমান উন্নয়নের জন্যও চাপ রয়েছে। এখন ভোটের ফলাফলের পর দেশটি এ বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যেতে পারবে। পরিবেশবাদীরা বলছেন ব্রেক্সিটের ছুতোয় সরকার যদি পরিবেশ মানের জন্য ক্ষতিকর কিছু করে তবে জোর লড়াই হবে। তারা বলেন ব্রিটেনের পরিবেশ কেন পড়শিদের চেয়ে খারাপ হবে। তার ইউ পরিবেশ নীতির অনুরূপ নীতি দেখতে চান। বর্তমান আইনে, কেউ যদি মনে করেন যে সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে না, তবে সে ব্যক্তি আদালতে যেতে পারেন। পরিবেশবাদীরা গত বছর জলপ্রবাহ সম্পর্কিত এক মামালায় মন্ত্রীদের আদালতে নিয়ে গিয়েছিলো।
এদিকে, ব্রিটেনের জাতিয় কৃষক ইউনিয়ন বলেছে, সংগঠনটি বড় পরিসরে একটি পরামর্শ সভা করবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক বিষয় আছে, যেগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সমধান করতে হবে। অনুদানের জন্য কৃষকদের দরকার একটি সরল প্রক্রিয়া। কিন্ত কৃষকদের সামনে পড়ে আছে বাণিজ্য চুক্তি, আর্থিক সহায়তা ও আইন সহায়তার মতো অনেক বিষয়। এগুলোকে তুলে ধরতে হবে এবং দ্রুত সমাধান করতে হবে। অন্যদিকে, দেশটির জমি-মালিক সমিতি একটি নতুন খাদ্য, কৃষি ও পরিবেশ নীতি চাইছে। যা একটা অভিন্ন কৃষিনীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে।
এখন প্রশ্ন হলো সরকার কী করবে। তারা কি পরিবেশবাদী ও কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবিকে অগ্রাহ্য করবে। নাকি এখনকার নীতিকেই অব্যাহত রাখবে। অথবা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি মেনে একটা বৈপ্লবিক নীতি প্রণয়ন করবে। এবং উঁচুভূমিতে বিপুল ভর্তুকি অব্যাহত রাখবে। রক্ষণশীল দলের পরিকল্পনা হলো আগামী ২৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রাণবৈচিত্র্য নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। আর এ লক্ষ্যে কাজও চলছে। তবে এ নীতিমালার সংজ্ঞা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিবিসি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন