ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল (বুধবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রকল্পের জাতীয় কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এই স্থাপনা নির্মাণ কাজ ‘যথাযথভাবে’ শেষ করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল হক খান বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য উপস্থাপন করেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।
তিনি বলেন, বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ও দ্রুততার সঙ্গে শেষ করলে নির্ধারিত সময়েই এর নির্মাণ কাজ হবে ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুতের ওপর বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের জ্ঞান অর্জিত হবে। এছাড়া এ প্রকল্পে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও হবে।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান গত ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২০২১-২০২২ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এ সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠান এটোমস্ট্র্যোসপোর্ট সঙ্গে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর চুক্তি হয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের। সে অনুযায়ী ২৪০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হবে; যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)। ৫০ বছর আয়ুর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২১ সালের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৪ সালের অগাস্টে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় কোম্পানি গঠন করতে সংসদে বিল পাস হয়। আইন অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের হাতে। আর কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব পাবে ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ’। ১৯৬১ সালে পরামাণু কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার পর ১৯৬৩ সালে প্রস্তাবিত ১২টি এলাকার মধ্য থেকে বেছে নেয়া হয় রূপপুরকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রায় ৫০ বছর আগের নেয়া সেই উদ্যোগ সক্রিয় করে তোলা হয়। দ্রুত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০১০ সালে সংসদে প্রস্তাব পাস করে গঠন করা হয় একটি জাতীয় কমিটি। ওই বছরই রাশিয়ার সঙ্গে একটি কাঠামো চুক্তি করে সরকার এবং ২০১১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ দুই দেশ চুক্তি করে। প্রস্তাবিত এ কেন্দ্রের জন্য আগেই অধিগ্রহণ করা হয় ২৬২ একর জমি।
এটোমস্ট্র্যোসপোর্ট-এর নকশায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত ‘সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি’ দিয়ে রূপপুরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এর নিরাপত্তা নিয়ে ‘দুশ্চিন্তার কিছু’ থাকবে না। চুক্তি অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়াই ফেরত নিয়ে যাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জাতীয় কমিটির তৃতীয় বৈঠক হয়েছিল ১০১৩ সালের ৭ অগাস্ট।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বুধবার চতুর্থ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান এসএ সামাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মশিউর রহমান, তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মার ব্যয়ে অন্য প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে না সংসদে প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য মোট ২৮ হাজার ২৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে। এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পের সব টাকা বাংলাদেশের মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের অন্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। প্রত্যেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, টাকার কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় প্রকল্প নেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। কাজেই অন্য কোনো প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, সব টাকা দেশের মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। কারো আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা এতে নেই। দক্ষিণ বাংলার মানুষের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ সহজ করা এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্যে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে ব্যয় হবে মোট ২৮ হাজার ২৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এতে কারো আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা নেই। এর প্রতিটি রড, ইট, পাথর, সিমেন্ট আমাদের জনগণের টাকায় কেনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের আনীত অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে কথিত দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাংক একপর্যায়ে এ প্রকল্পে পুনরায় ফিরে আসার ঘোষণা দিলেও নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে দীর্ঘসূত্রতার পথ অবলম্বন করায় আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাদের ঋণ নিইনি। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সস্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে এবং ২০১৮ সাল নাগাদ এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে সংসদকে জানান তিনি।
প্রকল্প অর্থের হিসাব নিতে এমপিদের নির্দেশ
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প এবং কাজগুলোর যথাযথ খোঁজ-খবর নিন। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে জনগণের স্বার্থে খরচ হচ্ছে কি না, তার পাই পাই হিসাব নিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার যার নিজ নিজ এলাকায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে থেকে যে উন্নয়ন প্রকল্প বা অবকাঠামো বা সামাজিক ক্ষেত্রে যে সমস্ত উন্নয়ন কাজ চলছে বা হাতে নেওয়া হয়েছে Ñ যদি সংসদ সদস্যরা যথাযথভাবে সেগুলো তদন্ত করেন এবং এসব টাকার পাই পাই টাকা যা জনগণের টাকা, সেই টাকা যথাযথভাবে জনগণের স্বার্থে খরচ হচ্ছে কি না সেটা দেখেন, তাহলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান
চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৭৫ হাজার একর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান এবং আরো ৪০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় বৃদ্ধির উদ্দেশে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কাজ করছে।
দিদারুল আলম জানতে চান, বর্তমান সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে গৃহীত সব পদক্ষেপের কথা বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন, বেজাকে এ পর্যন্ত ৪টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো নরসিংদীর এ কে খান অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সীগঞ্জের আবদুল মোমেন অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইকোনমিক জোন এবং মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন।
প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশের সুযোগ গ্রহণ করে এ পর্যন্ত এ কে খান অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, আবদুল মোমেম অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, মেঘনা ইকোনমিক জোনে ৫৬ ইউএস ডলার, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে ১৮ দশমিক ৯২ ইউএস ডলারসহ মোট ২২০ দশমিক ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
এর ফলে প্রায় লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া বিনিয়োগসংক্রান্ত পারস্পরিক সম্পর্ক ও শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ৩১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পুঁজি বিনিয়োগে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অনাবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ইপিজেড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদী ইপিজেডে নতুন ১২৮টি শিল্প প্লট তৈরি করা হয়েছে। মংলায় ৭৪টি শিল্প প্লট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শিল্পস্থাপনে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও রাস্তাঘাট সম্বলিত শিল্প প্লট প্রদান ও ঋণ সহয়তা করা হচ্ছে।
বরিশালে যাচ্ছে রেল
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সরকার এসে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলকে বঞ্চিত করেছে, কেননা দক্ষিণের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিল। তাই বর্তমান সরকার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পদ্মা সেতু হচ্ছে। আমরা মাওয়া থেকে ভাঙ্গা হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ দিচ্ছি। আর এর পরে পায়রা বন্দর থেকে বরিশাল শহরকে রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা হবে বলে জানান শেখ হাসিনা।
এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির এমপি মহিউদ্দীন খান আলমগীরের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কালুখালি ব্রিজ হবে। এ ব্রিজে সড়ক ও রেল দুটোই থাকবে। আমি চিন্তা করছি, ব্রিজে ডাবল লাইন রেল ও ফোর লেন সড়ক হবে, যা চট্টগ্রামের মানুষই ভাবেননি। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন চলবে কক্সবাজার পর্যন্ত। এর জন্য রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণও হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন দেশের সাথে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্শ¦বর্তী দেশগুলোর সাথে সড়কপথে যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-সিলেট-ঢাকা-গৌহাটি-শিলং Ñ এ চারটি রুটে বাস চলাচল করছে। এছাড়া ৬টি আঞ্চলিক রুটে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের জন্য চুক্তি বিদ্যমান। বাংলাদেশের সাথে ভারতের বেনাপোল পেট্রাপোল, দর্শনা-গেদে এবং রহনপুর-সিংগাবাদ Ñ এ তিনটি রুটে রেলওয়ের ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ বিদ্যামান। এছাড়া বিরল-রাধিকাপুর ও শাহবাজপুর-করিমগঞ্জে দুটি পয়েন্ট চালুর জন্য পার্বতীপুর-কাঞ্চন-পঞ্চগড় ও কাঞ্চন-বিরল মিটারগেজ স্টেশনকে ডুয়েলগেজ এবং বিরল-বিরল বর্ডার স্টেশনকে ব্রডগেজ করা এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনের পুনর্র্বাসন শীর্ষক দুটি প্রকল্প চলমান আছে। দু’দেশের রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেলওয়ে লিংক ভারতীয় অনুদানে বাস্তবায়নের চুক্তি হয়েছে। এছাড়া ভারত সরকার ফেনী-বিলোনিয়া রেলযোগাযোগের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি জানান, এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বর্তমানে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত ডুয়েল রেলওয়ে সিঙ্গেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প চলমান আছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের ওপর দিয়ে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে রেলওয়ে ট্রানজিটের চুক্তি আছে। আর ভারতের ওপর দিয়ে ভুটান ও বাংলাদেশের রেল ট্রানজিট স্থাপনের কোনো চুক্তি নেই। তবে ভুটান বাংলাদেশের সাথে রেল ট্রানজিট স্থাপনে আগ্রহী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন