ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পৃথিবী

ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য, খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতি

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্স | প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০২০, ১২:১১ এএম

পৃথিবী ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশ্বজুড়ে প্রচন্ড দাবদাহ এখন আর ভবিষ্যতের ঝুঁকি নয়। এটি বর্তমানে ঘটতে শুরু করেছে। তীব্র তাপ মানব স্বাস্থ্য, খাদ্য উৎপাদন এবং সমগ্র অর্থনীতিকে বিপন্ন করে দেয় এবং এটি তাদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ যারা সমাজের অর্থনৈতিক মইয়ের নীচের দিকে অবস্থান করছে। বিগত ৬০ বছর ধরে প্রতিটি দশক পূর্ববর্তী দশকের চেয়ে উষ্ণতর ছিল এবং ২০২০ সালটি এ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গেল জুলাইতে বাগদাদের তপামাত্রা উঠেছিল নজিরবিহীন ১শ’ ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে এবং গত জুনে আর্কটিক সার্কেলের তাপমাত্রা ১শ’ ডিগ্রি ওপরে ছিল। অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ খরার দাবানল আকাশকে রক্তিম করে খরতাপের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শিল্পায়নের ১শ’ ৫০ বছর ধরে কয়লা, তেল এবং গ্যাসের জ্বলন নিরবচ্ছিন্নভাবে বায়ুমন্ডলে তাপ আটকে রাখা গ্যাসগুলি ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রায় তাপের রেকর্ড স্থাপন করে চলেছে। বিশ্বের প্রায় সর্বত্র দাবদাহের ধাক্কাগুলি গত ৭০ বছর আগের তুলনায় আরও ব্যাপক এবং দীর্ঘস্থায়ী। তবে উত্তপ্ত পৃথিবীতে দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষগুলি অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। যারা শীততাপ ব্যবস্থা গ্রহণে অক্ষম, প্রয়োজনে সময় বিদ্যুত পান না, ঘরের বাইরে সূর্যের নিচে কাজ করা ছাড়া যাদের আর কোনও উপায় নেই এবং ক্ষরায় যাদের ফসল বিনষ্ট হয়ে যায় ও বাচ্চারা ক্ষুধার্ত থাকে, তীব্র দাবদাহে তাদের জীবন ঝুঁকি সব থেকে বেশি।

এথেন্সের ন্যাশনাল অবজাভেটরির তাপমাত্রার রেকর্ড অনুসারে, দেশটির ১৯৮০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ৫০টিরও কম উত্তপ্ত দিন ছিল। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সংখ্যাটি বেড়ে ১শ’ ২০-এ দাঁড়িয়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের তাপ সূচক ১শ’ ১০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। এটি ভবিষ্যতের একটি ঝলক উপস্থাপন করেছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন যদি বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকে, তবে হিউস্টন প্রতি বছর গড়ে ১শ’ ৯টি উত্তপ্ত দিন পাবে যেগুলির তাপ সূচকটি সর্বনিম্ন ১শ’ ডিগ্রিতে থাকবে। গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কে তাপমাত্রা বেড়ে ৯৩ ফারেনহাইটে পৌঁছে। সাম্প্রতিক একাডেমিক গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্টের প্রায় ১২ হাজার লোকের দাবদাহ-সম্পর্কিত অসুস্থতায় মৃত্যুর সম্ভবনা রয়েছে। নাইজেরিয়াতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা অবিরাম জ¦লন্ত গ্যাস ক্ষেত্রের তাপে আরো ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছে। উষ্ণ মৌসুমে দেশটির তাপমাত্রা গড়ে ৯১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায় এবং বৃষ্টিপাতের সময়গুলিতে কেবল সামান্য কম থাকে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, গ্যাসের জ্বলন্ত শিখাগুলির নিকটস্থ বাড়িরগুলির চারপাশে তাপমাত্রা অতিরিক্ত ২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

গুয়াতেমালায় শুকনো মওসুম ক্রমেই দীর্ঘ এবং শুষ্ক হয়ে আসছে। বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘ ৫ দশকের খরা এই অঞ্চলটিকে অভিশপ্ত করে দিয়েছে। ১৯৬০ সালের পর থেকে পুরো দেশটি প্রায় ১.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট উষ্ণতর হয়ে উঠেছে। অঞ্চলটিতে অভাব ও অপুষ্টি ছেয়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটিতে ভুট্টা ও শিমের ফলন প্রায় ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং মাটির কম উচ্চতার কারণে কফি চাষও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইতোমধ্যে উত্তপ্ত ভারতও। যারা বাইরে কাজ করেন তাদের পক্ষে অঞ্চলটিতে তাপমাত্রার মাত্র কয়েক ডিগ্রি বৃদ্ধি বিপজ্জনক হতে পারে। সাথে রয়েছে বৃষ্টির চূড়ান্ত অনিয়ম। যখন প্রয়োজন নেই তখন অতি বৃষ্টিতে ফসল ভেসে যায়। দক্ষিণ এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূল তীব্র দাবদাহের স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। অতি খরতাপের প্রভাবে এ অঞ্চলগুলিতে অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে ২০৩০ সালে ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জলবায়ু সম্পর্কিত মডেলগুলি ভবিষ্যতে দীর্ঘ শুষ্ক সময়কালের পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। ইউনিভার্সিটি অফ দ্য ভ্যালি অফ গুয়াতেমালার পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক এবং এসংক্রান্ত গবেষণার সহলেখক এডউইন ক্যাসেলেলানোস বলেছেন, ‘মডেলগুলি দেখায় যে পরবর্তী দশকগুলিতে এমনটি ঘটার কথা। তবে এটি ইতিমধ্যে ঘটছে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন