ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

পাকিস্তানে চীনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:৪৪ পিএম

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মেজর জেনারেল আমির ইকরাম (ডানে) ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডাক্তার ফয়সাল সুলতান (বামে)


পাকিস্তানে সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করেছে চীনের প্রতিষ্ঠান ক্যানসিনো বায়োলজিস। মঙ্গলবার পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অ্যান্ড অপারেশন সেন্টারের (এনসিওসি) পক্ষ থেকে দেয়া ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্যানসিনোর তৈরি ভ্যাকসিনটির প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা চীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এনসিওসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (এনআইএইচ) এবং ক্যানসিনোর মধ্যে একটি সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের অধীনে পাকিস্তানে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।’ পাকিস্তান ছাড়াও ক্যানসিনো আরও কয়েকটি দেশে এই পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।

পাকিস্তানের ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত মাসে ক্যানসিনোর ভ্যাকসিনের জন্য এই পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ মন্ত্রী আসাদ উমর বলেন, ‘বিশ্বের সাতটি দেশে ৪০ হাজার মানুষের উপরে এই পরীক্ষা চালানো হবে। এর মধ্যে পাকিস্তানে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের ডোজ প্রয়োগ করা হবে।’

মঙ্গলবার এনআইএইচের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল আমির ইকরামের পাশাপাশি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডাক্তার ফয়সাল সুলতান এই পরীক্ষাকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে পাকিস্তানিরাও অংশ নেবে। মেজর জেনারেল ইকরাম বলেন, এটি দেশের জন্য একটি ‘সম্মানের’ বিষয়। কারণ, প্রথমবারের মতো পাকিস্তান কোন ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্ব এখন একটি ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্বে মোট সাতটি ভ্যাকসিন রয়েছে, যারা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করতে পেরেছে। এর মধ্যে তিনটিই চীন এ বিকাশ করা হয়েছে। এই ক্যানসিনো ভ্যাকসিনটি রিকম্বিনেন্ট প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এর ভাইরাস ভেক্টর এবং সেল কালচার কানাডা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।’

গবেষণাটি কীভাবে পরিচালিত হয় সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাক-ক্লিনিকাল পর্যায়ে, পশুদের উপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। এটি বছরের শুরুতে চীনে করা হয়েছিল। এটি নিরাপদ এবং প্রতিরোধক হিসাবে প্রমাণিত হয়। তারপরে আবারও চীনে প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানেও এটি ইতবাচক ফল দেখায়। দ্বিতীয় ধাপে ৫০৮ জনের শরীরে এই ভ্যাকসিন দেয়া হয়, সেখানেও ভালো ফলাফল পাওয়া যাওয়ার পরে এই গবেষণার বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল।’ তিনি জানান, ক্যানসিনো ভ্যাকসিনের প্রযুক্তিটি অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের মতোই। ওই ভ্যাকসিনে শিম্পাঞ্জির অ্যাডিনো-ভেক্টর ব্যবহার করা হয়েছিল, আর ক্যানসিনো ভ্যাকসিনের একটি মানব অ্যাডিনো-ভেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাটি সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কঠিন পর্যায়। এনআইএইচ এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এবং আমরা এনসিওসি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য কৃতজ্ঞ।’ তিনি জানান, ভ্যাকসিনটি ইতিমধ্যে চীনে অনুমোদিত হয়ে গিয়েছে এবং এটি চীনের সেনা কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদেরকে দেয়া হচ্ছে। সুতরাং, এর সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। সূত্র: ডন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন