সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইন্ডিয়া গেটে নেতাজির হলোগ্রাম মূর্তি কেন?

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৩৮ পিএম

রোববার ২৩ জানুয়ারি দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে নেতাজির হলোগ্রাম মূর্তির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। গ্রানাইটের মূর্তি পরে বসবে।

ইন্ডিয়া গেটে যে নেতাজির মূর্তি বসানো হবে, এমন পরিকল্পনার কথা আগে ঘোষণা করা হয়নি। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানান, ইন্ডিয়া গেটে নেতাজির মূর্তি বসানো হবে। তারপর ২৩ জানুায়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে নেতাজির হলোগ্রাম মূর্তির উদ্বোধন করেন। হলোগ্রাম মূর্তি মানে হলোগ্রাম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারচুয়াল থ্রি ডাইমেনশনাল ছবি তৈরি করা। আপাতত নেতাজির ওই ছবিই মূর্তির জায়গায় থাকবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে নেতাজিকে নিয়ে একটি ট্যাবলো বানাবার পরিকল্পনা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু সেই ট্যাবলো এবার প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ঠাঁই পাচ্ছে না। তা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোচ্চার হয়েছেন। সেই বিতর্কের মধ্যেই নেতাজির হলোগ্রাম মূর্তির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধনমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিয়েও জোরদার বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

নেতাজির হলোগ্রাম মূর্তির উদ্বোধন করে মোদী কংগ্রেস ও নেহরু-গান্ধী পরিবারের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে লাখ লাখ মানুষের প্রভূত অবদান ছিল। কিন্তু সেই ইতিহাস চেপে দেয়া হয়েছে। তার সরকার গর্বের সঙ্গে অতীতের ভুল সংশোধন করছে। মোদীর দাবি, স্বাধীনতার নতুন ইতিহাস গড়বেন তারা।

মোদীর দাবি, তার সরকারই নেতাজি-ফাইল প্রকাশ করেছে। তিনি ও তার সরকার সুভাষচন্দ্রের প্রেরণায় কাজ করছেন। মোদী বলেছেন, সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন, ভারতে রাষ্ট্রবাদ সবসময় একটা ইতিবাচক শক্তিকে জাগ্রত করে, যা বহু বছরের ঘুম ভাঙিয়ে দিতে পারে।

রোববার সন্ধ্যায় বোতাম টিপে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের হলোগ্রাম মূর্তির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এখানে একটি স্বচ্ছ্ব স্ক্রিন ব্যবহার করে হলোগ্রাম প্রযুক্তি দিয়ে থ্রি ডাইমেনশনাল ছবি সেখানে ফেলা হচ্ছে। দর্শক কোনো পর্দা দেখতে পাবেন না। তারা সেখানে নেতাজির মূর্তির ছবি দেখতে পাবেন। হলোগ্রাম মূর্তি হবে ২৮ ফুট লম্বা ও ছয় ফুট চওড়া।

এখানে গ্রানাইটের মূর্তি বসবে। দিল্লির ন্যাশনাল গ্যালারি অফ মডার্ন আর্টের ডিরেক্টর অদ্বৈত গদানায়েককে এই মূর্তি বানাবার দায়িত্ব দেয়া হয়ছে। এর আগে তিনি রাজঘাটে গান্ধীর মূর্তি তৈরি করেছিলেন। তেলেঙ্গানা থেকে কালো গ্রানাইট আসবে। মোট ২৫ জন ভাস্কর ও শিল্পী মূর্তি তৈরির কাজ করবেন। ১৫ অগাস্ট এই মূর্তির উদ্বোধন করার পরিকল্পনা করা হয়ছে।

নেতাজি গবেষক এবং তৃণমূলের সাংসদ ও মুখপাত্র সুখেন্দু শেখর রায় ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''নেতাজির ট্যাবলো বাদ দেয়ার ফলে যে ভয়ংকর বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তার জন্য মোদী তথা বিজেপি-র ক্ষতি হচ্ছিল। তড়িঘড়ি করে মূর্তি বানাবার সিদ্ধান্ত সেজন্যই।'' সুখেন্দুশেখরের দাবি, ''নেতাজির মূর্তি বসানোর কোনো পরিকল্পনা আগে ছিল না। থাকলে এখন হলোগ্রাম মূর্তি করতে হতো না। এখনই গ্রানাইটের মূর্তি বসানো যেত।''

তিনি জানিয়েছেন, ''পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে নেতাজি ট্যাবলো নিয়ে চারবার কেন্দ্রের বৈঠক হয়েছে। তখন বলা হয়নি অনুমোদন করা হবে না। তারপর কোনো কারণ না দেখিয়ে ট্যাবলো বাতিল করা হলো। এই নিয়ে প্রবল বিতর্ক হলো, মুখ্যমন্ত্রী চিঠি লিখলেন, নেতাজির মেয়ে অনিতা পাফ নিন্দা করলেন, বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ করলেন, তখন ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেন মোদী।''

প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''মূর্তি বসানোর একটা কারণ হলো নেতাজিকে সামনে রেখে কংগ্রেস-বিরোধী মনোভাব নেয়া। নেতাজিকে আত্তীকরণ করার চেষ্টা করে মোদী এই বার্তা দিতে চেয়েছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে আমরাও ছিলাম। তারা সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে বিজেপি-কে আইডেন্টিফাই করতে চাইছেন। বারবার বলে এটাই তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।''

শুভাশিসের মতে, ''আসলে বিজেপি-র সামনে একটা ঐতিহাসিক সংকট আছে। তারা স্বাধীনতার আন্দোলনে ছিল না, যেহেতু গান্ধীজিকে হত্যার সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীদের নাম জড়িয়ে আছে, তাই তারা ক্রমাগত এই ধরনের কাজ করতে থাকে।'' সুখেন্দুশেখর মনে করেন, ''হলোগ্রাম মূর্তি বসানোর মানে হলো, কোনোক্রমে মুখরক্ষার ব্যবস্থা। আগে থেকে ভাবলে তো ২৩ জানুয়ারি গ্রানাইটের মূর্তি বসানো হতো।''

আগের সরকারও নেতাজিকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। এই সরকারও তাই করছে বলে সুখেন্দুশেখরের দাবি। সূত্র: পিটিআই, এএনআই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন