মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক যুদ্ধে পত্তন হবে হাজার বছর দীর্ঘ বরফ যুগের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০২২, ১২:০০ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধে নাক গলানোর জন্য রাশিয়া পশ্চিমাদের বেশ কয়েকবার পারমানবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলে পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞে গায়েব হয়ে যাবে ইউরোপ। পুতিন যদি পারমাণবিক আক্রমণ করেন, তাহলে এর পরিবেশগত প্রভাব কি হবে, তার কঠোর চিত্র তুলে ধরে নতুন একটি গবেষণা বলছে যে, এটি হাজার হাজার বছর স্থায়ী একটি বরফ যুগের পত্তন ঘটাবে।

সম্প্রতি এজিইউ অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে বলা হয়েছে যে, পারমানবিক বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিঝড় উপরের বায়ুমণ্ডলে কাঁচ এবং ধোঁয়ায় ছেয়ে দেবে, যা সূর্যরশ্মি আটকে দেবে এবং সারা বিশ্বে ফসলহানির কারণ হবে। বিস্ফোরণের পর প্রথম মাসে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রায় ১৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমে যাবে। এটি ১১ হাজার ৭শ’ বছর আগের সর্বশেষ বরফ যুগের চেয়েও বেশি, যা ১ লাখ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমিয়ে রেখেছিল।
একাধিক আঞ্চলিক এবং বৃহৎ আকারের কম্পিউটার সিমুলেশনের উপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণটি দেখায় যে, সমুদ্রের তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাবে এবং ধোঁয়া পরিষ্কার হওয়ার পরেও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে না। পৃথিবী ঠান্ডা হওয়ার সাথে সাথে সমুদ্রের বরফ ছয় মিলিয়ন বর্গমাইলেরও বেশি এবং ছয় ফুট পর্যন্ত গভীরে প্রসারিত হবে, যা বেইজিং, কোপেনহেগেন এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ সহ প্রধান বন্দরগুলিকে অকেজো করে দেবে। এটি তখন সাধারণভাবে নাতিশীতোষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে এবং উত্তর গোলার্ধ জুড়ে জাহাজ চলাচল এবং সাংহাইয়ের মতো কিছু শহরে খাদ্য ও সরবরাহ বাধা তৈরি করবে, যেখানে জাহাজগুলি সমুদ্রের বরফ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত নয়।
এছাড়া, আলো এবং সমুদ্রের তাপমাত্রার আকস্মিক হ্রাস, বিশেষ করে আর্কটিক থেকে উত্তর আটলান্টিক এবং উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত সামুদ্রিক প্রানীদের খাদ্য সংস্থানের মূল শৈবালগুলিকে মেরে ফেলবে। গবেষকরা বলেন যে, সমুদ্রে মূলত একটি দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হবে, যার ফলে মাছ ধরা ও সমুদ্র কৃষি বন্ধ হয়ে যাবে। গবেণষার একটি মডেলে দেখা গেছে যে, শহর এবং শিল্প এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া যদি ১শ’ কিলোটন ওজনের ৪ হাজার ৪শ’ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে, আগুন উপরের বায়ুমণ্ডলে ১শ’ ৫০ টেরাগ্রাম বা ৩শ’ ৩০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ধোঁয়া এবং সূর্যালোক-শোষক কালোকার্বন ছাড়বে।
লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রধান লেখক ডক্টর শেরিল হ্যারিসন, ‘স্থলভাগের চেয়ে মহাসাগরগুলি অবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেশি সময় নেয়। মার্কিন-রাশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধে, এটি ভূ-পৃষ্ঠ মেরামতে কয়েক দশক এবং গভীরতায় মেরামতে কয়েকশ বছর সময় নিতে পারে। তবে, আর্কটিক সমুদ্রের বরফের পরিবর্তন সম্ভবত হাজার হাজার বছর স্থায়ী হবে এবং কার্যকরভাবে একটি ছোট পারমাণবিক বরফ যুগ হয়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, ‘সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র প্রাথমিকভাবে এবং পরিবর্তিত নতুন মহাসাগরীয় রাজ্যে উভয়ভাবেই ধ্বংস হয়ে যাবে, যার ফলে মৎস্য ও অন্যান্য পরিষেবাগুলিতে দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক প্রভাব পড়বে।
ড. হ্যারিসন বলেন, ‘কে কাকে বোমা মারবে, তাতে কিছু যায় আসে না। এটা ভারত ও পাকিস্তান বা ন্যাটো এবং রাশিয়া হতে পারে। একবার ধোঁয়া উপরের বায়ুমণ্ডলে নির্গত হলে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে এবং সবাইকে প্রভাবিত করবে’। তিনি বলেন, ‹রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধ এবং এটি গ্যাসের দামকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, তা সত্যিই আমাদের দেখায় যে, আঞ্চলিক সঙ্ঘাত ও উত্তেজনার মতো আমাদের বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা নাজুক’। সূত্র : ডেইলি মেইল।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
Gias uddin ৯ জুলাই, ২০২২, ৫:৪২ এএম says : 0
No war we want peach everywhere
Total Reply(0)
Kader sheikh ৯ জুলাই, ২০২২, ৫:৪২ এএম says : 0
Pls avoid all types of clash
Total Reply(0)
Jahanara Begum ৯ জুলাই, ২০২২, ৫:৪৩ এএম says : 0
Very bad things
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন