শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

‘তাইওয়ানের নোট’: শি জিনপিংয়ের ঘাঁটি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে

এরিক বাগশো | প্রকাশের সময় : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ৯:৫৫ এএম

তাইওয়ান উপকূলের মাতসু দ্বীপপুঞ্জের বেইগান শহরতলির অন্ধকার ঘুচিয়ে প্রথম আলো ফুটছিল কুয়াশা ভেদ করে। তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই থেকে বেইগান ২৭০ কিলোমিটার দূরে হলেও চীন থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটারের পথ। সেখানকার কুইনবি গ্রাম জুড়ে রয়েছে শতাব্দী পুরনো সারি সারি পাথরের বাড়ি। কুয়াশা ঢাকা ভোরে সেখানে নাস্তায় ‘ফিশ নুডলস’ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, জেলেরা সাগরে জাল ফেলছে, আর আমি গলিপথের বাড়ির প্রবেশদ্বারে বসে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে গল্প লিখছি।
 
এরকম একটি নির্মল জায়গা পরবর্তীকালে শক্তি সংঘাতের আক্রমণের প্রথম পয়েন্ট হতে পারে তা ভাবাই কঠিন। যে জেলেদের কথা বলছি, উপকূল জুড়ে তাদের বাড়ির নিচে বাঙ্কার রয়েছে। অর্থাৎ এটি স্থানীয়দের বলছে, ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও’।
২০ শতকের শুরুতে সাম্রাজ্যবাদী কিং রাজবংশের অবসানের পর মাতসু দ্বীপপুঞ্জ ভবিষ্যত তাইওয়ানের সরকার কুওমিনতাংয়ের দখলে ছিল। আর তাইওয়ানকে শাসন করতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বীদের আরও ৩৮ বছর লেগেছিল; কিন্তু তারা ১৯১১ সাল থেকে চীনের সবচেয়ে কাছের দ্বীপগুলি শাসন করেছে।
 
তাইপেই থেকে এখানে (কুইনবি) আসতে প্রথমে তাইওয়ানের অস্থির আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে হবে। আর আমরা যখন পৌঁছলাম, বিমানবন্দর তখন বন্ধ ছিল ছয় ঘণ্টা ধরে। কুইনবিতে যেতে ফেরি পথে ২০ মিনিটের মতো সময় লেগেছিল, যদিও দক্ষিণ চীন সাগরের বিরূপ প্রকৃতির জন্য সেটি এক ঘণ্টার পথের মতো মনে হয়েছিল।
 
সৌভাগ্যবশত ফটোগ্রাফার ড্যানিয়েল সেং ইউক্রেনের সাম্প্রতিক অ্যাসাইনমেন্ট থেকে ফেরার পথে ‘মোশন সিকনেস’ ট্যাবলেটগুলো নিয়ে এসেছিল। ওই ট্যাবলেটগুলোই আমাদের যাত্রাপথে সাহায্য করেছিল। পরিস্থিতি ছিল চ্যালেঞ্জিং। ভয়ের মধ্যে ছিলাম- তাইওয়ান আক্রমণে প্রস্তুত কোনো চীনা বাহিনীর মুখোমুখি যেন আবার  না পড়ে যাই।
 
কুইনবি ফুজিয়ানের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। এটি চীনা সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ  সামরিক ও বিমান ঘাঁটি। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গর্ব ফুজিয়ান, কারণ তিনি এখানকার গভর্নর হিসাবেই প্রথম জাতীয় নজরে এসেছিলেন। চীনের সর্ববৃহৎ এয়ারফোর্স ক্যারিয়ারের নাম দেওয়া হয়েছে ফুজিয়ান।
 
শি বারবার সতর্ক করেছেন,  তিনি ‘চীন জাতির মহান পুনর্জাগরণ’ সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনে তাইওয়ানকে জোর করে নেওয়ার অধিকার রাখেন। অন্যদিকে শি জিনপিং যা বলছেন, তাতে মাতসুর স্থানীয় লোকজনও তাতে আগ্রহী হচ্ছেন।
 
২০ কিলোমিটার দূরেই কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিপরীতে একটি গণতান্ত্রিক ধারা বা ঐতিহ্যের অংশ মাতসুর স্থানীয়রা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মওসুম এখন। ভোট দিতে তাইওয়ানিজদের তাদের নিজ গ্রামে ফিরে যেতে হবে। লক্ষাধিক মানুষ ভোট দিতে নিজ শহরে ফিরে গেছেন। ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক না হলেও ভোটদানের হার ৭৫ শতাংশের মতো বেশি। দেশটি কেবল ১৯৯৬ সালে পূর্ণ গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল।
 
তাইওয়ান প্রণালীর আরেকটি দ্বীপুপুঞ্জ পেঙ্গুর ডেমোক্র্যাটিক পিপলস পার্টির প্রার্থী চেন কুয়াং-ফু বলেছেন, “তাইওয়ানের গণতন্ত্রের অগ্রগতি একটি ডায়মন্ডের মতো এবং সমগ্র বিশ্বের এটিকে রক্ষা করা উচিত।”
 
 পেঙ্গুর জেলে থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ধাঁচের গ্রামগুলোর বেশিরভাগ মানুষই উদ্বেগে রয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী দোকানের মালিক জ্যাক সং বলেন, “চীন যদি আক্রমণ করে, তবে পেঙ্গু আক্রমণ করবে। আমি অবশ্যই ফিরে গিয়ে লড়াই করব।”
সূত্র: সিডনি মর্নিং হেরাল্ড
 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন