সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি - গোলকধাঁধায় তদন্ত

প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০০ এএম, ২৪ মার্চ, ২০১৬

নূরুল ইসলাম/হাসান সোহেল : ১২টি সংস্থার তদন্তে কোনো ক্লু বের হয়নি। উদঘাটন হয়নি কোনো রহস্যও। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনা তদন্ত এখনও সন্দেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি তদন্ত সংস্থা, ফিলিপাইন সরকার, ফিলিপাইনের জড়িত ব্যাংক আরসিবিসি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার সন্দেহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরটিজিএস প্রকল্পকে ঘিরে। গোয়েন্দাদের ধারণা, অক্টোবরে এ সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে সুইফট শাখার তথ্য খোয়া গেছে। সেই তথ্য কাজে লাগিয়েছে অপরাধীরা। প্রথম দিকে ভারতীয় আইটি বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্থানাকে নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও পরে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি পরামর্শক হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ। এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর গতকাল বুধবার আইটি বিশেষজ্ঞ তানভির হাসান জোহাকে ফিরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চুরির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এ সম্পর্কে বক্তব্য রাখায় রহস্যজনকভাবে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনার পর তার পরিবার থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তাও নেয়নি। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নয়া গভর্নর ফজলে কবির। গতকাল দিনভর বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরে অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের আলোচনায় ব্যাংকে শুধুমাত্র ক্যামেরাম্যানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। বহুল আলোচিত এই চুরির ঘটনায় বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নিম্নমুখী ধারার আশংকা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গত ১৫ মার্চ গঠন করা হলেও ৮ দিন পর কমিটি গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন। এর আগে তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এই কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট এবং ৭৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে বলা হলেও এখনো তদন্ত কাজে কোন অগ্রগতি নেই বললেই চলে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. কায়কোবাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস।
জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মার্কিন ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনাকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চরম গাফিলতি বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরি যাওয়া অর্থ ফেরাতে আইনী লড়াইয়ের ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। অবশ্য রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, রিজার্ভের অর্থ চুরি ঘটনায় বাংলাদেশের কারা জড়িত তা শনাক্ত করা গেলেই টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে তিনি বলেন, এই অর্থ উদ্ধার সত্যিই কঠিন।
মাহবুবে আলম বলেন, আন্তঃদেশীয় আইনী সহায়তার মাধ্যমে, ওই অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। তবে তার আগে অর্থ ফ্রিজ করতে হবে। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলছেন, দু’টি উপায়ে রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। এজন্য প্রথমে দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে, এ ঘটনার সাথে বাংলাদেশি কারা জড়িত। এরপর আন্তঃদেশীয় আইনী সহায়তায়, টাকা ফেরাতে কাজ শুরু করতে পারে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কণ্ঠে সেই বিষাদের সুর। বললেন চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার সত্যিই কঠিন।
সন্দেহে আরটিজিএস প্রকল্প
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তাদের জানান, তাদের ধারণা গত বছরের অক্টোবরেই সুইফট কম্পিউটারের তথ্য পাচার হয়। এই সময়ে ব্যাংকিং খাতের লেনদেন  দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি সফটওয়্যার ইন্সটল (সংযোজন) করা হয়। এটি হল রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস)। যারা এই সফটওয়্যার সংযোজন করেছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য নিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এফবিআই ধারণা করছে, এই সফটওয়্যার ইন্সটল করার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গোপন কিছু তথ্য পাচার হয়। জানা গেছে, গত বছরের ২৯ অক্টোবর আরটিজিএস চালু হয়। এর মাধ্যমে চেক জমা দিলে ১ মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়। পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক একে বিপ্লব হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তবে রিজার্ভ সংরক্ষণের জন্য যে কম্পিউটারের মাধ্যমে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) লেনদেন হতো, সেই কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগও ছিল না। সুইফট পরিচালনের জন্য বেলজিয়ামে সুইফটের ওই প্রতিষ্ঠানের মূল সার্ভারের সঙ্গে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক টেকনোলজি ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারের সংযোগ ছিল। কিন্তু আরটিজিএস সফটওয়্যার ইন্সটল করার পর সুইফটের কম্পিউটারেও ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়। সূত্র জানায়, এ পদ্ধতি চালুর সময় বিভিন্ন পর্যায়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কাজ করেন। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট শাখাতেও এসব বিশেষজ্ঞ ঢুকে পড়েন। গোয়েন্দাদের ধারণা, অক্টোবরে এ সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে সুইফট শাখার তথ্য খোয়া  গেছে। বিষয়টি নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ চলছে।
অপরাধী খুঁজছে সিআইডি
রিজার্ভের টাকা চুরি হওয়ার পর সে টাকা কোথায় এবং কার কাছে গেছে, সেটা থেকেই দেশী-বিদেশী অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইডি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক মিটিং শেষে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ আলম তদন্তের বিষয়ে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমাদের আলোচনায় বিশেষকরে আইটি ফরেনসিককে ইস্যুকে কেন্দ্র করে এগুচ্ছে। যার মাধ্যমে ঘটনা ঘটেছে তাকে আমরা বের করার চেষ্টা করছি। টাকাকে ট্র্যাক করে মূল হোতাকে বের করার চেষ্টা করছি। অপরাধীদের দেশি বা বিদেশি লিংকগুলো কিভাবে চিহ্নিত করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি।
তদন্তের অগ্রগতি সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের বিষয়ে কিছু জানানোর মত সময় একেবারেই হয়নি। তবে টাকার লিংক ধরেই দেশি বা বিদেশি কারা জড়িত সেটা বের করার জন্য কাজ করছি। এদিকে, সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে জব্দ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের ফরেনসিক পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান এই আদেশ দেন।
অন্যদিকে, রিজার্ভের টাকা চুরির বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের গঠিত সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিনের  নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল প্রথমবারের মত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবির, সিআইডির ডিআইজি সাইফুল আলম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।    
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, সরকার  যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে,  সে কমিটির চেয়ারম্যান ফরাস উদ্দিন স্যার তার টিম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন। আমরা তাকে টেকনিক্যাল সব ধরনের সাপোর্ট দিচ্ছি। সঙ্গে কমিটির সদস্যদের বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি এসেই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনা করেছেন যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাঙ্গে তদন্ত দলটির প্রথম বৈঠক। এখান থেকেই তিনি তদন্ত শুরু করেছেন বলা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের সময় ফরাসউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আপনার সহযোগিতা করুন। সহযোগিতা করলে কাজ ভালো হবে। ৩০ দিন সময় নিয়েছি, এর মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করতে হবে।  
অপরদিকে অভিযুক্ত ও সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিলিপিন্স। টাকা লোপাটের ঘটনায় চিহ্নিত রিজাল ব্যাংকের জুপিটার শাখার ম্যানেজার মায়া সান্তোস দেগুইতো ও তার সহকারি অ্যাঞ্জেলো তেরোসকে বহিস্কার করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন এবং নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়। আরসিবিসি›র এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অন্যান্য ব্রাঞ্চ এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি কয়েকজনকে বরখাস্ত বা সাময়কি অব্যাহতিও দেয়া হতে পার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেগুইতো  এবং তোরেসের বিরুদ্ধে ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই আদালতে মামলা  করবে। গত মঙ্গলবার ফিলিপিন্সের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলস) দেশটির বিচার বিভাগে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ মার্কিন ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালানোর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্থগিতাদেশ পেয়েও তা অগ্রাহ্য করে অর্থ লোপাটের সুযোগ দেয়ায় ফিলিপিনো রিজাল ব্যাংকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত দাবি মার্কিন কংগ্রেসম্যানের
নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান ক্যারোলিন মালোনি নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক পোস্ট এ খবর জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার মালোনি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডুডলির নিকট পাঠানো এক চিঠিতে প্রশ্ন করেন, ফেডারেল ব্যাংক পরের ৩০ থেকে ৩৫টি ট্রান্সফার অর্ডার ব্লক করলেও কেন প্রথম ৫টি অর্ডার ব্লক করেনি।
তিনি আরো জানতে চান, পরের ৩৫টি অর্ডারের বেলায় ফেডারেল রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা করলেও কেন প্রথম ৫টি অর্ডারের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করেনি। মালোনি বলেন, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে লজ্জাজনক চুরির ঘটনা ফেডারেল রিজার্ভের ওপর অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তিনি আরো বলেন, এই চুরির ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বের করতে হবে কিভাবে ওই দুর্বৃত্তরা ব্যাংকিং সিস্টেমকে অকেজো করেছিল। হ্যাকার ও সাইবার ক্রিমিনালের হাত থেকে রক্ষার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাবলীও তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইনের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়। কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এত বড় অর্থ চুরি নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হলে, পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সরিয়ে দেয়া হয় ব্যাংকিং সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নরকে। প্রশ্ন ওঠে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এত বড় অর্থ লুটের সাথে কারা জড়িত? আর এই টাকা আদৌ বাংলাদেশ ফেরত পাবে কি না, তাও পরিষ্কার নয়।





























 






 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
মাহমুদা ২৪ মার্চ, ২০১৬, ১১:১০ এএম says : 0
অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, কিছুই হবে না। টাকাও ফেরত আসবে না।
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন