ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকট ও দাবদাহে পশ্চিম জোনের সাড়ে তিন কোটি মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশের সময় : ১১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নাছিম উল আলম : মওশুমের সর্বোচ্চ দাবদাহের সাথে সর্বকালের সর্বাধিক উৎপাদনের মধ্যেও বিদ্যুৎ সংকটে বরিশালসহ দেশের পশ্চিম জোনের ২১টি জেলার সাড়ে ৩ কোটি মানুষ চরম দূর্ভোগে।
গতকাল বরিশাল অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ ৩৬ডিগ্রী ছুই ছুই করছিল। খুলনায় তা ছিল আরো ১ডিগ্রী বেশি। এ অঞ্চলে চলতি মওশুমে চাহিদা প্রায় ১২শ’ মেগাওয়াটে পৌঁছলেও পিজিসিবি ও পিডিবি এখনো পুরনো হিসেবেই বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। ফলে চাহিদা ও সরবারহের ফারাক আরো বাড়ছে। এর সাথে জাতীয় গ্রীড থেকে ন্যায্য হিস্যা মাফিক সরবারহ না থাকার পাশাপাশি এ অঞ্চলে পিডিবি’র নিজস্ব পুরনো প্রায় সবগুলো উৎপাদন ইউনিটই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বছর কয়েক আগেই। পাশাপাশি নতুন কয়েকটি উৎপাদন ইউনিটে গ্যাস সংকট সহ নানা কারিগরি জটিলতায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।
ফলে বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি পশ্চিম জোনের ২১টি জেলায় বিদ্যুৎ সংকট ইতোমধ্যে নিয়মিত বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছে। এর সাথে বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি দূর্ভোগের মাত্রাকে আরো বৃদ্ধি করে চলেছে। বরিশাল অঞ্চলের ৬টি জেলায় এখন সান্ধ্য পিক আওয়ারে চাহিদা দেড়শ’ মেগাওয়াট অতিক্রম করলেও গত কয়দিন ধরে সরবারহ ১শ’ মেগাওয়াটের সামান্য বেশি। একইভাবে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরিতেও সরবারহ সাড়ে ৭শ’ মেগাওয়াটের বেশি নয়।
সব মিলিয়ে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশসহ এক চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি ইতোমধ্যেই নিয়মিত বিড়ম্বনায় পরিনত হয়েছে। শীতে তাপমাত্রা কম থাকার সুবাদে পশ্চিম জোনে বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকার ফলে ঘাটতিও তেমন ছিল না। ফলে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও সুবিধাভোগী আমলারা বিবষয়টি নিয়ে যথেষ্ঠ অহমিকা প্রকাশ করতে শুরু করলেও তাপামাত্রার পারদ ওপরে ওঠার সাথে তাদের সব অহংকার চুপসে গেছে ইতোমধ্যে।
বিদ্যুতের অভাবে পশ্চিম জোনের সব নগর ও মহানগরগুলোতে পানি সরবারহ ব্যবস্থা পর্যন্ত বিপর্যস্ত। সরকারি- বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে মারাত্মকভাবে। চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ অনেকটাই বর্ণনার বাইরে।
ভোলায় মাত্র ৬মাস আগে স্থাপিত প্রায় ২শ’ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টার্বাইন পাওয়ার স্টেশনটির ২টি ইউনিটই বন্ধ রয়েছে গ্যসের অভাবে। পিডিবি’র ঐ উৎপাদন ইউনিটটি থেকে এখন মাত্র ৬৫মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সরবারহ হচ্ছে। বরিশালে স্থাপিত সামিট পাওয়ারের ১২০ মেগাওয়াটের নতুন উৎপাদন কেন্দ্রটি থেকেও নির্বিঘেœ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই বেসরকারি এ পাওয়ার স্টেশনটির কোন কোন না কোন ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১৭ মেগাওয়াটের ৭টি ইউনিটের মাধ্যমে সামিট পাওয়ারের এ উৎপাদন কেন্দ্রটি থেকে এখনো পরিক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রীডে ৮০Ñ১১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ভোলার গ্যাস টার্বাইন ও বরিশালের সামিট পাওয়ার স্টেশনের উৎপাদন ঘন ঘন বিঘিœত হওয়ায় পশ্চিম জোনে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরো বাড়ছে। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে এ দুটি উৎপাদন কেন্দ্রের ৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের হিসেব করে পশ্চিম জোনের হিস্যা নির্ধারণ করা হলেও ইউনিটগুলোর উৎপাদন বন্ধ বা ব্যাহত হবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হিস্যা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে প্রচ- দাবদাহের মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ ফরিদপুর অঞ্চলের ২১টি জেলায় দুঃসহ বিদ্যুৎ সংকটে সাড়ে ৩কোটি মানুষের দূর্ভোগ এখন বর্ণনার বাইরে।
ঘাটতির পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরো নাজুক করে তুলছে। প্রায় প্রতিদিনই নগরীর হাতেম আলী কলেজ ফিডারসহ বিভিন্ন ফিডারে রক্ষণাবেক্ষণের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ থাকলেও আকাশে মেঘ জমলেই এনগরীর বেশীরভাগ এলাকায়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। এর সাথে পিজিসিবি’র কেন্দ্রীয় লোড ডেসপাস সেন্টারে দুর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বরিশাল মহানগরীর কাশীপুর ৩৩ কেভি লাইনটিসহ বরিশালÑঝালকাঠী, বরিশালÑমুলাদী ও বাগেরহাটÑপিরোজপুর ৩৩ কেভি লাইনগুলো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ফলে লোডসেডিং-এর বাইরেও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ থাকছে আরো অনেক সময়। যা সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে।
বিদ্যুৎ নিয়ে বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিষয়ে পিডিবি, বা বিতরণ কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ কিছুই বলতে পারেন নি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন