রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভারতীয় ঋণে ১১শ’ বাস-ট্রাক : বিআরটিসি’র সব ডিপোতেই দুর্নীতি-ওবায়দুল কাদের

প্রকাশের সময় : ১২ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন স্বয়ং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রতিষ্ঠানটির ২১টি ডিপোর সবগুলোই দুর্নীতির কেন্দ্রস্থল বলে তিনি মন্তব্য করেছে। তিনি বলেন, ‘ডিপোর দুর্নীতির মূলহোতা হচ্ছে ডিপোর ম্যানেজার। দুর্নীতি দূর হলেই বিআরটিসি’র উন্নতি হবে।’
গতকাল (সোমবার) মতিঝিলের বিআরটিসি ভবনে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে দুর্নীতির দায়ে প্রতিষ্ঠানটি ঋণে জর্জরিত থাকলেও নতুন করে ভারত থেকে আরো ঋণ নিয়ে ৬০০ বাস, ৫০০ ট্রাক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ডিপো ম্যানেজারদের কর্মকা-ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে ডিপোগুলোতে বাস মেরামত করা যাচ্ছে না, এ খবর তিনি জানতেন না। ‘একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে তা প্রত্যাশিত নয়। এতো খাটাখাটি করছি কিন্তু রেজাল্ট পাচ্ছি না। জনগণ যদি রেজাল্ট না পায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধতা থাকে না।’
মন্ত্রী কমলাপুর ডিপো ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আনা একটি আভিযোগ পড়ে শোনান। তিনি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য বিআরটিসি’র চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন। যদি তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হয় দুদক দিয়ে তদন্ত করাবেন বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দুর্নীতির সব দায়ভার আমার ওপর বর্তায়। এটা আমি হতে দিতে পারি না।’
ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত বিভিন্ন বিআরটিসি বাসের অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক গাড়িতে ফ্যান, লাইট নেই। মহিলাদের উঠতে দেয় না। সকালের দিকে দু’একটি ট্রিপ দিয়ে বিকালে ইজারাদারদের হাতে তুলে দেয় ডিপো ম্যানেজাররা। সব সমস্যা ডিপোর মধ্যে। এটা হতে দেয়া হবে না। কেউ বিআরটিসিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্ত্রী কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দুটি বিআরটিসি বাস দেয়ার জন্যও চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।
স্কুল শিক্ষার্থী শতাব্দীর আবেদনে বাস দেয়ার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঘুরে দেখেছি হাজার শতাব্দীরা সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে পরিবহন না পেয়ে ভোগান্তিতে। আমি না হয় এক শতাব্দীকে বাস দিতে পেরেছি। কিন্তু হাজার শতাব্দীকে দিতে পারিনি। তাদের ভোগান্তি আমাকে কষ্ট দেয়, আত্মতৃপ্তি তাই আসে না।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে এক মেয়ে আমাকে মহিলা বাসসার্ভিস না থাকায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছিল। সেখানে বসেই আমি বিআরটিসি চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিআরটিসি মহিলা বাস সার্ভিস চালুর কথা বলি। পর দিনই সেটা চালু হয়েছে। শতাব্দীর প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, আমি তার দৃঢ়তায় মুগ্ধ। ভোগান্তি শুধু শতাব্দীর নয়, ওই এলাকার সব নারীরই। তাই বিআরটিসি চেয়ারম্যানকে বলে মহিলা বাস সার্ভিস চালু করেছি।
মন্ত্রী বলেন, এক শতাব্দীর অনুরোধ আমি মন্ত্রী রক্ষা করতে পেরেছি। এই দৃশ্য শুধু ঢাকার নয়, সব স্থানেই। মফস্বলে আরো বেশি। কিন্তু দিতে পারছি কতোটা? জনগণের দাবি ও অধিকার আদায়ে কাজ করতে না পারলে সততার কোনো দাম নেই বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন