ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কিছু পুলিশ সদস্যের অসততা ও অপরাধের জন্য পুরো বাহিনী দায়ী নয় -আইজিপি

প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, কিছু পুলিশ সদস্যের অসততা ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের কারণে পুরো বাহিনীর এত এত অর্জন ম্লান হতে পারে না। যেকোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অনেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫ বছরে বিভিন্ন অপরাধের জন্য ৭০৯ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে অপরাধী পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করাসহ বিভিন্ন শাস্তি রয়েছে। অবশ্য ২৯৩ জন পুলিশ সদস্যের সাজা আদালত মওকুফ করেছেন।
আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, নাগরিকদের একাংশ আইন মানে না। তবে আইন না মানলেও পুলিশ সদস্যের কাজ নয় নাগরিকদের মারধর করা। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে হবে। এরপর যদি তার অপরাধ গুরুতর না হয়, আত্মীয়-স্বজন ডেকে তাকে ছেড়ে দিতে হবে। অপরাধ গুরুতর হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন। তবে আইন অমান্যকারীকে আটক করে মারধর করবেন না।
এসময় এ কে এম শহীদুল হক বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এ দেশের অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মানতে চান না। আইন অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতে হয়। অল্পসংখ্যক পুলিশ দিয়ে অধিক সংখ্যক নাগরিকের ওপর আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে মুষ্টিমেয় পুলিশ সদস্যরা অতিরঞ্জন করেন। অপেশাদার আচরণ করেন। যার দায়ভার পুলিশ বিভাগের ওপর এসে পড়ে। যারা আইন মানেন না, তাদের অনুরোধ করছেন, যাতে তারা শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলেন।
আইজিপি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ ও অপরাধের সংখ্যা কমাতে সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য সারাদেশে ৫৫ হাজার ৩১৩টি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা ৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৪৩ জন। এই বিশাল নাগরিকের বহর পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির কাজ করছেন। অনেক ছোট ঘটনায় এখন আর থানা বা আদালতে মামলা করতে যেতে হচ্ছে না। মাদক, যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধেও কাজ করছেন তারা।
শহীদুল হক বলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৬’ শুরু হতে যাচ্ছে। ওইদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি এবার ১০২ জন পুলিশ সদস্যকে সেবা ও সাহসিকতায় পুরস্কার দেয়া হবে। এর মধ্যে ছয় জন মরণোত্তর পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন,জঙ্গিবাদ রুখতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ বাহিনী আছে। বাংলাদেশে নেই। এ কারণে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০টায় পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার সাহসিকতা ও সেবার জন্য মোট ১০২ জন সদস্যকে পদক দেয়া হবে।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯২ দিন ধরে চলা বিরোধীজোটের নাশকতার উদাহরণ দিয়ে আইজিপি বলেন, ওই সময়ের ধারাবাহিক নাশকতায় পুলিশের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩৩৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতায় ৮০ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৮৪৩ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ ক্রান্তিলগ্নে থেকে জনগণের নিরাপত্তা দিতে কাজ করেছেন। এসব ঘটনায় ১ হাজার ৮৪১টি মামলা দায়ের হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এসব মামলার দায়ী ব্যক্তি, উস্কানিদাতা এবং সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজি জাভেদ পাটোয়ারি, অতিরিক্ত আইজি(প্রশাসন) মোখলেছুর রহমানসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন