শুক্রবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ঢাকা-লন্ডন কার্গো ফ্লাইট চালু নিয়ে সিদ্ধান্ত ২৯ এপ্রিলের পর মেনন

প্রকাশের সময় : ২৩ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্য সরাসরি কার্গো ফ্লাইট কবে চালু হবে তা নিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিলের পর সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’-এ তিনি এ কথা জানান।
অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণ দেখিয়ে গত ৯ মার্চ ঢাকা-যুক্তরাজ্য সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাজ্য।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হলে পুনরায় কার্গো ফ্লাইট চালু করে দেয়া হবে। এ নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চিঠির মাধ্যমে সে দেশের সরকার জানিয়েছে, আমাদের গৃহীত পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আগামী ২৯ এপ্রিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল শাহজালাল বিমানবন্দর পর্যবেক্ষণে আসবে। তারপর তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই কার্গো ফ্লাইট চালু হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানববন্দরে নিরাপত্তার উন্নয়নে বেসরকারি ব্রিটিশ কোম্পানি রেডলাইন এভিয়েশন সিকিউরিটিজের সঙ্গে ২১ মার্চ চুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার। এর এক দিন পর থেকেই নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে কোম্পানিটি। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্ক্যানিং ব্যবস্থা ও যাত্রীসেবায় কর্মকর্তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছে রেডলাইন।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীব্যাপী সন্ত্রাস ও অন্যান্য ঘটনার কারণে সব জায়গায় ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এজন্য প্রত্যেকটি দেশই তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে। এই ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ১৮টি দেশের ৩০টি বিমানবন্দরেই পর্যবেক্ষণ শুরু করে যুক্তরাজ্য। এরপর তারা আমাদের নিরাপত্তার দুর্বলতার অজুহাতে বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এজন্য আমরা কনসালটেন্সি হিসেবে রেড লাইনকে নিয়োজিত করেছি। তাদের সঙ্গে আমাদের ২ বছরের চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে গেলে, লক্ষ্য পূরণ হলে, যে কোনো সময়ই তাদের সঙ্গে চুক্তি শেষ করে দিতে পারি।
‘রেড লাইন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে অ্যাডভাইজিং, অপারেশন ও ট্রেনিংÑএই তিনটি বিষয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তারা আমাদের ৬০ জন স্ক্যানারকে ট্রেনিং দিয়েছে’ বলেন বিমানমন্ত্রী।
২০১৮-এর মধ্যে পর্যটনে সাড়ে তিন লাখ কর্মসংস্থান
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ও সরকারের কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন মন্ত্রী। ২০১৬ পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে দেশে ২০১৬-১৭ সালে ১৫ শতাংশ পর্যটক বৃদ্ধি, ১৭ সালে ১৮ শতাংশ ও ১৮ সালে ২০ শতাংশ পর্যটক বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৮ সালের মধ্যে পর্যটন খাতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের ট্যুরিস্টদের আকৃষ্ট করতে চাই। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের অপারেটররা যৌথ ট্যুর করার পরিকল্পনা করছে। তাহলে একজন পর্যটক সে দেশ ঘুরতে এসে একই সঙ্গে বাংলাদেশও ভ্রমণ করতে পারবেন। ‘পর্যটন এখন শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এখন এটা রিলেজিয়াস ট্যুরিজম, হালাল ট্যুরিজম, কালচারাল, ইকো, কমিউনিটি ট্যুরিজম Ñ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত,’ বলেন পর্যটনমন্ত্রী।
ট্যুরিজম বর্ষের লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে, বিভিন্ন দেশে রোড শো করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, কমিউনিটি ট্যুরিজমের উন্নয়নে দেশে ১৫টি কমিউনিটি ভিলেজ স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
‘ওসেন ক্রুজ’ প্রবর্তনের জন্য কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে মেনন বলেন, পর্যটকদের জন্য ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে আবার ভারতে ওসেন ক্রুজ ডেভেলপের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। একটি কোম্পানির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, কোম্পানিটি ২০১৭-এর ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করবে। পর্যটন সেক্টরে এখনও তেমন ভালো কিছু দৃশ্যমান নয়, তবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর হবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
২০১৮ সালের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর করতে কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৬ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের ‘হাবে’ পরিণত করা হবে, যেখানে বিভিন্ন দেশের বিমান এসে নামবে। এজন্য সরকারের তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পদ্মার ওপারে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিমানববন্দর স্থাপিত হবে। সেখানে এজন্য চারটি জায়গা দেখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিমান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রয়েছে বলেই মনে হয়। অন্তত গত দুই বছরে আমার সেটা মনে হয়নি। ৬ বছর টানা লাভের পর বিমান গত বছরও লাভের মুখ দেখেছে। আশা করছি এবারও বাংলাদেশ বিমান লাভের ঘরেই থাকবে।
রাজনৈতিক দলকে নিজেদের যোগ্যতায় ঐক্যবদ্ধ রাখতে হয়
বিএনপির ঐক্য ভাঙতে সরকার পরিকল্পনা করে তৃণমূল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করছে, এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলকে নিজেদের যোগ্যতাতেই ঐক্যবদ্ধ রাখতে হয়। নিজেদের ঐক্য থাকলে কেউ এসে ভেঙে দিতে পারে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাম নেতা মেনন বলেন, বিরোধী দল কোনো গণতান্ত্রিক আচরণই করছে না। বিএনপি নিজেরাই নিজেদের হীনবল করেছে। তারা যে কোন গণতান্ত্রিক আচরণ দেখাতেই ব্যর্থ।
এখানও বিরোধী দল হিসেবে রাশেদ খান মেনন বিএনপিকেই মনে করছেন উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় পার্টিকে আমি বিরোধী দল মনে করি না। তারা সরকারেও আছে আবার বিরোধী দলেও আছে। তাই শক্তিশালী বিরোধী দল বলতে আমি বিএনপিকেই বুঝাতে চাচ্ছি।
বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই এমন কথা প্রসঙ্গে সরকারের শরিক এই মন্ত্রী বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতাটাও একটা আইনি কাঠামোর অধীন। পত্রিকায় প্রত্যেকদিন লেখা হচ্ছে, অনলাইনে যে যেভাবে নিজের মত প্রকাশ করছে, টকশোতে সমালোচনা করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।
এ সময় ডিআরইউ’র সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন