বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সারাদেশে স্বস্তির বৃষ্টি ঝড় বজ্রপাতে নিহত ৮

প্রকাশের সময় : ৩ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৪৫ পিএম, ২ মে, ২০১৬

ইনকিলাব ডেস্ক : দীর্ঘদিনের তাপদাহের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে রোববার সন্ধ্যায় বৃষ্টি জনমনে স্বস্তি এনে দিলেও কালবৈশাখী ঝড়ের তা-ব ও বজ্রপাতে কমপক্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের কাছে ট্রলার ডুবিতে ২ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত তাদের কোন সন্ধ্যান মিলেনি। বহুস্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ায় তার ছিঁড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভেঙ্গে গেছে খুঁটিও। বহু বাড়ি ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চাল উড়ে গেছে। ফল ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নাসিরনগরে দুই কৃষকের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গতকাল দুপুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুড়া গ্রামের হাজি শাহেদ মিয়ার ছেলে নুরুদ্দিন (২২) এবং চাতলপাড় ইউনিয়নের ঘুজিয়াখাইল গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে মোঃ রতন মিয়া (৩০) তারা দু’জনই মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ ও চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আবদুল আহাদ জানান, জমিতে ধান কাটার সময় ওই দুইকৃষক বজ্রপাতে মারা যায়।
কসবায় গাছ চাপায় শিশুর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে আনোয়ার (১০) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। গত রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার কাইয়ূমপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আনোয়ার নোয়াগাঁও গ্রামের গোলাম রাব্বানীর ছেলে এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। এছাড়া জেলার কয়েকটি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তা-বে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নাটোরে বজ্রপাতে এক ছাত্রের মৃত্যু
নাটোর জেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বাগাতিপাড়ার ছোট পাঁকায় বজ্রপাতে আশিকুর রহমান নামে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ের আগে সে বাড়ির পাশের ক্ষেতে সেচ দিতে যায়। এসময় বজ্রপাতে সে ঝলসে যায়। দ্রুত বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আশিকুর রহমান স্থানীয় এনামুল হকের ছেলে এবং সে এবারে পাঁকা হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।
টেকনাফে কলবৈশাখীর ঝড়ে বজ্রপাতে নিহত ২
টেকনাফ উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের টেকনাফে বজ্রপাতে দুইব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এরা হচ্ছে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে রবিউল হাসান (১৯), টেকনাফ পৌরসভার উত্তর জালিয়াপাড়ার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে সিরাজ মিয়া (৩০)। সোমবার ভোর রাত ১টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মাজেদ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে ২ ব্যক্তি মৃত্যু হয়েছে। খরবপেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে টানা এক মাস ধরে প্রখর রোদ, তীব্রতাপদাহে অতিষ্ঠ হয়েছিল জনজীবন। হঠাৎ কাল বৈশাখীর থাবায় জনমনে স্বস্তি এলেও বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। এতে কাঁচা ঘর-বাড়ি, গাছপালার ক্ষতি হলেও ভেসে গেছে লবণ মাঠ ও ঘটেছে নৌকা ডুবির ঘটনা। নিখোঁজ রয়েছেন নৌকাসহ অনেক মাঝিমাল্লা।
নড়াইলে অর্ধশতাধিক গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
নড়াইল জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে ও তার ছিঁড়ে লোহাগড়া উপজেলার আমাদাসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝড় শুরু হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল সোমবারও একই অবস্থায় ছিল।
লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের ইলিয়াছ খান, মহসিন শেখ, সাইদ মোল্যা, ইকবাল কাজী, নূর ইসলাম খানসহ ভূক্তভোগীরা জানান, ঝড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামে তাল গাছ উপড়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় ছিঁড়ে গেছে তার। এমনকি বিদ্যুতের মিটার পর্যন্ত গাছে ঝুলছে। এছাড়াও বাজার এলাকায় তার ছিঁড়ে পড়ে আছে।
চাঁদপুরে ৫টি মালবোঝাই ট্রলার ডুবি
চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে চাঁদপুর মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে ৫টি মালবোঝাই ট্রলার এবং কাগো ডুবে গেছে। রোববার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গতকাল মালামালসহ ডুবে যাওয়া ৪টি ট্রলার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানায়। তবে ৩৯০০বস্তা সিমেন্ট বোঝাই কার্গো উদ্ধারের এখনো তৎপরতা শুরু হয়নি।
এদিকে কালবৈশাখীর ঝড়ে চাঁদপুর শহরের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুতের তারের উপর গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। বিদুৎহীন হয়ে পড়ে শহরবাসী। এতে সারারাত অন্ধকারে থেকে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। প্রায় ২০ ঘন্টা পর সোমবার দুপুরে বিদ্যুৎলাইন মেরামত করে পুণরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
পাটুরিয়ায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ দুই শ্রমিক
মানিকগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, রোববার সন্ধ্যায় ঝড়ের কবলে পড়ে রোববার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের কাছে ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ দুই শ্রমিকের সন্ধান এখনো মেলেনি। নিখোঁজরা হলো- রহিস প্রামানিক (৫০) ও কুদ্দুস প্রামাণিক (৫৫)। তাদের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায় বলে জানা গেছে।
পাটুরিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম হোসেন জানান, পাবনা এলাকা থেকে বালু নিয়ে আট শ্রমিক পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে সন্ধ্যায় বালুবাহী ট্রলারটি ঘূর্ণি ঝড়ের কবলে পড়ে। ডুবে যাবার পর ছয় শ্রমিক সাতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও দুই শ্রমিক তীরে উঠতে পারেনি। গতকাল (সোমবার) সারাদিন নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বহু চেষ্টা করলেও নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান করতে পারেনি।
কুমিল্লায় নিহত ১ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
কুমিল্লা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, রোববার সন্ধ্যা সাতটায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। তারপর ভারি বৃষ্টিপাত। প্রায় ৪০মিনিট স্থায়ী বৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লার অধিকাংশ এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে। গাছ চাপায় নিহত হন এক বৃদ্ধ। জমির ফসল ও বিভিন্ন স্থানে বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঝড়ো হাওয়া শুরুর সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎসংযোগ। কুমিল্লা নগরীসহ আশপাশের এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্নের দুর্ভোগ মানুষকে পোহাতে হয় গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত। এদিকে রোববারের কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে ভারি বৃষ্টি ও সোমবার দুপুরের টানা একঘন্টার বৃষ্টিপাত ভ্যাপসা গরমের কবল থেকে মানুষকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
চট্টগ্রামে স্বস্তির বৃষ্টি
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, রেকর্ড দাবদাহের পর কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বৃষ্টি বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে স্বস্তি এনে দিয়েছে। গত দুই দিনের হালকা বৃষ্টিতে গরমের তীব্রতাও কমে গেছে। গতকাল (সোমবার) বিকেলে দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রামে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। রোববার রাতেও চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয়। গতকাল বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। গত দুই দিনের কালবৈশাখীতে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কয়েকটি বিলবোর্ডও ভেঙে পড়ে। তবে তীব্র দাবদাহ শেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সবাই। আবহওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টিপাত আরো দু-একদিন অব্যাহত থাকবে। আর সেই সাথে গরমের তীব্রতা কমে আসবে। গতকাল চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৫ এবং সর্বনিম্ন ২১.৬ ডিগ্রি।
রাজবাড়ীতে ব্যাপক ক্ষতি
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীতে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ এলাকায় গাছ এবং উঠতি ধান, কাঁচাঘর ভেঙে গেছে। সেই সাথে বেশ কয়েকটি মাছ ধরা ডিঙ্গি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতায় জেলা সদরের বরাট, মূলঘর, আলীপুর, মিজানপুর, রামকান্তপুর এলাকায় কয়েক শতাধিক গাছ এবং কাঁচা বসত ও রান্নাঘর ভেঙে যায়। জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয় এবং মুন্সি বেলায়েত হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাল উড়ে যায়। সেই সাথে উঠতি বোরো ধান মাটিতে মিশে গেছে। প্রচ- বাতাসে পদ্মা নদীতে মিজানপুর ইউনিয়নের মোছা ঘাটা ও গোদার বাজার এলাকায় রাখা মাছ ধরা ৮টি ডিঙ্গি নৌকা ডুবে যায়। এসব নৌকার কায়েকটি গতকাল সোমবার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জে ল-ভ- বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান,
গত রোববার সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী বয়ে যাওয়া এ ঝড়ে বেশ কিছু বসতঘর, মাদ্রাসাসমূহের টিনে নির্মিত শ্রেণিকক্ষসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর আওতায় আনুমানিক শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে বলে জেনারেল ম্যানেজার নিশ্চিত করেছেন।
সরজমিন গতকাল (সোমবার) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায় গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় টিনের নির্মিত বসতঘর, বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম, ইরি-বোরোসহ মাঠের ফসলসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাজশাহীতে ঝড় এলেও বৃষ্টি নামেনি
রাজশাহী ব্যুরো
মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখীর ঝড় গত রোববার হানা দিয়েছে রাজশাহীতে। ঝড়ে অনেক কিছু ল-ভ- হলেও নামেনি কাক্সিক্ষত বৃষ্টি। সিক্ত হয়নি রাজশাহীর তপ্ত মাটি। তবে এতে গরমের দাপট কিছুটা হলেও কমেছে। রোববার দুপুর থেকে আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়। মাঝেমধ্যে চলে তর্জন-গর্জন। তীব্র তাপাদহে অতিষ্ঠ মানুষ আশায় বুক বাঁধে এই বুঝি রহমতের বৃষ্টি নামল। তিনটার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। দক্ষিণের পদ্মার বিশাল চর হতে ভেসে আসে বালি, রূপ নেয় ধূলিঝড়ে। চারিদিক ধুলোয় ধুলোয় ছেয়ে যায়। বাড়ে ঝড়ের গতি বেগ। গাছপালা কাঁচা ঘরবাড়ি সব ল-ভ- করে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা ঝড়ের তা-বে অনেক আধা পাকা ও কাঁচা বাড়ি[র চালা উড়ে যায়। ভেঙে পড়ে বড় বড় গাছপালা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আম, লিচু, লাউ, কুমড়োর মাচাসহ শাকসব্জির ক্ষেতের উপর দিয়েও যায় ঝড়ের তান্ডব। বহু আম লিচু ঝরে গেছে। সজনে গাছও ভেঙেছে ভালই।
ঝড় থামার পর দেখা যায় রাস্তার পাশের গাছ ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের উপর। ডিস লাইন টেলিফোন লাইনও হয় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। বহু প্রতিষ্ঠানের নিয়ন সাইন আর সাইনবোর্ড ভেঙে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে গলদঘর্ম হতে হয় বিদ্যুত কর্মীদের। আবহাওয়া অফিস জানায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ষাট কিলোমিটার। আর কোন বৃষ্টিপাতও রেকর্ড হয়নি। রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত না হলেও আশেপাশে বৃষ্টিপাত হওয়ায় ঠান্ডা বাতাসের রেশ পাওয়া যায়। ফলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। গতকাল দিনভর আকাশে মেঘ সূর্যের লুকোচুরি দেখা যায়। মানুষ আকাশপানে চেয়ে রহমতের বৃষ্টির আশায়। আবহাওয়া দপ্তর জানায় গতকাল রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে কদিন ধরে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি ওঠানামা করছিল তাপমাত্রা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন