ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পায়রা ও লেবুখালি সেতু হচ্ছে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা সেতু থেকে পায়রা বন্দর যাওয়ার জন্য পায়রা সেতু নির্মাণে কুয়েত আর্থিক সহায়তা করছে। পাশাপাশি লেবুখালি সেতুও কুয়েত সরকারের অর্থায়নে হচ্ছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার বিকেলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা একথা বলেন। এসময় সংসদে উপস্থিত থেকে অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করছিলেন কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল-মুবারক আল-হামাদ আল-সাবাহসহ দেশটির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আকাশ থেকে ভূমিতে চলে এসেছেন। আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। নির্মাণও খুব দ্রুত হচ্ছে। সেই সাথে রেল সেতুও হয়ে যাবে। এর সঙ্গে একটি সুখবর দিচ্ছি। মান্যবর কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী এখানে (সংসদে) উপস্থিত আছেন। আমরা কিছুক্ষণ আগেই আলোচনা করেছি এবং কতকগুলো এগ্রিমেন্ট সই করেছি। পায়রা বন্দরে যাওয়ার জন্য পায়রা সেতু নির্মাণে কুয়েত আমাদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তাছাড়া লেবুখালি সেতুটিও কুয়েতের অর্থায়নে হচ্ছে। কাজেই এইদিক থেকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য তিনি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। এখন আর সেশনজট নেই, ২৩ বছরেই ছেলে-মেয়েরা মাস্টার্স শেষ করতে পারছে। এরপরেও ৩০ বছর পর্যন্ত সময় রয়েছে। তাদের জন্য যথেষ্ট সময় রয়ে গেছে। এরপর আসলে আর কেউ যুবক থাকে না, পৌঢ় বা মধ্য বয়সী হয়ে যায়। নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে সেশনজট দূর করেছে। এখন আর কোনো সেশনজট নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা সময়মতো পড়াশুনা করতে পারছে। তাই ৩০ বছরই যথেষ্ট, ৩০ বছরের বেশি হলে তখন বলতে হবে মধ্য বয়সীদের চাকরি দিতে হবে। চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
পদ্মা সেতুর কাজ ৩১ শতাংশ সম্পন্ন
ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় ৩১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় ৩১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারব।
মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এ টি এম আবদুল ওয়াহহাবের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৬৫ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৭৩ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া (২) এর কাজ ৭৮ শতাংশ, মূল সেতু নির্মাণ কাজের ২১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ১৮ শতাংশ, প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি ৩১ শতাংশ হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, এইচআর ওয়ালিংফোর্ড নামের একটি ব্রিটিশ কনসাল্টিং ফার্মকে পায়রা বন্দরের কারিগরী ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই ও মহাপরিকল্পনা করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে।
পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত। এর প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
নারী-শিশু নির্যাতনে কঠোর শাস্তি
এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের নারী ও শিশু অপহরণ রোধে এবং নানাভাবে হত্যা ও নির্যাতনকারীদের শাস্তি প্রদানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন এবং নারী কন্যা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের লক্ষ্যে সারাদেশে ৪৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি হিসেবে প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২০ (৩) ধারা মোতাবেক বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্য সমাপ্ত করার বিধান রয়েছে। এ আইনের কঠোর শাস্তি বিধান রয়েছে।
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসকে জনগণের জন্য নিরাপদ করা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইসিটি অবকাঠামো সুরক্ষায় সরকার ২০১৪ সালে ‘জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কৌশলপত্র’ অনুমোদন করেছে। এছাড়া সাইবার অপরাধ দমনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০১৬-এর সময়োপযোগী সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এ আইনের সংশোধন করা হয়েছে।
তিনি জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ ও দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ তদন্তে সহায়তার জন্য তথ্য ও যোযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে। এছাড়া ফেসবুক, মাইক্রোসফট, গুগল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদানসহ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এছাড়াও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সাইবার থ্রেট ডিটেকশন এ্যান্ড রেসপন্স নামে প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্রামের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ
আওয়মী লীগের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় ৯০ শতাংশ জুড়ে গ্রাম রয়েছে এবং মোট জনসংখ্যার ৭২ শতাংশ গ্রামে বসবাস করে। গ্রাম ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার (জানুয়ারি ২০০৯ হতে অদ্যাবধি) ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের মাধ্যমে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুপেয় নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের গ্রাম ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে ২০০০ সালে পানি সরবরাহ কভারেজ ছিল ৭৪ শতাংশ, সেখানে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমানে কাভারেজ ৮৮ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। পাশাপাশি এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে স্যানিটেশন কভারেজের ক্ষেত্রেও সাফল্য ব্যাপক। যেখানে ২০০৩ সালে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগের হার ছিল ৪২ শতাংশ সেখানে বর্তমানে এ হার মাত্র ১ শতাংশ।
প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর দায়িত্ব সরকারের
আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মোছা. সেলিনা জাহান লিটার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে অটিস্টিক শিশুদের সুরক্ষায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিরলস পরিশ্রম করছেন। তার এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সরকার কর্তৃক ঘোষিত দেশের প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী বর্তমান সরকার দেশের অটিস্টিক শিশুসহ সকল প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। আইন দু’টির বিধিমালা-২০১৫ ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে মূল¯্রােতধারায় সম্পৃক্তকরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অটিস্টিট শিশুদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাভাবিক শিশুদের ন্যায় জীবনযাপনে উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ‘অটিস্টিক একাডেমি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকায় একটি অটিস্টিক একাডেমি স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য ইতোমধ্যে ঢাকার পূর্বাচলে ৮ নম্বর সেক্টরে ৩ দশমিক ৩ একর জমি পাওয়া গিয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশের অটিস্টিক শিশুদের মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পর্যায়ের ২ হাজার শিক্ষককে ৩ দিনের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ইতোমধ্যে ১৪৩টি উপজেলার প্রতিটিতে ১০০ জনের অংশগ্রহণে মোট ১৪ হাজার ৩০০ জনকে নিয়ে ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে।
১০ বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে
সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত দশ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপির ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ হতে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অনুসৃত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সংস্কারমূলক কার্যক্রমসমূহের সফল বাস্তবায়নের ফলেই বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক চাঙা অবস্থা প্রতিফলিত হয়েছে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা এ অর্থবছরে ছাড়িয়ে যাব আমাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ শতাংশ, যা ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ হবে মর্মে আমরা আশা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত দশ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপি’র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ হতে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চলতি র্অর্থবছরেও মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে হবে বলে আমরা আশা করছি। যা জিডিপির ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমাদের লক্ষ্য হল মধ্যমেয়াদে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ জিডিপির ২৬ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করা। একই সময়ে আমরা সরকারি বিনিয়োগও জিডিপি’র ৭ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করবো।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন