ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভয় পেয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা -মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে গণবিচ্ছিন্ন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়েছে। দুর্নীতি ও নাশকতার মামলার পর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা প্রমাণ করে ক্ষমতাসীনরা বেগম জিয়াকে ভয় পায়।
অবিলম্বে ভয়াবহ চক্রান্তমুলক এই মামলা প্রত্যাহারসহ বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি করে তিনি বলেন, স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যহত হলে দেশে অরাজনৈতিক শক্তি চরম উগ্রবাদ প্রাধান্য বিস্তার করবে যা কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। গতকাল দুপুরে দলের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিষয়ে দলের বক্তব্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ২১ ডিসেম্বরের প্রদত্ত বক্তব্যের কোথাও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতে পারে এমন কোনো বক্তব্যের লেশ মাত্র নেই। এ বিষয়ে দেশের বরেন্য ব্যক্তিবর্গ ইতিমধ্যে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন, তারা বলেছেন, তার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতে পারে এমন কোনো অংশ নেই।
আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, এই মামলা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার জন্যে হীন উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। গণবিচ্ছিন্ন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এই ধরণের হীন মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে এই শাসকগোষ্ঠি মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলকে নির্মূল করবার ভয়াবহ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। আমরা এই মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা জানাই।
একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল আরো অভিযোগ করেন, দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিরোধী নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সকল শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে গত সোমবার মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলা করেন।
তার মামলা আমলে নিয়ে ঢাকার হাকিম আদালত খালেদা জিয়াকে আগামী ৩ মার্চ হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিতে বলেছে।
গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীতে একটি আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে।’
২১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অপব্যাখ্যায় দলের তরফ থেকে দেয়া বিবৃতির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সেই বিবৃতিতে আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছিলাম, তার বক্তব্যের উদ্ধৃত অংশটি ছিলো মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক সংখ্যা নিরুপনের জন্য যাতে করে শহীদদের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করা যায়।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, যুদ্ধকালীন সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, নিজে দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে কারাবন্দি ছিলেন। তিনি তিনবার দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা। বেগম জিয়া মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীলই নন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মর্যাদা সংরক্ষন এবং তাদের পরিবারবর্গ ও সন্তানদের সার্বিক কল্যাণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। যা অতীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেও করেননি।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস রচনার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। বেগম জিয়ার সরকার সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সংরক্ষণ করার জন্য স্মৃতিস্থাপনা নির্মান করেছিলেন।
বিএনপির এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, আব্দুস সালাম পিন্টু, শওকত মাহমুদ, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ইটিভির চেয়ারম্যান আব্দুুস সালামসহ কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।
সরকারকে বলব, এখনো সময় আছে, দেশকে সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সকল রাজনৈতিক বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দিন। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যথায় দেশে অরাজনৈতিক শক্তি চরম উগ্রবাদ প্রাধান্য বিস্তার করবে যা কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। দেশের জনগণ তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের দাবি আদায় করবে।
মার্চে দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ঘোষণার দুইদিন পর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরকে কাউন্সিলকে বাঁধাগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা একেবারে অমূলক আশঙ্কা নয়। তবে এটা গত ৭ বছর ধরে একই প্রক্রিয়া আমাদের ওপর এই মামলা-মোকাদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া চলে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে আমাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা, সরিয়ে দেয়া, বিরোধী রাজনীতির মতকে না রাখা। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন