ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা, দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশ্বাস

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৬:৪৩ পিএম | আপডেট : ৭:০৯ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি (মধ্যে) ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল


বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে জাতিসংঘের তিনটি রোম ভিত্তিক সংস্থা (আরবিএ) এফএও, ডাব্লুএফপি এবং আইএফএডি এর প্রধানরা।

গত বুধবার বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এমপির সাথে সংগঠনের সদর দফতরে ওই তিন সংস্থার প্রধানরা পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। তারা বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার প্রতি আলোকপাত করেন। আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই তিনটি সভায়ই জাতিসংঘের সংস্থাগুলির কাছ থেকে একটি অসাধারণ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।

সংস্থার প্রধানরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তারা গত দশকে বাংলাদেশের জিডিপিতে ৬ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমার হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তারা অত্যন্ত প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বে মানবতার এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) এর মহাপরিচালক জসি গ্রাজিয়ানো ডি সিলভা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি বাংলাদেশে তার সাম্প্রতিক সফরকে স্মরণ করেন এবং জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন মায়ানমার নাগরিকদের অমানবিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণের পক্ষে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য তাদের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি ডব্লিউএফপি জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য সহায়তা ৫৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৯৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি করেছে।

ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) এর মহাপরিচালক জসি গ্রাজিয়ানো ডি সিলভা অসাধারণ অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং সহযোগিতার শুরু থেকে বাংলাদেশকে এফএও’র ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মূল্যের ৩২৬ টি জাতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগীতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে এফএও ৩৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যা খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য ব্যবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রে ৯৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এফএও প্রধান জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লুএফপি)’র অবিলম্বে এবং দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে কৃষিখাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন স্থানান্তর করার জন্য কৃষি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য এফএও-এর প্রধানকে অনুরোধ করেন। তিনি এফএওওকে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আনারস, লিচুর মত উন্নত ফলের জন্য ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন করার আহ্বান জানান।

ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভলপমেন্ট (আইএফএডি) এর সভাপতি জিলবার্ট এফ হাউংবো জানান, ১৯৭৪ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে অনুদান এবং কম সুদের ঋণ হিসাবে আইএফএডি ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করেছে যা প্রকল্পের প্রায় ৪৬৪ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, অধিকন্তু ১১ দশমিক ১ মিলিয়ন পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ৩৩টি গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আইএফএডি ঋণ এবং অনুদান হিসাবে ৭১৭ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিযয়োগ করেছে। জিলবার্ট এফ হাউংবো গ্রামীণ জনগণের জন্য সম্পদের বিতরণ ও সদ্ব্যবহারে চরম দক্ষতার পরিচয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভলপমেন্ট (আইএফএডি) এর সভাপতি জিলবার্ট এফ হাউংবো ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমাগত সহায়তার জন্য সংগঠনের প্রধানদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বাংলাদেশে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমার নাগরিকদের মানবিক সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশকে এফএও’র উল্লেখযোগ্য সহায়তা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের সহায়তার বিষয়টিও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ অর্জন করেছে এবং গত দশকে এ অর্জন ছিল সবসময় ৬ এর উপরে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্বেও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ একটি প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও জানান, বাংলাদেশ এমডিজি অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং ইতোমধ্যে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশের স্থিতি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সম্বলিত এসডিজি মূলধারার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

ভবিষ্যৎ যাত্রায় বাংলাদেশ ও এফএও-এর মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে দৃষ্টভঙ্গি গ্রহণের জন্য এফএও’র মিডিয়া সেন্টার অর্থমন্ত্রীর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। অর্থমন্ত্রী ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯-এ অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক কৃষি ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (আইএফএডি) এর গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় ৪২ তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইতালির রোম রয়েছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন