ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে -ড. মোশাররফ

প্রকাশের সময় : ২২ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলীয় নেতা-কর্মী-চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। লাখ লাখ লোক অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করতে চাই, আপনারদের সকল ক্ষমতা নিয়োগ করে উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ ও জানমাল রক্ষা করার জন্য তাদের সহযোগিতা করুন, সাহায্য করুন। একই সাথে আমরা বিএনপির নেতা-কর্মী ও আমাদের ডক্টরস এসোসিয়েশনের চিকিৎসকসহ যে যেখানে অবস্থান করছেন, আপনারা মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন। দুর্যোগ কবলিত জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করুন। যারা ঘর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেসব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসুন।
ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সভা থেকে আমরা সরকারকে যেমন আবেদন করছি, তেমন আমাদের দল ও পেশাজীবীদের প্রতিও এই আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, তিনি যেন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করেন, হেফাজত করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব-এর উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শহীদ জিয়া, গণতন্ত্র ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিএনপির ঘোষিত পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি শুরু হলো।
দেশের গণতন্ত্র কি অবস্থায় আছে তা তুলে ধরে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান এদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বাধীনতার পরে যে সরকার ক্ষমতায় ছিলো তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলো। আজকে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত সেই সরকার তারা বিনাভোটে নির্বাচিত, নিজেরা নিজেদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এই সরকার জনগণের ভোটে সরকার নয়, জনগণের প্রতিনিধিত্বের সরকার নয়। সেজন্য আমরা এখন দেখতে পারছি, সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্র আজ ভূলন্ঠিত।
বিএনপি’র এই সিনিয়র নেতা বলেন, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনসমূহে যখনই বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় দেখে তারা তাদের কৌশল পাল্টিয়ে দিয়ে আর ভোট হতে দেয়নি। জোর করে কেন্দ্র দখল করে, আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে, বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দিয়ে নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছে। গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যার সূচনা সেই নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও ভোট নয় দখলের সমারোহ চলছে। তিনি বলেন, জনগণ আজ ভোট থেকে বঞ্চিত। এককথায় বলতে চাই, গণতন্ত্র আজকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছে।
বিএনপিকেই যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে উল্লেখ করে দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এদেশের জনগণ প্রস্তুত হয়ে রয়েছে, এই দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেদিন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আহ্বান জানানো হবে, সেদিন জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই মাঠে নামবে।
বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ সকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। আজকেও পত্রিকায় বেরিয়েছে কুপিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা। আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতি হয়েছে যে, এদেশের পুলিশের আইজি জনগণকে পরামর্শ দিতে হয়েছে যে আপনারা নিজস্ব ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করুন। এই সরকারের জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা নেই।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভঙ্গুর। ব্যাংকগুলোতে ডিজিটাল ডাকাতি হচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, সুশাসন তো দূরের কথা। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালিত হতে পারে না। আমরা সর্বক্ষেত্রে যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছি, তার থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
শহীদ জিয়ার জীবন-দর্শন অনুসরণে দেশকে এগিয়ে নেয়ার সংকল্পও পুনর্ব্যক্ত করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, বিএনপিকে ভয় পায়, শহীদ জিয়াকে ভয় পায় বলে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সরকার একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না, বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না। এই দল জনগণের মণিকোঠায় আছে।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ড্যাব-এর মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সাবেক এমপি দীপেন দেওয়ান, ড্যাব নেতা শহিদুল আলম, রফিকুল কবীর লাবু, এম এ সালাম, এম এ করিম, সাইফুল ইসলাম সেলিম, রফিকুল ইসলাম রফিক, মির্জা লিটন, এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এডভোকেট মেজবাহউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন