ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

আবারো ১/১১-এর আশঙ্কা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের

প্রকাশের সময় : ২৪ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম



স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের অপশাসন দেখে আবারো ১/১১-এর শাসনামলের মতো সব রাজনীতিবিদের কারাগারে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এই সরকার দেশটাকে যেদিকে নিচ্ছে, তাতে আমার মনে হয়, আমাদের হয়তো জেলে যেতে হবে নিকট সামনে। কিছুদিন পর সেই জেলখানায় উনাদের (ক্ষমতাসীন) সঙ্গে আমাদের দেখা হবে। আমার মনে হয়, জেলখানায় আমরা একসাথেই এনজেয় (ভোগ) করব।
শেখ হাসিনা যাদের পরামর্শে যা যা করছেন, ইনু সাহেবরা যা যা উসকানি দিচ্ছেন, তাতে আমরা মনে হয়, আবার একটা মহামিলন হবে। হয়তো আমরা আগে গিয়ে জেলখানা পরিষ্কার করব। উনারা একটু পরে যাবেন, উনাদের আমরা রিসিপ করব। তবে সবাইকে যেতে হবে।
গত সোমবার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আব্দুুল জাব্বার খানের বড় ছেলে সাদেক খান ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
গত শতকের পঞ্চাশের দশকে দৈনিক সংবাদে সাংবাদিকতা শুরু করা সাদেক খান বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘হলিডে’তে লিখেছেন।
সংবাদপত্রে কাজ করার পর তরুণ বয়সে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। তার নদী ও নারী সিনেমাটি মুক্তি পায় ষাটের দশকে।
রাজনৈতিক দর্শনে মওলানা আব্দুুল হামিদ খান ভাসানীর অনুসারী সাদেক খানের সঙ্গে বিএনপির সখ্য ছিল। ২০১২ সালে ‘বাংলাদেশ গণশক্তি দল’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের  ঘোষণা  দেন তিনি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের উদ্যোগে মরহুম সাংবাদিক সাদেক খানের স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়।
১/১১-এর সময়ে রাজনীতিবিদদের কারাগারে অবস্থানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ওই সময়ে জেলখানায় মতিউর রহমান নিজামী (যুদ্ধাপরাধে ফাঁসি হওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমীর) নামাজে ইমামতি করতেন। শেখ ফজলুল করীম সেলিমসহ (আওয়ামী লীগের  প্রেসিডিয়াম সদস্য) অন্যরা তার পেছনে নামাজ পড়তেন এবং তারা একসঙ্গে বসতেন, কোরআন তেলাওয়াত করতেন, তরজমা করতেন। যারা ওই সময়ে জেলখানায় গেছেন তারা সবাই জানেন। তার মানে কী? সাপ, ব্যাঙ, ভেজী সব একসঙ্গে থাকত।
দেশের বর্তমান অবস্থাকে সঙ্কটজনক অভিহিত করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও  সার্বভৌমত্ব একটি জাতির সতীত্ব। এই সতীত্বের ওপর যেভাবে আঘাত আসছে, তাতে আমরা আজকে একে ধরে রাখতে পারছি না। তাই সবাইকে বলব, আমরা যদি আমাদের সাহসিকতা দিয়ে লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিশীল হই, তাহলে বুলেট, বোমা কোনো কিছু টিকবে না। প্রত্যেকটা ফেরত যাবে, আমাদের ছুঁতে পারবে না।
আর আমরা যদি বাঁচার জন্য পলায়নপর হই, আমরা বাঁচতে পারব না। আমরা যদি সরকারকে আকার ইঙ্গিতে সন্তুষ্ট করে বাঁচতে চাই, আমরা বাঁচতে পারব না। পালাক্রমে আমাদের জেলে যেতে হবে, নানা শাস্তি ভোগ করতে হবে। আর যদি আমরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারি, তাহলে পরাস্ত হতে বাধ্য এবং এবাউট টার্ন করতে বাধ্য। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান গয়েশ্বর।
গ্রেফতার হওয়া প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান ও দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ‘সাজোনো ষড়যন্ত্র’-এর কথা উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সরকারের সমর্থনপুষ্ট গণমাধ্যম বিএনপির বিরুদ্ধে ‘একপেশে’ সংবাদ প্রকাশেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
দখলের মধ্য দিয়ে সবই আজ দখল হয়ে গেছে। গণমাধ্যম এখন গণমাধ্যম পর্যায়ে নেই। আওয়ামী মাধ্যম না হলে গণমাধ্যমে নামটা লেখানো যায় না। অর্থাৎ সরকারের অপকর্ম  লেখা যাবে না। কোনো পত্রিকায় সরকারের বিরুদ্ধে লিখলেই সাথে সাথে যা যা করার ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে বিএনপির বিরুদ্ধে লেখা, বিএনপির সমালোচনা হয় হরহামেশা। তাই যত দোষ বিরোধী দলের। সরকারের দোষ তো লেখার ক্ষমতা গণমাধ্যমে নেই।  
মরহুম সাংবাদিক সাদেক খানের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির এই নেতা।  
সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে এই স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম সাংবাদিকের ছোট বোন সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।





 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন