ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

মোদির জয় বাংলাদেশের চিন্তার বিষয় হতে পারে

বিবিসিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান

বিবিসি বাংলা | প্রকাশের সময় : ২৫ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি যে ব্যাপক বিজয় পেয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন যে, বহু বছর ধরে উপমহাদেশে ভারতের পরিচিতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির একটি মডেল হিসেবে। তবে তিনি মনে করেন যে ভারতে পরপর দুটো নির্বাচনে বিজেপির জয় বাংলাদেশের সেক্যুলার রাজনীতি যারা করতে চায়, তাদেরকে চিন্তায় ফেলবে।
অধ্যাপক জাহানের মতে, বাংলাদেশ সরকার চাইবে ভারত সরকারের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার। কিন্তু ভবিষ্যতে সে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সেটি নির্ভর করছে বিজেপি সরকারের মনোভাবের উপর।
রওনক জাহান বলেন, ভারতে যদি সেক্যুলার রাজনীতি না চলে, এবং তারা যদি আমাদের চারিদিকে বিদ্বেষের রাজনীতি নির্বাচনে জেতার জন্য আরম্ভ করে দেন, তখন সরকারের পক্ষে সে জিনিসটা ম্যানেজ করা আরো অসুবিধা হবে।
হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ভারতে যেভাবে দিনকে দিন শক্তিশালী হচ্ছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের উপরে থাকবে বলে অনেকে মনে করেন। কারণ বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা ভারতের রাজ্যগুলোতে এবারের নির্বাচনে বিজেপি বেশ ভালো ফলাফল করেছে।
ভারতে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির উত্থান হলে, বাংলাদেশ সরকার চাইলেও কি ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে? - এমন এক প্রশ্নে তেমন আশংকা একেবারে উড়িয়ে দেননি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী। বাংলাদেশের সব সরকারই চাইবে যে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। তবে বাংলাদেশের সরকারকে দেশের জনগণের মনোভাবের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোন কনসেশন বা ছাঢ় পাচ্ছে না বলে মনে করেন অধ্যাপক জাহান। এ ক্ষেত্রে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের অনাগ্রহকে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তিনি মনে করেন।
সা¤প্রতিক বছরে ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে যে ৪০ লাখ মানুষ ‹অবৈধভাবে› সেখানে বসবাস করছে, যাদের বেশিরভাগ মুসলমান।
বিভিন্ন সময় বিজেপির সিনিয়র নেতারা বলেছেন যে ‹অবৈধভাবে› যারা আসামে বসবাস করছেন, তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিজেপি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে আসামের মতো ‹নাগরিকত্ব যাচাইয়ের› কাজ পশ্চিমবঙ্গেও তারা করতে আগ্রহী।
এ প্রসঙ্গে রওনক জাহান বলেন, তাদের নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য মুসলমানদের উপরে কিংবা বাঙালিদের উপরে তারা যে ধরণের শ্লোগান ব্যবহার করছেন, এগুলো হলে আমাদের সাধারণ মানুষ তো খুব বিক্ষুব্ধ থাকবে। কিন্তু আমাদের সরকার তো কখনোই চাইবে না ভারতের সাথে সম্পর্ক বিরূপ হোক। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের সেন্টিমেন্টকে তো তাদের দেখতে হবে।
এ বিষয়টি বাংলাদেশে সরকারের জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। ভারতে বিজেপি যদি মুসলিম-বিরোধী কথাবার্তা জোরালো করে, তাহলে সে বিষয়টি বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Jaan Muhammed Khan ২৫ মে, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
বাংলাদেশী হিন্দুরা দেশে ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার চায় কিন্তু তারা ভারতের পক্ষে গিয়ে হিন্দুত্ব মৌলবাদী সরকার চায় এ কেমন চরিত্র? মোদ্দাকথা হলো আমি সংখ্যালঘু ভালো থাকি আর ওপাড়ের সংখ্যালঘুরা মায়ের ভোগে যাক। এইসব দ্বিচারিতা এখনই রুখে দেয়া প্রয়োজন নয়তো মুখোশধারী শয়তানগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
Total Reply(0)
Omar Faruque ২৫ মে, ২০১৯, ১:৪৯ এএম says : 0
ইসলাম বিদ্বেষী বিজেপি সরকার আবারও ক্ষমতায় মানে ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য ভয়ংকর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করতেছে। ভয়ংকর যুদ্ধ গাযওয়াতুল হিন্দ এর কড়া নড়তেছে। এটি এমন এক যুদ্ধ, যে যুদ্ধে মুমিন মুনাফিক আলাদা হয়ে যাবে। এই যুদ্ধের শুরুর দিকে মুসলিমরা প্রচুর মার খেলেও পরবর্তীতে বিজয়ী মুসলিমরা"ই হবে এবং শিকল পড়িয়ে হিন্দুস্থানের রাজাদের টেনে সিরিয়া দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
Total Reply(0)
Dipak Paul ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 1
ভারতে বিজেপি জিতলে বাংলাদেশের ক্ষতি নেই, কংগ্রেস জিতলেও নেই। উভয়েই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বন্ধু দল। কিন্তু ভারতে বিজেপি জিতলে মানে মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে অনেকের কষ্ট হয়। এই কষ্ট কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বার্থে নয়, ধর্মীয় কারনে। তাদের মুখস্ত বুলি- মোদির হাত মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত। অথচ, ভারতে ২০ কোটি মুসলমানের বাস। গোটা বাংলাদেশের চেয়েও বেশী মুসলমান ভারতে বাস করে। তারাই তো ভোট দিয়ে মোদিকে প্রধানমন্ত্রী করেছে। নাকি?
Total Reply(1)
MAHMUD ২৫ মে, ২০১৯, ২:০৮ পিএম says : 0
BANGLADESHI hindus living in good condition but INDIAN Muslims condition not so good. Day by day place to place of INDIAN Muslims are harass by INDIAN Hindus.
Arijit Dhar ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫১ এএম says : 0
এরকম প্রতিবেদন ২০১৪ তে নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার নির্বাচিত হবার পরেও বেরিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি৷ উলটে অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যা মিটেছে। বিজেপি পুরনো বিবাদ মেটায়। ২০২১ এ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে তিস্তা জলবন্টন নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে।
Total Reply(0)
Bushra Jannat Jui ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫২ এএম says : 0
ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের জয় হতে চলেছে শেষ পর্যন্ত। মোদি সরকারের গত টার্মের সব দুর্নীতি, সব ব্যর্থতা ঢেকে গেছে হিন্দুত্বের গেরুয়া চাদরে। রাফায়েল ক্রয়ে কেলেঙ্কারি, নোট বাতিল, বেকারত্বের ক্রমবৃদ্ধি, কৃষকদের আন্দোলন, নির্বাচনের প্রাকমুহূর্তে এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার- এসব কিছুই ভারতীয় জনগণের কাছে গুরুত্ব পায় নি; গুরুত্ব পেয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদ।
Total Reply(0)
MD Talha Bapari ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫২ এএম says : 0
বাংলাদেশর জনগণ নিজের দেশকে রক্ষা করার জন্য জীবন দিতে জানে! বাংলার দিকে চোখ তুলে তাকালে,চোখ উঠিয়ে ফেলাহবে,ইনশাআল্লাহ!
Total Reply(0)
Md Tanimul Islam ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫৩ এএম says : 0
মোদী জয়ী হওয়ার কারণে ভারতের উত্তর প্রদেশের মুসলমান ভয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে। হে অাল্লাহ মোদী বির্ধমী নামক .. হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষা কর।
Total Reply(0)
Md Shahin Islam ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫৫ এএম says : 0
মোদীর জয় মানে বাংলাদেশীরা মার খাওয়ার জন্য রেডি হও। মোদীর জয় মানে গো রক্ষার নামে মুসলমান পিটিয়ে মারা। মোদীর জয় মানে সীমান্তে গুলি করে মানুষ মারা।
Total Reply(0)
Fâĥmî Tiřĥab Mâŝüd ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫৭ এএম says : 0
বিজেপির বিজয় ভারত খন্ডের কারন হতে পারে....(কাশ্মীর আর ঝাড়খণ্ড দিয়েই তার শুভ সূচনা হতে পারে) আর মুসলমানদের উপর আঘাত এর চেস্টাই হবে খন্ডায়ন এর মুল কারন,,, অন্যদিকে বেশি বারাবাড়ি করলে পাকিস্তান তার আকাশ সীমায় ভারতীয় উড়ন্তযান চলাচলের উপর বাধা আরোপ করবে। সব মিলেয়ে এটা ভারতের জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত। বাংলাদেশের কিছুই হবে না।।।
Total Reply(0)
সামাউন বিন মিরাজ ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫৮ এএম says : 0
ভারত বাংলাদেশকে শুখনো মৌসুমে কখনই তিস্তার পানি দিবে না। এটা কেমন প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র? বর্ষা কালে বন্যা চলাকালীন সময় ফারাক্কা বাদ খুলে দেয় এ যেন মরার উপর খারার। গাঁ।
Total Reply(0)
Komored Komander ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
বাংলাদেশের জন্য এটি সত্যই আশংকার বিষয় কারন মোদী মুসলিম বিদ্দেশী। ভুয়া এ আর সির নামে শুধু মুসলিমদেরকেই তালিকার বাহিরে রেখেছে এবং একটা সময় তাদেরকে বাংলাদেশেই পুস করা হবে। এতে করে দু দেশের মধ্য চরম বৈরি মনোভাবের তৈরি হতে পারে। তবে এটাও ঠিক ভারত যদি বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ দিয়ে রাত্রে ভোট করিয়ে নেয়াকে সাপোর্ট করে তবে দুই কোটি মুসলিমকে বাংলাদেশে পুস করলেও শান্তির নোবেলের আশায় আমরা সাদরে তাদেরকে গ্রহন করতেও প্রস্তুত।
Total Reply(0)
Main Uddin ২৫ মে, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
এক সময় ভারতের ৭০০ বছর শাসন করেছে মুসলিমরা তখন জদি মোসলিমরা নির্যাতন করতো তাহলে কোনো দিন হিন্দুবাদীরা ভারত থাকতে পারতো না আজ তারা মোসলিমের উপর নির্যাতন করে করে তাদের লজ্জা হয়না ভারতের মোসলিমদের অপধান সব চেয়ে বেশি এটা বোজতে হবে ভারত রাস্ট্র মোসলিমের হাতে গরা ইতিহাস দেখলে বোজতে পারবে ৷ হিন্দুবাদীরা
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন