ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

আড়াই কোটি মানুষ তিনবেলা পেট ভরে খেতে পারে না -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১:৫৯ এএম

বর্তমান সরকার তথাকথিত উন্নয়নের ফাঁপড়বাজির মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে জোর করে ক্ষমতার মসনদ দখলে রেখে স্বৈরশাসন চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গোষ্ঠীশাসনতন্ত্র বা অলিগোর্কি। সরকারের রথী-মহারথীরা গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়ার নামে সব সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে জনগণকে শৃঙ্খলিত করেছে। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুণ্ঠন। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তিনবেলা পেটভরে খেতে না পরলেও সরকার উন্নয়নের দোহায় দিয়ে গরীবের পেটে লাথি মারতেই গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে, জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও), শিশু তহবিল ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøওএইচও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে ‘বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ শিরোনামে যৌথভাবে প্রণীত নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে ২ কোটি ৪২ লাখ মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে বাংলাদেশে প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। গত এক দশকে এদেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, ‘দেশে কোনো হাহাকার নেই, অভুক্ত মানুষ নেই।’
রিজভী বলেন, জনগণের টুঁটি চেপে ধরা এই সরকারের চাপাবাজ মন্ত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নে সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং ইউরোপের মতো উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে। অথচ গত মে মাসে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ‘ডাষ্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খাচ্ছে এক মধ্যবয়সী মহিলা’ এ খবরে হইচই পড়ে যায়। ঝিনাইদহে প্রধান রাস্তার পাশে থাকা ওই ডাষ্টবিনে দৌড়ে গিয়ে পচা খাবার তুলে খেতে শুরু করেন তিনি। ডাষ্টবিনের পচা এসব খাবার খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছেন ওই নারী। এমন ঘটনা রাজধানীসহ সারাদেশে এখন বিদ্যমান।
তিনি বলেন, প্রবাদ আছে-মিথ্যা বলা মহাপাপ, আর এখন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সত্য বলা মহাভয়। মিথ্যা বলা যদি কোন ‘শিল্প’ হতো তাহলে অনর্গল মিথ্যা বলা এই সরকারের মন্ত্রী-নেতারা হতেন সেই শিল্পের নায়ক-মহানায়ক। এরা তাদের রাজনৈতিক পাঠশালায় সত্য কথা বলার শিক্ষা অর্জন করেননি। জাতিসংঘের ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ প্রতিবেদন হলো চাপাবাজ সরকারের ‘উন্নয়নের বিহাইন্ড দ্যা সিন’। রাষ্ট্রকে ধনীর তোষণে পরিণত করা হচ্ছে আর তার জনগণকে ভাতের মাড় খাওয়ানো হচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ক্ষমতাসীনরা করছে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন, আর বলে বেড়াচ্ছে সেটাই নাকি জনগণের উন্নয়ন। এদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষের ঘরে খাদ্য নাই, অথচ সরকারের লোকজন ১ টাকার কাজ ১০ টাকায় দেখিয়ে ডিজিটাল লুটপাট করে দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। বাংলাদেশের ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং ১ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ ব্যয় চীন, ভারত ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি। নানা অজুহাতে মেগা প্রজেক্টগুলোর প্রকল্প ব্যয় কয়েকশ গুণ বৃদ্ধি করে মেগা চুরির সুবন্দোবস্ত করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। আর তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। প্রায় সবগুলো ফ্লাইওভারের প্রকল্প ব্যয় এভাবে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। উন্নয়নের নামে চুরির রোল মডেল হচ্ছে বর্তমান আওয়ামী সরকার।
বিগত দিনে বিএনপি সরকারের উদাহরণ দিয়ে রিজভী বলেন, এদেশের জনগণ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়ার সূবর্ণ শাসন আমলের কথা। এখনও যে প্রবাদটি চালু আছে তা’হলো জিয়ার আমলে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাতে পারতো, আর এখন দুস্কৃতিকারীরা ঘরের ভিতর ঢুকে মানুষ খুন করছে। বিএনপি শাসনামলের ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে গোল্ডম্যান স্যাকস বাংলাদেশকে ‘নেক্সট ইলেভেন’ উন্নয়নশীল দেশভুক্ত করেছে, আর বিশ্বখ্যাত বিদেশী পত্রিকা বাংলাদেশকে ইমার্জিং টাইগার আখ্যা দিয়েছিল। সা¤প্রতিককালের মিডিয়াতে বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জিডিপির হিসেবের যে ইংগিত দিয়েছে তা সরকারের দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুভংকরের ফাঁকি হলো আয় বৈষম্য বেড়েই চলেছে। উন্নয়নের সুফল সরকারের কিছু অনুগ্রহপুষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কুক্ষিগত হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তের অবস্থা আরো শোচনীয় হচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন