ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

থেমে নেই গণপিটুনি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

 সারাদেশে ছেলেধরা সন্দেহে উদ্বেগজনকহারে বেড়ে গেছে গণপিটুনি। তবে কোনো ধরনের গুজবে কান দিয়ে ফৌজদারি কাজে নিজেকে যেনো না জড়ান, সেজন্যে পুলিশের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশের সর্তকতা ও প্রচারণার পরেও গতকাল দেশের কয়েকটি জেলায় ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক দিনের গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩১জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন। গতকাল রাজধানীর পল্টন, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করে সংগঠনটি।

গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও তাদের প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে ‘প্রতিবন্ধী নাগরিক ঐক্য’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অরাজনৈতিক সংস্থার নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, থানা পুলিশের এলাকাভিত্তিক টহল জোরদার করা হয়েছে। সঙ্গে গোয়েন্দাদের সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তারপরও জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। কাউকে সন্দেহ হলে থানা পুলিশকে ডাকুন। পুলিশের ৯৯৯ নম্বর ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। এ ধরনের কিছু জানলে এই নম্বরে জানান। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে যাবে। জনগণ নিজের হাতে যেনো আইন তুলে না নেন, সেই অনুরোধ আবারো করছি।

সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, ছেলেধরা সন্দেহে আলম (৩৫) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া দারুল কোরআন কওমী মাদরাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে পৌর এলাকার গয়লা বটতলা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, ভোরের দিকে গণপিটুনির শিকার আলম মাদরাসার জানালা দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে ভয়ে চিৎকার দেয়। এসময় স্থানীয়দের সহায়তায় ছাত্ররা ওই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলমকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এসআই এম. হাসান মাহমুদ জুয়েল জানান, এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফিজুর রহমান, পাইকপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমান, আয়নাল হক ও আব্দুল আওয়াল নামে ৪জনকে আটক করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, গত রোববার কালিহাতীর সয়া এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে মিনু মিয়াকে (৩০) গণপিটুনির মামলায় গতকাল ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ। দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আটককৃতদের হাজির করে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিকুল ইসলম জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার মিনু মিয়ার ভাই রাজিব হোসেন বাদি হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ৬জনকে আটক করে। তারা হলো, কালিহাতী উপজেলার নাগা চৌধুরী বাড়ি এলাকার মৃত তরিকুল আলমের ছেলে মো. মইনুল হক (৩৭), একই গ্রামের সন্তোষ চন্দ্র মালুর ছেলে প্রভাত চন্দ্র মালু (১৯), আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. শিশির আহমেদ (৩২), মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান (৪৭), আনোয়ার হোসেনের ছেলে ওমর ফারুক (৩২), পালিমা গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে মো. আলমিন ইসলাম (১৯)।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের উলিপুরে ছেলে ধরা সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার রাতে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজারে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম ঠিকানা জানতে চাইলে সে তার নাম বাবু এবং বাড়ী বাস টার্মিনাল এছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে অপরিচিত ওই ব্যক্তি উপজেলার বুড়াবুড়ি বাজারে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এতে লোকজনের সন্দেহ হলে পিটুনি দিয়ে তাকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আটক বাবু মিয়া (২৯) মানষিক ভারসাম্যহীন। মঙ্গলবার দুপুরে তার মা জয়গুন বেওয়া থানায় আসলে তার জিম্মায় বাবু মিয়াকে দেয়া হয়।

কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছেলেধরা সন্দেহে হাসিনা বেগম (৬০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে গণপিটুনির ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের শিতলাইপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দৌলতপুর থানার ওসি আজম খান জানান, সোমবার সকালে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বাড়ি থেকে বের হয়ে শিতলাইপাড়া গ্রামে গেলে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় ওই নারীর জামাতা আশিকুল ইসলাম রনি বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীকে (৩৫) গ্রামবাসীরা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের জয়বাংলা বাজারে ঘুরতে দেখে তাকে আটক করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীরা। পড়ে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদ জানান, গ্রামবাসীদের হাতে আটক নারীকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। সে নাম পরিচয় সঠিকভাবে কথা বলতেও পারছে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
তানিয়া ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১০:১৮ এএম says : 0
প্রশাসনকে আর বেশি বেশি তৎপরতা চালাতে হবে।
Total Reply(0)
বিদ্যুৎ মিয়া ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১০:১৯ এএম says : 0
গণপিটুনি নয় অপরাধী সন্দেহ হলে তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিন।
Total Reply(0)
কামরুজ্জামান ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১০:২২ এএম says : 0
কোন মানুষকে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। অপরাধী হলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিন।
Total Reply(0)
আবদুল কাদের ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১০:২২ এএম says : 0
মানুষ কিভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে ??????????????????????
Total Reply(0)
ইমরান ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১০:২৩ এএম says : 0
গণপিটুনী একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। আসুন সবাই এই ব্যাপারে সচেতন হই
Total Reply(0)
জামিল ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১০:২৫ এএম says : 0
পুলিশের এলাকাভিত্তিক টহল জোরদার করতে হবে। সঙ্গে গোয়েন্দাদের সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপশি জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন