সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ১৪ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

ইসলামী বিশ্ব

সউদী শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিষদে সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন

২০২০ সাল নাগাদ আমরা তেল ছাড়াই চলতে পারব : ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান

প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

প্রস্তাব অনুযায়ী প্রবাসীদের আয়ের ওপর ৬ ভাগ হারে কর বসবে
ইনকিলাব ডেস্ক : তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভিশন ২০৩০ নামে ঐতিহাসিক এক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সউদী আরবের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিষদ। গতকাল সোমবারই পরিকল্পনাটি মন্ত্রিসভায়ও অনুমোদন হওয়ার কথা। সউদী আরবের বাদশাহ সালমানের পুত্র এবং ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এই অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। রাজস্বের ৮০ শতাংশ তেল থেকে আসলেও সম্প্রতি তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় ব্যাপক বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে তেল সম্পদে সমৃদ্ধ বিশ্বের অন্যতম ধনী এই দেশটি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যই নতুন এই সংস্কার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সউদী আরবের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকোর কিছু অংশকে বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে একটি সার্বভৌম বিনিয়োগ তহবিল তৈরি করা তার পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তার সংস্কার পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে আমরা তেল ছাড়াই চলতে পারব। প্রিন্স মোহাম্মদের সংস্কার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, সউদী আরবের মালিকানাধীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি আরামকোর শেয়ার ৫ শতাংশ বিক্রি করে একটি সার্বভৌম বিনিয়োগ তহবিল গঠন করা। সব মিলিয়ে এই তহবিলের আকার দাঁড়াতে পারে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিদেশী মুসলিম এবং আরবরা যেন সউদী আরবে দীর্ঘসময় অবস্থান করে চাকরি করতে পারেন, সেজন্য একটি নতুন ভিসা পদ্ধতি চালুও এই সংস্কার পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে খনিজ উত্তোলন এবং সামরিক পণ্য উৎপাদন ও রফতানির ওপর জোর দেয়া হয়েছে সংস্কার পরিকল্পনায়। তবে বর্তমানে সস্তা তেলের যুগে এই সংস্কার কর্মসূচি কতখানি বাস্তবসম্মতÑ এ প্রশ্নের জবাবে যুবরাজ বলেন, তেলের দাম যাই হোক না কেন সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সংস্কার বাস্তবায়নে বিলাস পণ্য আমদানির ওপর উচ্চশুল্ক আরোপের কথা বলেছেন তিনি। তবে যুবরাজ আশ্বস্ত করেছেন, এই সংস্কার কর্মসূচির আওতায় দেশের দরিদ্র নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। প্রিন্স মোহাম্মদ একই সঙ্গে সউদী আরবের সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
খবরে বলা হয়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর ৬ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সউদী আরবের শুরা কাউন্সিল। এতে প্রথম বছরে ছয় শতাংশ থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ৫ম বছরের মাথায় স্থায়ীভাবে ২ শতাংশ করে কর আদায়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া কর আদায়ে ব্যর্থ হলে জরিমানার কথাও বলা হয়েছে। এ কর প্রস্তাবনার খসড়া প্রস্তুত করেছেন সউদী আরবের সাধারণ হিসাবরক্ষণ ব্যুরোর প্রধান ও সাবেক শুরা সদস্য হোশাম আল আনকারি। তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের অর্থ সউদী আরবে ব্যয়ে বা বিনিয়োগে বাধ্য করতে এটা একটি উপায় হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কর আদায় করা হবে প্রবাসীদের সব ধরনের অর্থ স্থানান্তরের ওপর থেকে। এটি আদায় করবে দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠিয়ে থাকে। পরে আদায়কৃত এ অর্থ সরকারি একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া হবে। এছাড়া প্রবাসীদের যে কোনো সময় দেশে টাকা পাঠানোর পরিমাণ সীমিত করা হবে। প্রবাসীরা দেশ ছাড়ার সময় যা কিছু বাইরে পাঠাতে পারত, তাও সীমিত করা হবে। প্রবাসীদের আয়ের মেয়াদ গণনা করে দেশে টাকা পাঠানোর অনুমতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে এ প্রস্তাবনায়।
অন্যদিকে, কর ফাঁকি এড়াতে বেশকিছু পদক্ষেপের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। যারা এসব শর্ত মানতে ব্যর্থ হবে, তাদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার কর ফাঁকির জন্য সমান জরিমানা ধার্য করা হবে এবং তা পুনরায় লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা দ্বিগুণ করা হবে। এছাড়া সউদী নাগরিকরা প্রবাসী শ্রমিকদের পক্ষে বেতন অথবা টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে ভুয়া তথ্য দিলে তাদেরও জরিমানা করা হবে। সউদির আর্থিক কমিটি বলছে, প্রবাসীদের কাছ থেকে অবশ্যই কর আদায় করতে হবে। যাতে করে দেশ বেশি বেশি আয় করতে পারে। কমিটির বিবৃতি অনুয়ায়ী দেশটিতে ২০০৫ সালে বার্ষিক রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ৫৬ বিলিয়ন রিয়েল। এ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪ সালে ১৩৫ বিলিয়ন রিয়েলে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স, আরব নিউজ, আল আরাবিয়া।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন