ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

যানজটে রাজধানী স্থবির দখলমুক্ত হয়নি ফুটপাত

প্রকাশের সময় : ৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্ভোগ দিয়েই শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস। রমজানের শুরুতে রাজধানীবাসীকে নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে এক মাসের সিয়াম সাধনা শুরু করতে হলো। একদিকে তীব্র যানজট, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নেই নিরাপত্তা। আছে চুরি, ছিনতাই ও মলমপার্টির উৎপাত। ঘরে-বাইরে কোথাও মানুষ নিরাপদ নয়, এমন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন নগরবাসী। তারা বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি মেয়র ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের কোনো আদেশ-নির্দেশই বাস্তবায়িত হয়নি। রাজধানীর যানজট নিরসন, ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণÑকোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রমজান মাস শুরুর আগ থেকেই নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিটি করপোরেশন ও পুলিশ দফায় দফায় বৈঠক করলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। এ অভিযোগ নগরবাসীর। তারা বলছেন, রমজানের শুরুতেই যানজটের কারণে গতকাল রাজধানী ছিল স্থবির। ফুটপাত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের দখলে থাকায় এবং বৃষ্টির পানি রাস্তায় আটকা থাকার কারণে গতকাল দিনভর চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। এছাড়া হঠাৎ করে রাতারাতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতেও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল নগরীর যানজটের চিত্র ছিল ভয়াবহ। উত্তরা থেকে বনানী, বনানী থেকে মহাখালী-তেজগাঁও, গাবতলী থেকে মিরপুর-ফার্মগেট, ধানমন্ডি থেকে শাহবাগ মোড় হয়ে গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী থেকে সায়েদাবাদ হয়ে মতিঝিল, পল্টন, মগবাজার, মালিবাগ এবং গুলশান-বনানীসহ পুরো মহানগরী যানজটের কারণে স্থবির ছিল। দুর্ভোগের শিকার নগরবাসীদের কেউ কেউ এ দুর্ভোগের জন্য সরাসরি ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনকে দায়ী করেছেন।
‘তীব্র যানজট। গাড়ি সামনে এগুচ্ছে না। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। রাস্তায় পানি জমে আছে। ফুটপাত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের দখলে। পায়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে অসহায় অবস্থায় টানা প্রায় ৪ ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় বনানী থেকে বাসে ওঠার পর মতিঝিল আসতে আসতে প্রায় দেড়টা। প্রায় ৪ ঘণ্টা রাস্তায় আটকে পড়ে থাকতে হয়েছে। কাজকর্ম সব ভেস্তে গেল। রমজান মাসে পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম গতকাল এভাবে তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। তিনি টানা সাড়ে ৪ ঘণ্টা রাস্তার যানজটে আটকে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, উত্তরা থেকে প্রতিদিনই মতিঝিলে আসতে হয়। কিন্ত গতকাল সোমবার যেন রাজধানীতে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে যায়। ফলে অফিসও করতে পারিনি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, রাজধানীতে পথচারীদের চলাচল সহজ করে যানজট কমাতে পর্যায়ক্রমে ফুটপাতগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীর ফুটপাতগুলোর প্রায় সবই ভ্রাম্যমাণ দোকানি কিংবা পাশের দোকানগুলোর সামগ্রী রেখে দখল করে রাখা। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চললেও কিছুদিন পরই আবার বেদখল হয়ে যায় ফুটপাতগুলো। ফুটপাত বেদখল হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি দোকান ঘিরে ভিড় এবং সড়কে পথচারীদের চলাচলে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। এছাড়া এসব অবৈধ দোকানপাট যানচলাচলে বিঘœ ঘটানোর পাশাপাশি চোর, ছিনতাইকারী, পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির দুর্বৃত্তদের আখড়া হয়ে ওঠে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে আবদুল্লাহপুর এবং গুলশান, বারিধারা ও কুড়িল-বাড্ডা এলাকায় দিনভর যানজট ছিল। সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা এবং দুপুর ২টার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটে হাজার হাজার যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়ে ছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, উত্তর জোনের ডিসি (ট্রাফিক) প্রবীর কুমার বলেন, গুলশান এলাকারয় সকল রাস্তা কাটা। রাস্তা কাটার কারণে যানবাহ চলাচলে বিঘœ ঘটছে। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণেও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডিসি প্রবীর কুমার আরো বলেন, রমজান মাসের প্রথম দিনের কেনাকাটার জন্য সবাই গতকাল বের হয়। এ কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বলে খ্যাত গুলশান, বনানী এবং বারিধারা কূটনৈতিক এলাকা। আবাসিক জনসাধারণের বাইরেও প্রতিদিন এখানে কয়েক লাখ মানুষ বিভিন্ন অফিসে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন। কিন্ত যানজটের কারণে এলাকাবাসীকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গতকাল সকাল থেকেই ওই এলাকায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যাজট। রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে আরো বাড়তি ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এছাড়া ওই এলাকার সকল ফুটপাত রয়েছে হকার ও ক্ষুদ্র দোকানীদের দখলে। ফলে পথচারী ও যানবাহন নিয়ে চলাচলকারী সবাইকে রাস্তায় আটকা পড়তে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
বনানীর বাণিজ্যিক এলাকা বলে পরিচিত ১১ নম্বর রোডে প্রতিদিন তীব্র জানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কারণে-অকারণে এখানে হঠাৎ জ্যাম লেগে যায়। বনানী থেকে গুলশান যাওয়ার জন্য কেউ ১১ নম্বর রোড ব্যবহার করতে চাইলে তাকে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত ছেড়ে দিতে হয় ভাগ্যের ওপর।
রাজধানীর অভিজাত এলাকাখ্যাত বনানীতে অনেক বিদেশী কূটনীতিক ও অভিজাত শ্রেণীর লোক বাস করেন। বেশ কয়েকটি দূতাবাসও রয়েছে এখানে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সুষ্ঠু-সুন্দর জীবন ধারণের নিশ্চয়তা অনেকটা হুমকির মুখে। বনানী ৮নং রোডে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে আসে। এর একমাত্র কারণ পানি সরবরাহের লাইনগুলো সচল না থাকা। উপরন্তু বনানীতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক না থাকায় রোডের গাড়িগুলো নিজেদের ইচ্ছামত চলে। রিক্সাজট আরও জটিল আকার ধারণ করছে প্রতিদিনই। ফলে অসহনীয় জানাজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় নিত্য যাত্রীদের।
ট্রফিক পুলিশের পশ্চিম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রমজানে প্রতিবছরই যানজট একটু বৃদ্ধি পায়। তবে এবার আমরা এ ব্যাপারে তৎপর আছি। গতকাল বৃষ্টির কারণে যখন রাস্তায় পানি জমে তখন যানবাহন চলাচলে কিছুটা ধীর গতি ছিল। একারণে কিছুটা যানজটে পড়তে হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
গতকাল সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মিরপুর থেকে ফার্মগেট এবং শ্যামলী, কলাণ্যপুর, ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেট এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে হাজার হাজার মানুষকে দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন