ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

এই সরকারের দায়বদ্ধতা নেই

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের দ্বারা, জনগনের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সে কারণেই বর্তমান সরকার দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ও আইন কাঠামোর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে চলেছে। সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে সকল অনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এদেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় নেতা এদেশের আশা আকাঙ্খর প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতিক। তিনি বাইরে থাকলে শাসক গোষ্ঠী আওয়ামীলীগ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি খুবই অসুস্থ চিকিৎসার জন্য তাকে কেবিন থেকে আরেকটি ব্লকে হুইল চেয়ারে নিয়ে যেতে হয়। মানবিক কারনে এসব মামলায় জামিন দেয়া হয়। এ সরকার অমানবিক এবং বেআইনি কাজ কর্মে অভ্যস্ত।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্য খন্ডন করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে তাঁকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি অন্যায় করেননি, কোনো অপরাধ করেননি, নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সরকার ক্ষমতার জোরে তাকে বন্দি করে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন সরকার ও শাসকদের করায়ত্ত, তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বুধবার সকালে কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, ফয়গাম আলী, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনান, যুবদল সভাপতি চৌধুরী আবু নুর, যুবদল নেতা আবু তাহের দুলালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ও টানপোড়েনের প্রভাব সাম্প্রতিক চামড়া বাজারের বিপর্যয়ের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুুষ কুরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই তা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। এটা দেশের বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতি যার দীর্ঘস্থায়ী বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে আমাদের লেদার শিল্পের ওপর। তিনি এজন্য সরকারকে দায়ি করে বলেন, সরকারের পূর্ব পরিকল্পনার অভাব, চামড়া ব্যবসায়িদের চামড়া কেনার জন্য সুবিধাজনক ঋণ প্রদানে অনীহা এসব কারণেই এ নজিরবিহীন নৈরাজ্য ঘটেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, খামারি, চামড়া ক্রেতা এমন কি চামড়া ব্যবসায়িরাও।

তিনি আরো বলেন, তথাকথিত মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি বেশি দেখিয়ে সরকার দাবি করছে তারা উন্নয়নের রোল মডেল, বিরাট একটা উন্নয়ন করে ফেলেছেন, কিন্তু তাদের সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদরা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, এসব আসলে আরেকটি গণপ্রতারণা। আজ ব্যাংক সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ টাকা তুলতে গেলে টাকা পায়না, সরকার টাকা নিয়ে ব্যাংককে ফেরত দেয়না ,আমানতকারিদের কাছ থেকে টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে আবার অন্যদিকে সরকারি খরচ বাড়ানো হচ্ছে, যা আসছে জনগণের ট্যাক্স থেকে। আগে একটা পরিবার থেকে একটা ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে একজন থাকতে পারতেন, এখন সেখানে একই পরিবারের ৪ জন থাকার নিয়ম করা হয়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের কাছে চলে যাচ্ছে জনগণের সমস্ত টাকা। আর এর মাধ্যমে দেশে আভ্যন্তরিণ বিনিয়োগ কমিয়ে বিদেশের বাজারে পরিণত করা হচ্ছে দেশকে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কাশ্মির সমস্যা সম্প্রতি মাথাচারা দিয়ে উঠলেও এটি অনেক পুরনো সমস্যা। এটি মূলতঃ ভারত আর পাকিস্তানের সমস্যা হলেও কাশ্মিরের জনগণ যে নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত এটাকে আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে দু’টি কথা লেখা আছে , একটি হলো অন্য দেশের অভ্যন্তরিণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা ও কোনো নির্যাতিত জাতি যদি আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য লড়াই করে তবে সেটাকে সমর্থন করা। এ প্রেক্ষাপটে কাশ্মির ইস্যুতে কাশ্মিরের জনসাধারণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি সকলকে সংযত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া বা এমন কোনো উষ্কানি দেয়া উচিৎ নয় যাতে করে কাশ্মিরের জনগণের ওপর আরো নির্যাতন নেমে আসবে অথবা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার বিঘ্ন ঘটবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন